শুক্রবার রাতের দিকে দুর্গাপুর উপজেলা পরিষদের সংলগ্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমের সময় দুইজন সমর্থকের ওপর নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জরিমানা আরোপ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত দ্বারা ১০,০০০ টাকার অর্থদণ্ড আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পদক্ষেপটি নির্বাচনী কোড ২০২৪-এর ধারা ৭(গ) লঙ্ঘনের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী হাকিম মো. মিজানুর রহমান জানান, শনিবার রাতের দিকে দুর্গাপুর উপজেলার কিছু এলাকায় দুইটি দলীয় জোটের সমর্থিত প্রার্থীর প্রচার সামগ্রী বৈদ্যুতিক খুঁটি, দেয়াল ও গাছে টানার অভিযোগ পাওয়া যায়।
প্রথম অভিযোগে ১১ দলীয় জোটের সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী রিকশা প্রতীকের ‘গোলাম রব্বানি’র ব্যানারকে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছের শাখায় টানার অভিযোগ উঠে। এই ব্যানারটি টানার সঙ্গে যুক্ত সমর্থক হুমায়ন কবীরকে ১০,০০০ টাকার জরিমানা করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী কায়সার কামালের সমর্থক তাজুলকে একই রকম লঙ্ঘনের জন্য একই পরিমাণ জরিমানা আরোপ করা হয়। উভয় সমর্থকই ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপস্থিত হয়ে জরিমানা পরিশোধের নির্দেশ পায়।
নির্বাচনী আচরণবিধি ২০২৪ অনুসারে, প্রচার সামগ্রীকে বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছ বা অন্য কোনো জনসাধারণের সম্পত্তিতে টানা নিষিদ্ধ। এই বিধি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর জরিমানা আরোপের পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
মিজানুর রহমান উল্লেখ করেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত এই ধরনের লঙ্ঘনের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে গৃহীত একটি কার্যকরী ব্যবস্থা। তিনি বলেন, নির্বাচনী সময়ে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সকল প্রার্থনা ও সমর্থকের দায়িত্ব।
এই ঘটনায় উভয় প্রার্থীর প্রচার দলীয় কর্মীরা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে সামঞ্জস্য করার কথা জানিয়েছে। তবে তারা দাবি করে, ব্যানার টানার কাজটি স্বেচ্ছায় এবং কোনো অবৈধ উদ্দেশ্য ছিল না।
বিএনপি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রতিনিধিরা জরিমানার বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে, প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি সরবরাহের পর পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। তারা উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রচারকালে কিছু সময়ে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে, যা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই জরিমানা উভয় দলের প্রচার কৌশলে সামান্য পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে, ব্যানার টানার মতো সরাসরি দৃশ্যমান প্রচার পদ্ধতি থেকে দূরে সরে আরও ডিজিটাল ও গৃহস্থালি প্রচার মাধ্যমের ব্যবহার বাড়তে পারে।
ভবিষ্যতে উভয় দলীয় জোটের প্রার্থী ও সমর্থকরা নির্বাচনী কোডের প্রতি অধিক সতর্কতা অবলম্বন করতে পারেন, যাতে আর কোনো আইনি বাধা না আসে। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এই ধরনের শাস্তি নির্বাচনী পরিবেশকে শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



