অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে ঢাকা ওয়াসা প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি স্থাপন প্রকল্প অনুমোদন করে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ৭২১ কোটি টাকা, যার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৫৭১ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তটি ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নেওয়া হয়, যা ১২ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়েছিল।
ঢাকা ওয়াসা ইতিমধ্যে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার ঋণে জর্জরিত। এই বিশাল ঋণভার সত্ত্বেও সংস্থা নতুন ঋণ-নির্ভর প্রকল্পে হাত বাড়িয়ে নিয়েছে, যা সরকারের আর্থিক ঘাটতির মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
প্রকল্পটি ঢাকা ওয়াসার কর্মী ও পার্শ্ববর্তী দেশের সমমানের সংস্থার কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও গবেষণার জন্য পরিকল্পিত। মোট ব্যয়ের মধ্যে ঋণ অংশ ৫৭১ কোটি টাকা, যা দক্ষিণ কোরিয়া থেকে গৃহীত হবে, বাকি অংশ সরকারী তহবিল থেকে সরবরাহ করা হবে।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ২৩ ডিসেম্বর এই প্রকল্পকে অনুমোদন করে। অনুমোদনের আগে তফসিল ঘোষণার পর বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্পের তালিকা প্রস্তুত করা হয়, যার মধ্যে রোড, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং বন্দর সংক্রান্ত প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত।
অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছরে মোট ১৩৫টি নতুন প্রকল্প অনুমোদন করেছে, যার সম্মিলিত ব্যয় প্রায় ২,০৩,০০০ কোটি টাকা। এই প্রকল্পগুলো বিভিন্ন সেক্টরে বিতরণ করা হয়েছে, তবে চট্টগ্রাম জেলায় সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলায় অধিক বরাদ্দের পেছনে মূল কারণ হিসেবে পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার ঘাটতি এবং রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য চট্টগ্রাম বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া উল্লেখ করা হয়েছে। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের মতে, ঢাকা শহরের তুলনায় চট্টগ্রামের মৌলিক সেবার মান কম, তাই অতিরিক্ত তহবিলের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
বিপরীতে, দেশের ২১টি জেলায় কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়নি। এই জেলাগুলোকে এখনো কোনো কেন্দ্রিক উন্নয়নমূলক কাজের আওতায় আনা হয়নি, যা স্থানীয় প্রশাসন ও নাগরিকদের মধ্যে প্রশ্ন তুলেছে।
প্রকল্প অনুমোদনের সময় সরকারী রাজস্ব ঘাটতি ও ঋণভার নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা উঠে আসে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার এই সমালোচনা উপেক্ষা করে, বিদায়বেলার আগে প্রকল্পটি অনুমোদন করে, যা কিছু বিশ্লেষকের মতে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির অংশ হতে পারে।
নতুন অবকাঠামো প্রকল্পের অনুমোদন, বিশেষ করে রোড ও গ্রামীণ উন্নয়ন সংক্রান্ত, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর দ্রুত করা হয়েছে। কিছু পর্যবেক্ষক উল্লেখ করেন, এই প্রকল্পগুলো নির্দিষ্ট দল বা প্রার্থীর জন্য ভোটার ভিত্তি গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে আগামী নির্বাচনে প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও তহবিলের ব্যবহার কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা এখনো অনিশ্চিত। তবে প্রকল্পের দ্রুত অনুমোদন ও ঋণ গ্রহণের পদ্ধতি আর্থিক দায়িত্বের প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ঢাকা ওয়াসা প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি প্রকল্পের বাস্তবায়ন আগামী দুই বছর মধ্যে শুরু হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগের ফলাফল ও আর্থিক প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, অন্তর্বর্তী সরকার ঋণভিত্তিক নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার চেষ্টা করছে, যদিও তা আর্থিক স্থিতিশীলতা ও ন্যায্য বরাদ্দের প্রশ্ন উত্থাপন করে। এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে কীভাবে প্রতিফলিত হবে, তা সময়ই বলবে।



