মোহাম্মদ সিরাজ, যিনি জুলাই ২০২৪‑এর পর আন্তর্জাতিক টি‑টুয়েন্টি ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেননি, গতকাল মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ম্যাচে ভারত ক্রিকেট দলকে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জয়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার অপ্রত্যাশিত অন্তর্ভুক্তি এবং ম্যাচে শীর্ষ পারফরম্যান্সের ফলে তিনি এক রাতের মধ্যে ছুটির পরিকল্পনা থেকে জাতীয় নায়কে রূপান্তরিত হয়েছেন।
সিরাজের মূল পরিকল্পনা ছিল ফেব্রুয়ারি মাসে জার্মানিতে ছুটি কাটিয়ে, এরপর স্পেনে গিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচ দেখার। হায়দ্রাবাদের বন্ধুদের সঙ্গে ভ্রমণসূচি তৈরি করে, তিনি ভেবেছিলেন আইপিএল শুরুর আগে মুম্বাইতে ফিরে আসবেন। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি ইতিমধ্যে টিকিট বুকিং এবং ভ্রমণব্যবস্থা সম্পন্ন করে ছিলেন।
তবে ভারত ক্রিকেট দলের ট্রেইনার অ্যাড্রিয়ান লে রু, যিনি সিরাজকে ফোনে জানিয়ে দেন যে তিনি কোনো ব্যাঘাত না ঘটাতে চান, তা সিরাজের মনোভাবকে প্রভাবিত করে। ট্রেইনারের এই অনুরোধের পরেও সিরাজের ছুটির পরিকল্পনা অচল থাকে, কারণ তার কাছে এখনও কোনো জরুরি ক্রিকেটের আহ্বান আসেনি।
অপ্রত্যাশিতভাবে, অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (সাধারণত সূর্য ভাই নামে পরিচিত) হঠাৎ ফোন করে বলেন, “তৈরি হয়ে নাও, ব্যাগ গুছিয়ে চলে এসো।” সিরাজ প্রথমে এই আহ্বানকে মজার কথাবার্তা হিসেবে গ্রহণ করেন, তবে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি জাতীয় নির্বাচক (প্রজ্ঞান) এর কল পান, যা তাকে দলের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা সম্পর্কে জানায়।
বিসিসিআই প্রকাশ করেছে যে, হর্ষিত রানা ছোটো ছিটকে যাওয়ায় অক্ষম হয়ে পড়ে, ফলে সিরাজকে হঠাৎ করে দলীয় তালিকায় যুক্ত করা হয়। রানা না থাকায় সিরাজের জন্য শেষ মুহূর্তে সুযোগ আসে, যদিও তিনি আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে পারেননি। তবুও তিনি দ্রুত মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হন।
সিরাজের শেষ আন্তর্জাতিক টি‑টুয়েন্টি ম্যাচ ছিল জুলাই ২০২৪‑এ, এবং তার পর থেকে তিনি কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেননি। তাই ফেব্রুয়ারি মাসে তার কোনো নির্ধারিত ক্রিকেটের দায়িত্ব না থাকায়, তিনি ছুটির পরিকল্পনা করে ছিলেন। এই ফাঁকা সময়ে তিনি রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচ দেখার জন্য স্পেনে যাওয়ার কথা ভাবছিলেন।
ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বোলিং লাইনআপের আক্রমণাত্মক রণনীতি ভারত ক্রিকেট দলের ব্যাটিংকে ১১ ঘণ্টা আগে অস্থির করে তুলেছিল। সিরাজের প্রবেশের পর তিনি শীর্ষ ক্রমে আউটপুট দিয়ে দলকে স্থিতিশীল করেন এবং শেষ পর্যন্ত ভারতের জয় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার পারফরম্যান্সকে ম্যাচের অন্যতম নায়ক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
ম্যাচের পর সিরাজ বললেন, “সৃষ্টিকর্তা যা লিখে রেখেছেন, তা কেউ বদলাতে পারে না। আমি এলাম, ম্যাচ খেললাম, সবই আগে থেকে লেখা ছিল। আল্লাহ মহান। তাঁর ইচ্ছার বাইরে কারও কিছু করার ক্ষমতা নেই।” এই বক্তব্যে তিনি নিজের ভাগ্য ও দায়িত্বের প্রতি গভীর বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।
সিরাজের মতে, ফেব্রুয়ারিতে রিয়াল মাদ্রিদের একটি ম্যাচ ছিল, যা তিনি দেখার জন্য পরিকল্পনা করছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, “১৫ তারিখে রিয়াল মাদ্রিদের একটা ম্যাচ আছে। পরিকল্পনা ছিল খেলাটা দেখতে যাব। এরপর রোজা শুরু হবে, তাই আমার পরিকল্পনা সেভাবেই করা ছিল। কিন্তু ওপরওয়ালা যা লিখে রেখেছেন, সেটাই হয়।” ফলে তার ছুটির পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে বদলে যায়।
সিরাজের অপ্রত্যাশিত অন্তর্ভুক্তি এবং ম্যাচে নায়কত্বের পরিণতি ভারত ক্রিকেট দলের পেস আক্রমণের নেতৃত্বে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দেয়। তার উদাহরণ দেখায় যে, অপ্রত্যাশিত সুযোগে প্রস্তুতি ও মানসিক দৃঢ়তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে সিরাজের পারফরম্যান্স দলকে কীভাবে প্রভাবিত করবে, তা এখনই দেখা বাকি।



