একটি রাজনৈতিক সমাবেশে নির্বাচনী প্রার্থী তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন, যেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে মূলমন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে তিনি ভোটারদের কাছে পরিষ্কার ও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত, এবং তার লক্ষ্য হল দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করা।
প্রার্থী তার পূর্বের সহকর্মী ও অন্যান্য প্রার্থীদের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রকাশ করেছেন, বলেন যে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে সকল প্রার্থীকে সমান মর্যাদা দেওয়া উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলছেন, প্রত্যেক প্রার্থীকে সমান সুযোগ ও সমর্থন পেলে ভোটারদের কাছে আরও বৈচিত্র্যময় বিকল্প উপস্থিত হবে।
প্রার্থীর মতে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গুণগত মান বাড়াতে হলে যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে হবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, অধিক সংখ্যক সক্ষম প্রার্থী উপস্থিত থাকলে ভোটাররা তাদের প্রয়োজন ও প্রত্যাশা অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি সকল রাজনৈতিক দলকে প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন।
নারীর রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণকে শক্তিশালী করার জন্য প্রার্থী একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, যদি নারীরা স্বাধীনভাবে ও নির্ভয়ে রাজনীতিতে অংশ নিতে পারেন, তবে দেশের উন্নয়ন ও নীতি নির্ধারণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত হবে। এ জন্য তিনি আইনগত ও সামাজিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নারী অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
শহর পরিষেবা সংস্থার জবাবদিহিতা নিয়ে প্রার্থী স্পষ্টভাবে প্রশ্ন তুলেছেন, বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশন, তিতাস ও ওয়াসা সংস্থার কার্যক্রমের প্রতি। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই সংস্থাগুলোর কাজের মান ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা জনসাধারণের নজরে আনা প্রয়োজন, যাতে সেবা প্রদানকারীরা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে।
প্রার্থী উল্লেখ করেছেন, যদি তিনি সংসদ সদস্যের পদে নির্বাচিত হন, তবে তিনি এই সংস্থাগুলোর কার্যক্রমকে সরাসরি জবাবদিহির আওতায় আনতে কাজ করবেন। তিনি বলছেন, সংসদে তার উপস্থিতি এই সংস্থাগুলোর স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হবে। এ ধরণের পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি জনসেবার গুণগত মান উন্নত করার লক্ষ্যে আছেন।
প্রার্থী ‘নো সার্ভিস, নো বিল’ নীতির ভিত্তিতে একটি খসড়া আইন প্রস্তাবের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। এই নীতির অধীনে, যদি কোনো সেবা প্রদান না করা হয়, তবে গ্রাহককে বিল প্রদান করতে হবে না, যা সেবা প্রদানকারীর দায়িত্ব বাড়াবে এবং গ্রাহকের অধিকার রক্ষা করবে। তিনি উল্লেখ করেছেন, এই আইনটি নাগরিকদের সেবা গ্রহণে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।
প্রস্তাবিত আইনটি সংসদে আনতে প্রার্থী ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করছেন। তিনি বলছেন, আইনটি দ্রুত পারিতোষিক হওয়ার জন্য তিনি পার্টি নেতৃত্ব ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে চাপ সৃষ্টি করবেন, যাতে এই নীতি দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।
প্রার্থীর এই উদ্যোগের ফলে দেশের সেবা প্রদান ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। যদি আইনটি পাশ হয়, তবে সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোকে তাদের কাজের গুণমান ও সময়মতো সেবা প্রদানে বাধ্য করা হবে, যা শেষ পর্যন্ত নাগরিকদের জীবনের মান উন্নত করবে। এছাড়া, জবাবদিহিতার নতুন মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা পেশাগত নৈতিকতা বাড়াবে।
শেষে প্রার্থী উল্লেখ করেছেন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতির পথে অগ্রসর হতে হলে সকল স্টেকহোল্ডারকে একসাথে কাজ করতে হবে। তিনি আশাবাদী যে, তার প্রস্তাবিত নীতি ও আইনগুলো দেশের রাজনৈতিক সংস্কারকে ত্বরান্বিত করবে এবং জনগণের বিশ্বাস পুনর্গঠন করবে।



