৩০ জানুয়ারি বিশ্ব উপেক্ষিত উষ্ণমণ্ডলীয় রোগ দিবস পালিত হয়, যা সবচেয়ে দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব ফেলা প্রতিরোধযোগ্য ও চিকিৎসাযোগ্য রোগগুলোকে আলোকপাত করে।
এই রোগগুলো, যেমন লিম্ফাটিক ফিলারিয়াসিস, নদী অন্ধত্ব, শিস্টোসোমিয়াসিস ও কুঁচকানো রোগ, মূলত স্বাস্থ্যসেবা দুর্বল এলাকায় বিস্তার লাভ করে।
সাম্প্রতিক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও, এখনও প্রায় এক বিলিয়ন মানুষ এই রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে, যেখানে দারিদ্র্য, স্বাস্থ্যসেবার সীমিত প্রবেশ এবং অপর্যাপ্ত বাসস্থানের অবস্থা বিদ্যমান।
২০২৪ সালে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন মানুষকে NTDs মোকাবিলার জন্য হস্তক্ষেপের প্রয়োজন ছিল, যা ২০১০ সালের তুলনায় ৩৬ শতাংশ হ্রাস নির্দেশ করে। এই হ্রাস ধারাবাহিক বিনিয়োগ ও সমন্বিত কর্মসূচির ফল।
২০২৬ সালের শুরুর দিকে ৫৮টি দেশ অন্তত একটি উপেক্ষিত উষ্ণমণ্ডলীয় রোগ সম্পূর্ণ নির্মূল করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০৩০ সালের লক্ষ্য অনুযায়ী ১০০টি দেশ এই স্তরে পৌঁছাবে।
দেশীয় উদ্যোগগুলো আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমর্থনে সফল হয়েছে, যা সীমিত সম্পদেও রোগ নির্মূলের সম্ভাবনা দেখায়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই অগ্রগতির ঝুঁকি বাড়ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপেক্ষিত উষ্ণমণ্ডলীয় রোগ প্রোগ্রামের তহবিল প্রত্যাহার দুই দশকের গ্লোবাল বিনিয়োগকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
২০১৮ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত NTDs-এ আন্তর্জাতিক সহায়তা ৪১ শতাংশ কমে গিয়েছে, যা স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম অর্থায়িত ক্ষেত্রগুলোর একটি।
তহবিলের ঘাটতি সরাসরি সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করছে; চিকিৎসা বিলম্বিত হচ্ছে, অক্ষমতা বাড়ছে এবং দারিদ্র্যের চক্র দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তহবিল কাটার ফলে ৪৭টি বৃহৎ পরিসরের চিকিৎসা ক্যাম্পেইন স্থগিত হয়েছে, ফলে ১.৪৩ কোটি মানুষ প্রয়োজনীয় ওষুধ পেতে ব্যর্থ হয়েছে।
এই ওষুধগুলো রোগের বিস্তার রোধে এবং রোগীর জীবনের গুণগত মান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তহবিলের ঘাটতি পূরণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দেশীয় বাজেটের পুনর্বিন্যাস জরুরি, যাতে পূর্বের অর্জিত অগ্রগতি বজায় থাকে।
বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, ধারাবাহিক আর্থিক সমর্থন এবং সমন্বিত স্বাস্থ্য নীতি ছাড়া রোগের নির্মূল লক্ষ্য অর্জন কঠিন।
শেষমেশ, বিশ্ব উপেক্ষিত উষ্ণমণ্ডলীয় রোগ দিবসের বার্তা হল, রোগের বিরুদ্ধে লড়াইতে প্রত্যেক দেশের দায়িত্ব এবং সমষ্টিগত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।



