ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার আগ্নি দেব চোপড়া সম্পর্কে পিএসএল (পাকিস্তান সুপার লিগ) নিলামে নাম নিবন্ধনের খবর ছড়িয়ে পড়ে, যা পরে সামাজিক মাধ্যমে বিশাল আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। বাস্তবে, খেলোয়াড়ই নিজে ইনস্টাগ্রাম স্টোরি দিয়ে জানিয়েছেন যে তিনি কোনোভাবে নিলামে অংশগ্রহণ করেননি এবং এই ভুল তথ্যের ব্যাপারে স্পষ্ট করে বলছেন।
আগ্নি দেব চোপড়া হলেন ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার বিধু বিনোদ চোপড়া ও সাংবাদিক, চলচ্চিত্র সমালোচক আনুপামা চোপড়ার পুত্র। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়িট শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট নিয়ে বড় হয়েছেন, ফলে বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে তার পরিচয় গড়ে উঠেছে।
অনলাইন তালিকায় তার নাম যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটার হিসেবে ৬ লক্ষ রুপির ভিত্তিমূল্যের ক্যাটেগরিতে দেখা গিয়েছিল, যা ভুয়া খবরের মূল সূত্র হিসেবে কাজ করে। তালিকায় তার উপস্থিতি দেখে ভক্ত ও বিশ্লেষকরা দ্রুতই অনুমান করেন যে তিনি পিএসএলে অংশ নিতে চান। এই অনুমানই সামাজিক মাধ্যমে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়।
সামাজিক নেটওয়ার্কে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর, ২৭ বছর বয়সী আগ্নি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও পোস্ট করে স্পষ্ট করেন যে তিনি পিএসএল নিলামে কোনো রেজিস্ট্রেশন করেননি। তিনি বলেন, তার প্রধান লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে নিজের ক্রিকেটের পথ গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদে সেখানেই ক্যারিয়ার গড়া।
খেলোয়াড়ের এই মন্তব্যের পর, তার মা আনুপামা চোপড়া এক্স-প্রোফাইলে পোস্টটি শেয়ার করেন, যাতে গুজবের বিস্তার রোধ হয় এবং ভক্তদের সঠিক তথ্য পৌঁছায়। উভয়েরই লক্ষ্য ছিল ভুল তথ্যের শিকার না হওয়া এবং সত্যিকারের তথ্যের ভিত্তিতে সমর্থন পাওয়া।
অন্যদিকে, আগ্নি ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে মিজোরাম দলের হয়ে খেলে আসছেন। তিনি ২০২৩ সালে প্রথম টুর্নামেন্টে অংশ নেন এবং একই বছরই ট্রফি ম্যাচে তার নাম তালিকায় আসে। এরপর ২০২৪ সালে রাঞ্জি ট্রফিতে ডেবিউ করে তিনি প্রথম ইনিংসে ১৭৯ রান করেন, যেখানে সাতটি ছক্কা এবং ১৬৬ বলের মধ্যে ৭৯টি শটের মাধ্যমে স্কোর তৈরি করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি অতিরিক্ত ৯২ রান যোগ করেন।
এই ডেবিউ পারফরম্যান্সের পর, আগ্নি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে সেঞ্চুরি তৈরি করে ইতিহাস রচনা করেন। তিনি প্রথম চারটি ম্যাচেই সেঞ্চুরি করেন, যা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আগে কেউ করেনি। তার ধারাবাহিকতা রাঞ্জি প্লেট গ্রুপে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যেখানে তিনি ৭৯৩ রান সংগ্রহ করেন এবং গড় ৭৮.২৫ বজায় রাখেন।
রাঞ্জি প্লেট গ্রুপে তার অসামান্য পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি মাধবরাও সিন্ধিয়া অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন, যা তরুণ ক্রিকেটারদের মধ্যে উৎকর্ষতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সম্মান তার ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে দাঁড়ায়।
মোট ১১টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে আগ্নি ৯টি সেঞ্চুরি এবং ৫টি পঞ্চাশের পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। তার সর্বোচ্চ স্কোর ২৩৮* (অপরাজিত) এবং মোট রান ১,৮০৪, যার গড় ৯৪.৯৪ এবং স্ট্রাইক রেট ৯৫.১৪। এই পরিসংখ্যানগুলো তাকে দেশের অন্যতম উজ্জ্বল ব্যাটসম্যানের তালিকায় স্থান দেয়।
যদিও প্লেট গ্রুপের দলগুলো তুলনামূলকভাবে দুর্বল হিসেবে বিবেচিত, তবু আগ্নির ধারাবাহিক উচ্চ স্কোর এবং দ্রুত গতি তাকে আলাদা করে তুলেছে। তার পারফরম্যান্স শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, মিজোরাম দলের সামগ্রিক শক্তি বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভবিষ্যতে আগ্নি যুক্তরাষ্ট্রে নিজের ক্রিকেটের পথকে অগ্রাধিকার দিয়ে চলার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের নাম গড়ে তোলার জন্য প্রথমে নিজের দেশের বাইরে সুযোগ খোঁজা প্রয়োজন। এদিকে, তার ঘরোয়া ক্রিকেটে অর্জিত সাফল্য এবং রেকর্ডগুলো তাকে ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত করে তুলবে।



