১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের দিনগুলোতে, শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় যৌথ বাহিনীর তল্লাশি ও চেকপোস্ট কার্যক্রমে মোট ২৮টি অনিবন্ধিত মোটরসাইকেল এবং একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়। এই পদক্ষেপটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে নেওয়া প্রাথমিক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
এই অভিযানটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। জেলা জুড়ে ছয়টি সংসদীয় আসন ও নয়টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করে গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে সমন্বিত করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, যৌথ বাহিনীর তল্লাশি চলাকালীন বৈধ রেজিস্ট্রেশন সনদ বা অন্য কোনো প্রমাণপত্র না থাকা মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা আটক করা হয়েছে। জব্দকৃত যানবাহনগুলোকে আইনানুগভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
বৈধ কাগজপত্রের অভাব বা রেজিস্ট্রেশন না থাকা যানবাহনগুলোকে আইনানুগভাবে জব্দ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট মালিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মালিকদেরকে নথিপত্র প্রদান না করলে, সম্পদের নিলাম সহ অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
তদুপরি, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মোট ৩১টি অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলাগুলোতে গতি সীমা অতিক্রম, অপ্রয়োজনীয় থামা এবং অননুমোদিত রাইড‑শেয়ারিং ইত্যাদি অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারintendেন্ট শাহ মো. আব্দুর রউফ উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নাশকতা রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এ ধরনের নিরাপত্তা অভিযান চালু থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নির্বাচনের পুরো সময়কালে সতর্কতা বজায় রাখবে।
জব্দকৃত যানবাহনের মালিকদেরকে আইনানুগ নোটিশ পাঠিয়ে যথাযথ প্রমাণাদি প্রদান না করলে, সংশ্লিষ্ট সম্পদ জব্দের পর নিলাম বা অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এধরনের সমন্বিত নিরাপত্তা অভিযান পূর্বে নির্বাচনী সময়কালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিচালিত হয়েছে, যেখানে অবৈধ পরিবহন ও অযথা গতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
জব্দকৃত মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা বর্তমানে জেলা পুলিশের লক‑আপে সংরক্ষিত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আদালতের আদেশ অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযান চলাকালীন কোনো শারীরিক ক্ষতি বা আহতের ঘটনা রিপোর্ট করা হয়নি, এবং স্থানীয় জনগণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় নির্বাচনের পূর্বে এই ধরনের তল্লাশি ও চেকপোস্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে অবৈধ যানবাহন ও ট্রাফিক লঙ্ঘনকারীকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে স্বচ্ছ ও নিরাপদ রাখতে সহায়তা করে।
অধিকন্তু, নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে যে, নির্বাচনী সময়কালে অননুমোদিত যানবাহন ব্যবহারের ওপর নজরদারি বাড়িয়ে চলবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ দ্রুত কার্যকর করা হবে।
নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে। এই নির্দেশনার ভিত্তিতে যৌথ বাহিনী তল্লাশি ও চেকপোস্ট কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
জব্দকৃত যানবাহনের মালিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ৩১টি ট্রাফিক অপরাধের মামলা সংশ্লিষ্ট থানা আদালতে শোনার জন্য নির্ধারিত হয়েছে। আদালতের রায় অনুযায়ী শাস্তি আরোপিত হবে।
অভিযানের পর স্থানীয় মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে অবৈধ যানবাহন ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্কতা প্রচার করা হয়েছে। জনগণকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নির্বাচনের শেষ দিন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি ও চেকপোস্ট কার্যক্রম চালু থাকবে বলে সূত্র জানায়। এই ধারাবাহিকতা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যানবাহনগুলো যথাযথ রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করে, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পন্ন হলে, আদালতের অনুমোদন পেলে নিলাম করা হবে। ফলে অবৈধ সম্পদ থেকে সৃষ্ট ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হবে।



