৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার, ঢাকা বাংলামোটরের জাতীয় নাগরিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলীয় নেতা ও প্রাক্তন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের রয়টার্স সাক্ষাৎকারে প্রকাশিত মন্তব্যের ওপর কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ যদি শীঘ্রই শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফিরতে চান, তবে তা অতীতের ভুল পুনরাবৃত্তি করতে পারে।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেছিলেন, “জনগণ চাইলে যে কেউ রাজনীতিতে অংশ নিতে পারে,” এবং এভাবে তিনি শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনৈতিক মঞ্চে ফিরে আসার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করেছেন। এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় নাগরিক দলের প্রতিনিধিরা তীব্র বিরোধ প্রকাশ করে।
আসিফ মাহমুদের মতে, তারেকের এই মন্তব্যের পেছনে একটি বিপজ্জনক ধারণা লুকিয়ে আছে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে পূর্বে ঘটেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭৫ সালে একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বামী ও সন্তানদের শাসন শেষ হয়, এবং তখনই জনগণ কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি করেননি।
বক্তা জিয়াউর রহমানের (খালেদা জিয়া) অতীতের একটি বড় ভুলের দিকে ইঙ্গিত করেন, যেখানে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক সক্রিয়তা প্রদান করেন। আসিফের মতে, এই সিদ্ধান্তের পরিণতিতে গুম, হত্যাকাণ্ড এবং সহিংসতার ধারাবাহিকতা দেখা দেয়, যা দেশের নিরাপত্তা ও সামাজিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমানের এই সিদ্ধান্তের ফলে জাতি দীর্ঘ সময় ধরে কষ্ট ভোগ করেছে, এবং জুলাই মাসে ঘটিত গণ-অভ্যুত্থানও এই ধারার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই সময়ে বহু প্রাণহানি ও সম্পত্তি ক্ষতি হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করে তুলেছিল।
আসিফ মাহমুদ জিয়াউর রহমানকে সম্মান জানিয়ে বলেন, তবে তিনি স্বীকার করেন যে জিয়াউরের সিদ্ধান্তে একটি গুরুতর ভুল ছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শেখ মুজিবুর কন্যাকে রাজনীতিতে নিয়ে আসা দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে, এবং তার পরিবারকে তিন দশক ধরে এই দায়িত্ব বহন করতে হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে তিনি সতর্ক করেন, তারেক রহমানের বর্তমান মন্তব্যও একই ধরণের ভুলের পুনরাবৃত্তি হতে পারে। তিনি বলেন, যদি জনগণ সত্যিই কোনো ব্যক্তিকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে চায়, তবে তা সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে করা উচিত, না যে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা না নিয়ে পুনরায় ঝুঁকি নেওয়া।
আসিফের বক্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অন্যান্য দলীয় নেতারা এই আলোচনায় যুক্ত হন। বেশ কয়েকজন মন্তব্য করেন, যে কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের পেছনে জনগণের ইচ্ছা ও দেশের নিরাপত্তা দুটোই সমানভাবে বিবেচনা করা দরকার। কিছু বিশ্লেষক বলেন, এই বিতর্কের ফলে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি ও জোট গঠনের প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে।
জাতীয় নাগরিক দলের এই প্রকাশ্য মন্তব্যের ফলে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ উভয়ের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। বিশেষত, যদি শীঘ্রই শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনৈতিক মঞ্চে ফিরে আসার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনর্গঠন করতে পারে।
অবশেষে, আসিফ মাহমুদের মন্তব্যের মূল লক্ষ্য ছিল অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনসাধারণের নিরাপত্তা রক্ষাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, এবং কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির স্বার্থে তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়।



