মার্কিন দূতাবাসের ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার প্রকাশিত বার্তায় স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, B1 ও B2 ভিজিটর ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী নাগরিকদের কোনো রকম চাকরি করা বা পারিশ্রমিক গ্রহণের অনুমতি নেই। এই নির্দেশনা ভিসা ধারকদের জন্য বাধ্যতামূলক এবং ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, B1/B2 ভিসা ধারকরা যুক্তরাষ্ট্রে সীমিত ব্যবসায়িক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন; এর মধ্যে চুক্তি আলোচনা, দরকষাকষি এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ অন্তর্ভুক্ত। তবে এই ভিসার অধীনে কোনো মার্কিন নিয়োগকর্তার জন্য কাজ করা বা সেই কাজের জন্য কোনো আর্থিক পারিশ্রমিক গ্রহণ করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ।
দূতাবাসের প্রকাশনা অনুসারে, ভিসা শর্তাবলী মেনে চলা ভিসাধারীর ব্যক্তিগত দায়িত্ব। শর্ত লঙ্ঘন করলে শুধুমাত্র বর্তমান ভিসা বাতিলই নয়, পরবর্তী ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত পর্যালোচনা এবং সম্ভাব্য প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হতে পারে। তাই ভিসা ধারকদের সতর্কতা অবলম্বন করে সংশ্লিষ্ট নিয়মের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শন করা জরুরি।
এই সতর্কতা মার্কিন সরকারের দীর্ঘমেয়াদী ভিসা নীতি অনুসরণ করে, যা ভিসা প্রকারভেদে কাজের অনুমোদন স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে। উদাহরণস্বরূপ, H‑1B বা L‑1 ভিসা ধারকরা নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার জন্য কাজ করতে পারেন, আর J‑1 এক্সচেঞ্জ ভিসা ধারকরা নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ বা গবেষণা প্রকল্পে অংশ নিতে পারেন। তবে B1/B2 ভিসা মূলত পর্যটন ও স্বল্পমেয়াদী ব্যবসায়িক সফরের জন্য, যা কর্মসংস্থান অনুমোদন করে না।
একজন কূটনীতিকের মতে, “ভিজিটর ভিসা ধারকদের জন্য কাজের নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি বজায় রাখতে এবং অবৈধ কর্মসংস্থান রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে”। তিনি আরও যোগ করেন যে, ভিসা শর্তের প্রতি অমনোযোগ ভবিষ্যতে কঠোর শাস্তি এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রবেশ নিষেধাজ্ঞার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
বৈশ্বিক পর্যায়ে দেখা যায়, অনেক দেশই ভিজিটর ভিসা ধারকদের কর্মসংস্থান নিষেধের নীতি অনুসরণ করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে, এই নীতি বিশেষভাবে কঠোর, কারণ B1/B2 ভিসা ধারকরা প্রায়শই ব্যবসায়িক মিটিং ও কনফারেন্সে অংশ নেন, যা কখনও কখনও কাজের সীমা অতিক্রমের ঝুঁকি তৈরি করে। তাই দূতাবাসের এই স্পষ্টীকরণ ভিসা ব্যবহারকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে।
অধিকন্তু, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শ্রম বাজার রক্ষার জন্য, ইমিগ্রেশন ও সিটিজেনশিপ সেবা (USCIS) ভিসা শর্তের লঙ্ঘন সনাক্ত করতে আরও কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছে। লঙ্ঘনকারী ব্যক্তিরা ভিসা বাতিল, শাস্তি এবং ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।
এই সতর্কতা প্রকাশের পেছনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিসা ব্যবহারের অপব্যবহার ও অবৈধ কর্মসংস্থান সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপট রয়েছে। বিশেষ করে, কিছু ভিজিটর ভিসা ধারককে কর্মসংস্থান অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও কাজের সুযোগ গ্রহণের ঘটনা নজরে এসেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম নীতির প্রতি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
দূতাবাসের বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভিসা শর্তের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ ভিসা ধারকের স্বার্থ রক্ষা করে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ সহজ করে। তাই ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় বা প্রবেশের পর কোনো সন্দেহজনক কাজের প্রস্তাব পেলে তা প্রত্যাখ্যান করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত।
সংক্ষেপে, B1 ও B2 ভিসা ধারকদের জন্য কাজের নিষেধাজ্ঞা স্পষ্ট করা হয়েছে এবং এই শর্তের লঙ্ঘন ভবিষ্যতে প্রবেশের অনুমতি প্রাপ্তিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ভিসা ধারকদের জন্য সর্বোত্তম হবে এই নির্দেশনা মেনে চলা এবং ভিসা ব্যবহারের সীমা অতিক্রম না করা, যাতে যুক্তরাষ্ট্রে পরবর্তী ভ্রমণ পরিকল্পনা নির্বিঘ্নে এগিয়ে যায়।



