24 C
Dhaka
Sunday, February 8, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিঢাকা-২ নির্বাচনে পরিবেশ ও ট্রাফিক সমস্যার উদ্বেগ বাড়ছে

ঢাকা-২ নির্বাচনে পরিবেশ ও ট্রাফিক সমস্যার উদ্বেগ বাড়ছে

ঢাকা-২ নির্বাচনের দিন নিকটবর্তী হওয়ায়, রোহিতপুর, কেরানিগঞ্জের বাসিন্দারা পরিবেশ দূষণ, ট্রাফিক জ্যাম এবং মৌলিক পণ্যের দাম বৃদ্ধির মতো সমস্যাকে প্রধান উদ্বেগের বিষয় হিসেবে তুলে ধরছেন। এই এলাকায় অর্থনৈতিক চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের আশাবাদ ও সংশয় উভয়ই স্পষ্ট। নির্বাচনের ফলাফল কীভাবে স্থানীয় সমস্যার সমাধানে প্রভাব ফেলবে, তা এখনই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

বিএসসিআইসি এলাকার বাসিন্দা মো. আবুল কালাম বলেন, সামগ্রিক পরিবেশে কোনো বড় সমস্যা না থাকলেও, দামের উত্থান ও জীবনের ব্যয় বাড়া মানুষকে আর্থিকভাবে দুর্বল করে তুলেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, নির্বাচনের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তি পাবে।

আতিবাজারের অন্বর ভূঁইয়া, যাকে তিনি রাজনৈতিকভাবে সচেতন নাগরিক হিসেবে বর্ণনা করেন, একই রকম উদ্বেগ শেয়ার করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা যদি কমে যায়, তবে অনেক সমস্যার স্বয়ংক্রিয় সমাধান সম্ভব হবে। তবে তিনি রাজনৈতিক সংঘর্ষের প্রতি সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেছেন।

ঢাকা-২ নির্বাচনী এলাকার মধ্যে হযরতপুর, কালাতিয়া, তরণগর, শাক্তা, রোহিতপুর, বস্তা ও কালিন্দি ইউনিয়ন (কেরানিগঞ্জ উপজেলা) এবং আমিনবাজার, তেতুলঝরা, ভাকুরতা ইউনিয়ন (সাভার উপজেলা) অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় মানুষদের মতে, পরিবেশ দূষণই সবচেয়ে জরুরি সমস্যা, বিশেষ করে বুরিগঙ্গা নদীর তীরে বসবাসকারী গ্রাহকদের জন্য জল ও বায়ু দূষণ বড় চ্যালেঞ্জ।

বুরিগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় শিল্প বর্জ্য ও অবৈধ নিকাশীর ফলে পানির গুণগত মান হ্রাস পেয়েছে, যা বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি, গাড়ির ধোঁয়া ও ধূলিকণার কারণে বায়ু মানের অবনতি ঘটছে, যা শ্বাসযন্ত্রের রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

অমিনবাজার ও হেমায়েতপুরে ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের পাশে ট্রাফিক জ্যাম দিন দিন বাড়ছে। রাস্তায় গাড়ির অতিরিক্ত প্রবাহ এবং অপর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা গতি হ্রাসের প্রধান কারণ। এই পরিস্থিতি কর্মস্থলে সময়মতো পৌঁছাতে ব্যর্থতা এবং জ্বালানি ব্যয়ের বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে।

অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে পূর্বে থাকা খেলার মাঠ ও খোলা স্থানগুলো ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে। নতুন নির্মাণ প্রকল্পের দ্রুত অগ্রগতি ও জমি দখল করার ফলে শিশু ও যুবকদের জন্য নিরাপদ বিশ্রামস্থল কমে যাচ্ছে। এই ধারা সামাজিক ও শারীরিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

নির্বাচনের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত হওয়ায় প্রার্থীরা রাস্তায় সমাবেশ, ভিড়ভাট্টা সভা এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়ে তুলেছেন। বিভিন্ন দল তাদের নিজস্ব প্রচার কৌশল অনুসরণ করে সমর্থকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।

ভাকুরতা ইউনিয়নের বাসিন্দা আমির হোসেন জানান, এইবার প্রার্থীরা ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট সংগ্রহের প্রচলিত পদ্ধতি ত্যাগ করে রাস্তায় রেলি ও সমাবেশের মাধ্যমে ভোটারকে আকৃষ্ট করছেন। তিনি লক্ষ্য করেন, বিএনপি, জামাত ও ইসলামি আন্দোলন প্রত্যেকেই নিজস্ব রূপে প্রচার চালাচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো সংঘর্ষ বা হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেনি।

প্রতিবেশীরা আশা করছেন যে, নির্বাচনের ফলাফল যদি স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার দিকে মনোযোগ দেয়, তবে বর্তমান সমস্যাগুলোতে কিছুটা স্বস্তি আসবে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক উত্তেজনা যদি পুনরায় তীব্র হয়, তবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ বাড়তে পারে। তাই ভোটারদের জন্য এই নির্বাচন কেবল নেতৃত্বের পরিবর্তন নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের গুণগত মানের উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments