লস এঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ডিরেক্টরস গিল্ড (ডি.জি.এ) পুরস্কার অনুষ্ঠানে ‘দ্য স্টুডিও’ সিরিজের পরিচালক সেথ রোজেন এবং ইভান গোল্ডবার্গ কমেডি সিরিজের শ্রেষ্ঠ পরিচালনা বিভাগে পুরস্কার গ্রহণ করেন। এই পুরস্কারটি সিরিজের সৃজনশীল দিকনির্দেশনা ও হাস্যরসের উৎকর্ষতা স্বীকৃতি দেয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিল্পী ও শিল্পপতি সকলেই এই স্বীকৃতির জন্য উল্লাসে মেতে উঠেছিলেন।
প্রাপ্য পুরস্কার গ্রহণের সময় রোজেন ও গোল্ডবার্গের বক্তব্যে বিশেষভাবে ক্যাথরিন ওহারার প্রতি সম্মান জানানো হয়। দুজনই উল্লেখ করেন যে, ওহারা তাদের শৈশবের আদর্শ এবং কানাডার চলচ্চিত্র জগতে তিনি যে প্রভাব ফেলেছেন তা অমূল্য। তাদের কথায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, ওহারার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করা এখনো তাদের স্বপ্নের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।
ক্যাথরিন ওহারা ৩০ জানুয়ারি লস এঞ্জেলেসে তার বাড়িতে সংক্ষিপ্ত অসুস্থতার পর ৭১ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন। তিনি ‘বিটলজিউস’ এবং ‘হোম আলোন’ সিরিজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিচিতি অর্জন করেন এবং দুইবার এমি পুরস্কার জিতেছেন। তার অকাল মৃত্যু শিল্প জগতে শোকের ছায়া ফেলেছে।
ওহারার ক্যারিয়ার এবং তার অনন্য অভিনয়শৈলী রোজেনের চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। রোজেন জানান, ‘হোম আলোন’ ছবির মধ্যে ওহারার চরিত্রের উচ্ছ্বাস এবং “কেভিন, কেভিন” চিৎকার তাকে চলচ্চিত্র নির্মাণের পথে চালিত করেছে। তিনি বলেন, এই দৃশ্যগুলো তাকে নিজের গল্প বলার ইচ্ছা জাগিয়ে তুলেছিল।
গোল্ডবার্গও ওহারার বহুমুখী প্রতিভা ও মানবিক গুণাবলির প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ওহারা একদিকে অদ্ভুত বুদ্ধিমত্তা প্রদর্শন করেন, অন্যদিকে সর্বদা বিনয়ী ও দয়ালু ছিলেন। এমন একজন শিল্পীকে তাদের কাজের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করতে পারা তাদের জন্য গৌরবের বিষয়।
উল্লেখযোগ্য যে, রোজেন ও গোল্ডবার্গ ডি.জি.এর এই সম্মানজনক পুরস্কার গ্রহণের পরও ওহারার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে জোর দেন। তারা ডি.জি.এর সমর্থনকে স্বীকৃতি দিয়ে শেষ করেন, তবে মূলত ওহারার ব্যক্তিত্ব ও অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সমাপনী বক্তব্য দেন।
ওহারার মৃত্যুর পর ‘দ্য স্টুডিও’র কাস্ট, ক্রু এবং প্রযোজক দল একত্রে শোক প্রকাশ করেন। অ্যাপল টিভি ও লায়ন্সগেট টেলিভিশন যৌথভাবে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানান, “ক্যাথরিন ওহারার ক্ষতি আমাদের সকলকে গভীরভাবে দুঃখিত করেছে।” এই প্রকাশনা শিল্প জগতের বিস্তৃত শোককে প্রতিফলিত করে।
অনুষ্ঠানের অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পল থমাস অ্যান্ডারসন ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ চলচ্চিত্রের জন্য থিয়েট্রিক্যাল ফিচার ফিল্ডে সর্বোচ্চ ডি.জি. পুরস্কার জিতেন। অ্যান্ডারসনের কাজটি যুদ্ধের পরিণতি ও মানবিক দিকগুলোকে সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরার জন্য প্রশংসিত হয়।
অ্যান্ডারসন পুরস্কার গ্রহণের সময় বলেন, এই স্বীকৃতি তার জন্য এক বিশাল সম্মান এবং শিল্পের সহকর্মীদের সমর্থন ও ভালোবাসা তিনি অনুভব করছেন। তিনি এই পুরস্কারকে নিজের সৃষ্টিকর্মের প্রতি নতুন উদ্যমের উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন।
ডি.জি.এর এই দুইটি প্রধান পুরস্কার—কমেডি সিরিজ এবং থিয়েট্রিক্যাল ফিচার—বছরের সেরা দিকনির্দেশনা ও সৃজনশীলতা তুলে ধরেছে। শিল্পীরা এই স্বীকৃতিকে ভবিষ্যৎ প্রকল্পে আরও উচ্চ মানের কাজের প্রেরণা হিসেবে দেখছেন।
ক্যাথরিন ওহারার স্মৃতি ও তার অবদানকে সম্মান জানিয়ে শিল্প জগতে এই ধরনের অনুষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তার কাজের প্রভাব নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্র নির্মাতা ও অভিনেতাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
শোয়াতের শেষে, পাঠকদের জন্য পরামর্শ যে, ক্যাথরিন ওহারার চলচ্চিত্রগুলো পুনরায় দেখার মাধ্যমে তার শিল্পীসত্তা ও হাস্যরসের গভীরতা অনুভব করা যেতে পারে এবং ‘দ্য স্টুডিও’র নতুন পর্বগুলোতে তার স্মৃতি সজীবভাবে উপস্থিত থাকবে।



