24 C
Dhaka
Sunday, February 8, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাভারতে ডিপ টেক স্টার্টআপের জন্য স্টার্টআপ নীতি ২০ বছর ও রাজস্ব সীমা...

ভারতে ডিপ টেক স্টার্টআপের জন্য স্টার্টআপ নীতি ২০ বছর ও রাজস্ব সীমা বৃদ্ধি

দিল্লি সরকার এই সপ্তাহে স্টার্টআপ নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনছে। ডিপ টেক ক্ষেত্রের (যেমন মহাকাশ, সেমিকন্ডাক্টর ও বায়োটেক) কোম্পানিগুলোকে এখন ২০ বছর পর্যন্ত স্টার্টআপ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং তাদের বার্ষিক রাজস্বের সীমা ৩ বিলিয়ন রুপি (প্রায় ৩৩ মিলিয়ন ডলার) পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

ডিপ টেক স্টার্টআপগুলো সাধারণ ব্যবসার তুলনায় পণ্য বাজারে আনার জন্য বহু বছর গবেষণা ও উন্নয়ন প্রয়োজন। এই দীর্ঘমেয়াদী চক্রকে বিবেচনা না করে পূর্বের নীতিতে ১০ বছর এবং ১ বিলিয়ন রুপি সীমা নির্ধারিত ছিল, যা অনেক কোম্পানিকে সময়ের আগে স্টার্টআপ সুবিধা হারাতে বাধ্য করত।

নতুন নীতি এই সময়সীমা ও আর্থিক সীমা উভয়ই দ্বিগুণ করে, যাতে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল ভিত্তিক উদ্যোগগুলোকে পর্যাপ্ত সময় ও সম্পদ দিয়ে বিকাশের সুযোগ থাকে। ফলে স্টার্টআপের মর্যাদা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে, আর বিনিয়োগকারীরা প্রকল্পের প্রকৃত প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ভিত্তিক মূল্যায়ন করতে পারবে।

এই পরিবর্তনটি দিল্লির দীর্ঘমেয়াদী ডিপ টেক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। গত বছর সরকার ১ ট্রিলিয়ন রুপি (প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের রিসার্চ, ডেভেলপমেন্ট ও ইনোভেশন ফান্ড (RDI) ঘোষণা করে, যা বিজ্ঞান-নির্ভর ও গবেষণা চালিত কোম্পানিগুলোর জন্য ধৈর্যশীল মূলধন সরবরাহের লক্ষ্য রাখে।

RDI ফান্ডের পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মগুলো একত্রে “ইন্ডিয়া ডিপ টেক অ্যালায়েন্স” নামে একটি প্রাইভেট ইনভেস্টর কনসোর্টিয়াম গঠন করেছে। এই গোষ্ঠীর মোট বিনিয়োগ ক্ষমতা এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, যা ডিপ টেক স্টার্টআপের জন্য নতুন তহবিলের প্রবাহ তৈরি করবে।

অ্যালায়েন্সের সদস্যদের মধ্যে রয়েছে Accel, Blume Ventures, Celesta Capital, Premji Invest, Ideaspring Capital, Qualcomm Ventures এবং Kalaari Capital। চিপ নির্মাতা Nvidia এই গোষ্ঠীর পরামর্শদাতা হিসেবে যুক্ত হয়েছে, যা প্রযুক্তিগত দিক থেকে কৌশলগত সমর্থন নিশ্চিত করে।

প্রাইভেট ও পাবলিক উভয় তহবিলের সমন্বয় ডিপ টেক স্টার্টআপের জন্য একটি শক্তিশালী আর্থিক কাঠামো গড়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদী স্টার্টআপ স্বীকৃতি ও উচ্চতর রাজস্ব সীমা বিনিয়োগকারীদের জন্য ঝুঁকি হ্রাসের সংকেত দেবে, ফলে তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়া সহজ হবে।

প্রতিষ্ঠাতাদের দৃষ্টিকোণ থেকে, পূর্বের নীতিতে প্রায়ই কোম্পানি প্রাথমিক পর্যায়ে স্টার্টআপ সুবিধা হারিয়ে ফেলত, যদিও তারা এখনও বাণিজ্যিক পণ্য তৈরি করেনি। এই পরিস্থিতি বাজারে ভুল ব্যর্থতার ধারণা তৈরি করত, যা তহবিলের প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করত। নতুন নীতি এই সমস্যাটিকে দূর করে, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ভিত্তিতে মূল্যায়নকে অগ্রাধিকার দেয়।

বাজারে এই পরিবর্তনের প্রভাব ইতিবাচক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। দীর্ঘ সময়ের স্বীকৃতি ও বৃহত্তর আর্থিক সীমা বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদেরকে ভারতের ডিপ টেক সেক্টরে আরও আগ্রহী করবে। ফলে সেমিকন্ডাক্টর, স্পেস টেক ও বায়োফার্মা মতো উচ্চ প্রযুক্তি শিল্পে নতুন স্টার্টআপের সংখ্যা বাড়তে পারে।

তবে কিছু ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে। গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনের অস্থিরতা, উচ্চ প্রযুক্তি উপাদানের আমদানি সীমাবদ্ধতা এবং নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের জটিলতা ডিপ টেক প্রকল্পের সময়সূচি ও ব্যয়কে প্রভাবিত করতে পারে। এছাড়া, বৃহত্তর তহবিলের সঠিক বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা না হলে সম্পদের অপচয় হতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, স্টার্টআপ নীতির এই সংস্কার ও ডিপ টেক অ্যালায়েন্সের গঠন ভারতের উচ্চ প্রযুক্তি শিল্পকে দীর্ঘমেয়াদী বৃদ্ধি পথে নিয়ে যাওয়ার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। যদি নীতি বাস্তবায়ন ও তহবিলের ব্যবহার দক্ষভাবে পরিচালিত হয়, তবে আগামী দশকে দেশটি ডিপ টেক উদ্ভাবনের একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে উত্থিত হতে পারে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: TechCrunch
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments