মিলান অলিম্পিকের প্রথম কুইয়ার নারী অ্যাথলেট অ্যাম্বার গ্লেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী ২৬ বছর বয়সী স্প্রিন্টার, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের প্রতি তার আচরণ সমালোচনা করার পর অনলাইন হুমকির শিকার হচ্ছেন। তিনি ৪ ফেব্রুয়ারি মিলানে একটি সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশকে তার সম্প্রদায়ের জন্য কঠিন বলে উল্লেখ করেন এবং সবাইকে দৃঢ় থাকতে আহ্বান জানান।
সেই বিবৃতি প্রকাশের পর, গ্লেন ৭ ফেব্রুয়ারি ইনস্টাগ্রামে জানিয়েছেন যে তিনি ঘৃণা ও হুমকির শিকারে আছেন, যা তার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক অধিকার—মুক্ত বাকস্বাধীনতা—ব্যবহার করে যখন তিনি তার অনুভূতি প্রকাশ করেন, তখন তাকে চুপ থাকতে বলা হচ্ছে। এ কারণে তিনি সাময়িকভাবে সামাজিক মিডিয়া থেকে দূরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তার বিশ্বাসের পক্ষে কথা বলা বন্ধ করবেন না।
গ্লেনের এই পদক্ষেপের পর কিছু সমালোচক বলছেন, “তুমি একজন অ্যাথলেট, নিজের কাজে মন দাও আর রাজনীতি থেকে দূরে থাকো”। তার উত্তর ছিল, তিনি সকলকে বলছেন যে কঠিন সময়ে শক্তি বজায় রাখা জরুরি, এবং ক্রীড়াবিদদের রাজনৈতিক বিষয় থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকা বাস্তবিক নয়।
গ্লেন একা নয়; ফ্রিস্টাইল স্কিয়ার ক্রিস লিলিস এবং হান্টার হেসও একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে মিশ্র অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। উভয়ই উল্লেখ করেছেন যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা গর্বের বিষয়, তবে বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা তাদের মনোভাবকে জটিল করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বাড়ছে। মিনেসোটা রাজ্যে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই নাগরিকের মৃত্যু এবং আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) সংক্রান্ত বিতর্কিত কর্মকাণ্ড দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনাগুলি গ্লেনের মত ক্রীড়াবিদদের জন্য অতিরিক্ত চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
মিলান শহরেও একই সময়ে অভিবাসন নীতি ও বর্ণবাদের বিরোধী প্রতিবাদ চলমান। অলিম্পিক ভিলেজ ও ক্রীড়াবিদদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে এই প্রতিবাদ, যা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্টের পরিবেশকে অস্থির করে তুলেছে। শহরের বাসিন্দা ও কর্মীরা নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার সংক্রান্ত দাবিতে একত্রিত হয়ে রোডে বেরিয়ে পড়েছেন।
এই সব পরিস্থিতি সত্ত্বেও গ্লেন তার সামাজিক মিডিয়া বিরতি শেষ না করে, নিজের মতামত প্রকাশে দৃঢ়তা বজায় রেখেছেন। তিনি বলছেন, ক্রীড়াবিদ হিসেবে তার দায়িত্ব শুধুমাত্র ট্র্যাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সমাজের ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের জন্যও কণ্ঠস্বর তুলতে হবে। ভবিষ্যতে তিনি আবার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ফিরে আসবেন, তবে তার মূল লক্ষ্য থাকবে সত্যিকারের পরিবর্তন আনা।
গ্লেনের এই পদক্ষেপ ও বক্তব্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়া জগতে একটি নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। ক্রীড়াবিদদের রাজনৈতিক মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সামাজিক মিডিয়ার নিরাপত্তা, এবং গ্লোবাল ইভেন্টে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ নীতি—এই সব বিষয় এখন একসাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। গ্লেনের অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে যে, ক্রীড়া এবং সমাজের সংযোগের সীমা ক্রমশ ম্লান হয়ে আসছে, এবং প্রতিটি ক্রীড়াবিদকে তার নিজস্ব নৈতিক দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করতে হবে।



