জাপানের পার্লামেন্টের আগাম নির্বাচনে আজ ভোটদান চলছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী সানা তাকাইচি নেতৃত্বাধীন রক্ষণশীল জোটের বড় জয়ের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। ভোটের ফলাফল নতুন ম্যান্ডেটের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, কঠোর অভিবাসন নীতি এবং অন্যান্য উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ভিত্তি গড়ে তুলবে।
সানা তাকাইচি, ৬৪ বছর বয়সী, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী, গত অক্টোবর এলডিপি (লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি) এর নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর সরকার পরিচালনা করছেন। তার “কাজ, কাজ, কাজ” স্লোগান তরুণ ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এবং তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, যদি এলডিপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায় তবে তিনি পদত্যাগ করবেন।
জনমত জরিপের মতে, তাকাইচি নেতৃত্বের লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও জাপান ইনোভেশন পার্টি (ইশিন) সমন্বিত জোট পার্লামেন্টের ৪৬৫ আসনের মধ্যে ৩০০টিরও বেশি জিততে পারে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো নতুন একটি মধ্যপন্থী জোট গঠন করলেও কট্টর ডানপন্থী গোষ্ঠীর উত্থান সত্ত্বেও কার্যকর চ্যালেঞ্জ গড়ে তুলতে পারছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রবিবার ২৮৯টি একক-আসনে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবে, বাকি আসনগুলো দলীয় অনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। এই পদ্ধতি ভোটারদের সরাসরি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি পার্টিগুলোর সমগ্র ভোটের অংশের ভিত্তিতে অতিরিক্ত আসন প্রদান করে।
এই নির্বাচনের প্রধান বিষয়বস্তু হিসেবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক মাসে মুদ্রাস্ফীতি বাড়লেও বাস্তব মজুরি একই হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে না, ফলে সাধারণ নাগরিকদের আর্থিক চাপ বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে জাপান ধীরগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সমস্যায় ভুগছে; আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশের জিডিপি মাত্র ১.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২০২৬ সালে এই হার ০.৭ শতাংশে নেমে আসতে পারে।
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে তাকাইচি সরকার খাদ্যপণ্যের ওপর আট শতাংশ বিক্রয়কর দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই পদক্ষেপের আগে, কোভিড-১৯ মহামারির পর সরকার ২১.৩ ট্রিলিয়ন ইয়েন মূল্যের বৃহত্তম প্রণোদনা প্যাকেজ অনুমোদন করে, যেখানে জ্বালানি বিল ভর্তুকি, নগদ সহায়তা এবং খাদ্য ভাউচারের মতো ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বিরোধী দলগুলোর দৃষ্টিকোণ থেকে, নতুন গঠিত মধ্যপন্থী জোটের লক্ষ্য সরকারী নীতিগুলোকে সমালোচনা করা এবং বিকল্প অর্থনৈতিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করা। তবে তারা স্বীকার করে যে, ডানপন্থী গোষ্ঠীর উত্থান ও ভোটারদের মধ্যে বিভাজন তাদের জন্য একসাথে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ গঠন করা কঠিন করে তুলছে।
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে রক্ষণশীল জোটের সম্ভাব্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা পার্লামেন্টে নীতি নির্ধারণের ক্ষমতা বাড়াবে, বিশেষত প্রতিরক্ষা বাজেট এবং অভিবাসন নীতি সংশোধনে। একই সঙ্গে, যদি জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না হয়, তবে তাকাইচি পদত্যাগের সম্ভাবনা রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে এবং নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে।
অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, ভোটের ফলাফল জাপানের দীর্ঘমেয়াদী বৃদ্ধির কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিক্রয়কর স্থগিতের মতো নীতি যদি কার্যকর হয়, তবে তা ভোক্তা ব্যয়ের পুনরুজ্জীবনে সহায়তা করতে পারে, তবে একই সঙ্গে সরকারি আয় হ্রাসের ঝুঁকি রয়েছে।
এই নির্বাচনের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, জোট যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, তবে তারা দ্রুত নতুন বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করবে এবং কংগ্রেসে তা পাস করার চেষ্টা করবে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো যদি পর্যাপ্ত আসন পায়, তবে তারা সরকারকে তত্ত্বাবধানের জন্য কমিটি গঠন এবং নীতি সমালোচনার মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, জাপানের এই আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনর্গঠন করার সম্ভাবনা রাখে। ভোটের ফলাফল নির্ধারণ করবে যে, রক্ষণশীল জোটের নীতি ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে নাকি নতুন রাজনৈতিক শক্তি গঠন হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



