ইংল্যান্ডের ইয়েভিলের ২৪ বছর বয়সী কেটি, শুক্রবারের সন্ধ্যায় সন্তানদের ঘুমিয়ে যাওয়ার পর, ফোন হাতে ও এক গ্লাস ওয়াইনের সঙ্গে সোফায় বসে টিকটকে ক্যারিলের মর্গ্যান্স আর্কেড বার-এর লাইভস্ট্রিম দেখেন। এই বারটি তার বাসস্থানের প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত, তবে কেটি কখনো সেখানে গিয়েছেন না।
লাইভস্ট্রিমে বারটির ছোট আকারের (প্রায় ৬০ সিট) ভেতরে বিভিন্ন গ্রাহকের চলাচল দেখা যায়; কাজের পার্টিতে অংশ নেওয়া মহিলারা, সঙ্গীতের সঙ্গে গাইতে গাইতে মজা করা দম্পতি, এবং বার কাউন্টারের পাশে এক তরুণের মেয়ের সঙ্গে আলাপ করার চেষ্টা। কেটি এই দৃশ্যগুলোকে টিভি সিরিয়ালের বদলে বাস্তব জীবনের নাটক হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে প্রতিটি চরিত্রের আচরণ তার নিজের বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে তুলনা করে তিনি স্বস্তি পান।
টিকটক লাইভের মন্তব্য বিভাগে তরুণের জন্য উৎসাহের বার্তা ভাসে, আর তার সঙ্গে থাকা মেয়ের বন্ধুর মুখে অল্প বিরক্তি দেখা যায়। কেটি এই মুহূর্তটি হাস্যকর বলে উল্লেখ করেন, কারণ তিনি নিজেও একই রকম পরিস্থিতিতে ছিলেন এবং সেই সময়ের অস্বস্তি স্মরণ করেন।
মর্গ্যান্স আর্কেড বার, যদিও মাত্র ছয় দশজনেরও বেশি লোক ধারণ করতে পারে, তবুও এক সময়ে ৫,০০০ পর্যন্ত দর্শকের সংখ্যা রেকর্ড করেছে। এই অপ্রত্যাশিত জনপ্রিয়তা টিকটকের অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের কাছে সুপারিশ করা হয়, ফলে কেটি সহ অনেক দর্শক নিয়মিত এই ধরণের লাইভস্ট্রিমে যুক্ত হন।
বারের মালিক মর্গ্যান টেলর প্রায় নয় মাস ধরে স্ট্রিম চালাচ্ছেন। ক্রিসমাসের সময় দর্শকসংখ্যা তীব্রভাবে বাড়ার পর, সম্প্রতি তার টিকটক অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা হয় এবং শুধুমাত্র একটি সাধারণ নোটিফিকেশন পাওয়া যায়। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে কিছু সময়ে নিষেধাজ্ঞা ও সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে, তবে সুনির্দিষ্ট কারণগুলো স্পষ্ট নয়।
কেটি বলেন, লাইভস্ট্রিমে দেখা সত্যিকারের মানবিক মিথস্ক্রিয়া তাকে বারবার ফিরে আসতে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের লাইভ কন্টেন্ট শুধু বিনোদন নয়, বরং দূরত্বের পরেও মানুষের সঙ্গে সংযোগের নতুন উপায় হয়ে উঠেছে।
বাজারে বাড়তে থাকা বার লাইভস্ট্রিমের প্রবণতা দেখায় যে, সামাজিক মিডিয়া ব্যবহারকারীরা এখন ঘরে বসে, বন্ধুদের সঙ্গে না গিয়ে, বাস্তব সময়ের সামাজিক পরিবেশ উপভোগ করতে পছন্দ করেন। টিকটকের সুপারিশ সিস্টেম এবং ছোট বারগুলোর স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশের সমন্বয়ই এই নতুন বিনোদনধারার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।



