সাম রেইমি, যিনি ২০২২ সালে মার্ভেল ছবিতে ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ ইন দ্য মাল্টিভার্স অফ ম্যাডনেস’ পরিচালনা করেন, র্যাচেল ম্যাকডাম্সের চরিত্রের ব্যবহার সীমিত ছিল বলে প্রকাশ করেছেন। রেইমি জানান, তিনি ছবিতে ম্যাকডাম্সের প্রতিভা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেননি এবং এ নিয়ে তিনি নিজে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন যে ভবিষ্যতে আবার তার সঙ্গে কাজ করবেন। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়েছে, কারণ রেইমি নতুন সাসপেন্স থ্রিলার ‘সেন্ড হেল্প’ এ ম্যাকডাম্সকে প্রধান চরিত্রে নিয়েছেন, যেখানে তিনি ডিলান ও’ব্রায়নের সঙ্গে কাজ করবেন।
‘সেন্ড হেল্প’ ছবিতে ম্যাকডাম্সের চরিত্রকে রেইমি বর্ণনা করেন, তিনি এক উষ্ণ ও মানবিক অভিনেত্রী, যার উপস্থিতি দর্শকদের কাছে স্বাভাবিকভাবে আকর্ষণীয়। রেইমি উল্লেখ করেন, পূর্বের ছবিতে তিনি ম্যাকডাম্সের দক্ষতা দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন, তবে তার পূর্ণ সম্ভাবনা ব্যবহার করা হয়নি। তাই তিনি এই নতুন প্রকল্পে তাকে আরও চ্যালেঞ্জিং ভূমিকা দিতে চেয়েছেন, যাতে তার অভিনয়শৈলী নতুন দিক থেকে প্রকাশ পায়।
‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ ইন দ্য মাল্টিভার্স অফ ম্যাডনেস’ এ ম্যাকডাম্স ড. ক্রিস্টিন পার্লার চরিত্রে উপস্থিত ছিলেন, যিনি স্টিফেন স্ট্রেঞ্জের (বেনেডিক্ট কাম্বারচ্যাট) প্রাক্তন প্রেমিকা। যদিও চরিত্রটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, রেইমি মনে করেন তার স্ক্রিন টাইম এবং চরিত্রের গভীরতা যথেষ্ট ছিল না। তিনি বলেন, ম্যাকডাম্সের অভিনয়শক্তি আরও বিস্তৃতভাবে ব্যবহার করা হলে ছবির সামগ্রিক প্রভাব বাড়তে পারত।
‘সেন্ড হেল্প’ এ ম্যাকডাম্সের নতুন চরিত্রটি এক অন্ধকারময় ভিলেন, যা তার পূর্বের রোমান্টিক কমেডি ও ড্রামা ভূমিকার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। রেইমি উল্লেখ করেন, এই রূপান্তর দর্শকদের জন্য অপ্রত্যাশিত হবে, কারণ তারা তাকে ইতিমধ্যে একটি সদয় ও সহানুভূতিশীল চরিত্র হিসেবে চেনেন। নতুন ছবিতে তার চরিত্রের অপ্রত্যাশিত মোড় দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করবে এবং গল্পের অগ্রগতিতে নতুন উত্তেজনা যোগ করবে।
রেইমি আরও ব্যাখ্যা করেন, ‘সেন্ড হেল্প’ এর মূল কাঠামো একটি রহস্যময় থ্রিলার, যেখানে গল্পের দিকনির্দেশনা ধারাবাহিকভাবে পরিবর্তিত হয়। তিনি বলেন, দর্শকরা কখনোই ঠিক কী ঘটবে তা পূর্বাভাস দিতে পারবে না, কারণ ছবির প্লট বাম থেকে ডানে নয়, বরং অপ্রত্যাশিত বাঁকে মোড় নেয়। এই অপ্রত্যাশিত মোড়ের কেন্দ্রে ম্যাকডাম্সের চরিত্রের পরিবর্তন রয়েছে, যা তাকে এক দয়ালু মানুষ থেকে ভয়ঙ্কর শত্রুতে রূপান্তরিত করে।
হলিউড রিপোর্টার এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে বিশ্লেষণ করেছে, যেখানে রিভিউয়ারের মতে ম্যাকডাম্সের পূর্বের রোমান্টিক কমেডি ও গম্ভীর নাটকের পারফরম্যান্স সমানভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তবে ‘সেন্ড হেল্প’ এ তার ভূমিকা তাকে এমন এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করে, যা তিনি আগে কখনো করেননি। রিভিউয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, এই নতুন চরিত্রটি তার অভিনয়শৈলীর সীমা প্রসারিত করে এবং তাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে সাহায্য করে।
‘সেন্ড হেল্প’ এর প্রযোজনা দল রেইমি এবং ম্যাকডাম্সের সহযোগিতাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে। রেইমি নিশ্চিত করেছেন যে এই প্রকল্পে তিনি ম্যাকডাম্সের প্রতিভাকে সর্বোচ্চভাবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছেন, যাতে দর্শকরা তার বহুমুখী দক্ষতা উপভোগ করতে পারেন। ছবির শুটিং ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং মুক্তির তারিখ শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে।
সাম রেইমি এবং র্যাচেল ম্যাকডাম্সের এই নতুন সহযোগিতা মার্ভেল ফ্যান এবং থ্রিলার প্রেমিকদের জন্য এক উত্তেজনাপূর্ণ সংবাদ। রেইমি আশা প্রকাশ করেছেন, ‘সেন্ড হেল্প’ দর্শকদের জন্য এক অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতা হবে, যেখানে ম্যাকডাম্সের চরিত্রের অন্ধকার দিকটি তাদের চমকে দেবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রেইমি তার পূর্বের কাজের সীমা অতিক্রম করে নতুন সৃজনশীল দিগন্তে পা বাড়াচ্ছেন।
সারসংক্ষেপে, রেইমি র্যাচেল ম্যাকডাম্সের ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ সিক্যুয়েলে সীমিত ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, এবং ‘সেন্ড হেল্প’ এ তাকে প্রধান ভিলেন হিসেবে উপস্থাপন করে তার প্রতিভাকে নতুনভাবে প্রকাশের সুযোগ তৈরি করেছেন। এই পদক্ষেপটি চলচ্চিত্র জগতে উভয়ের জন্যই নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।



