14.5 C
Dhaka
Sunday, February 8, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিফ্রান্সের সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী জ্যাক ল্যাং এপস্টাইন কেলেঙ্কারিতে নামের কারণে পদত্যাগ

ফ্রান্সের সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী জ্যাক ল্যাং এপস্টাইন কেলেঙ্কারিতে নামের কারণে পদত্যাগ

ফরাসি রাজনীতিবিদ জ্যাক ল্যাং, যিনি পূর্বে সংস্কৃতিমন্ত্রী এবং আরব ওয়ার্ল্ড ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, এপস্টাইন কেলেঙ্কারিতে তার নামের উপস্থিতি প্রকাশের পর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। পদত্যাগের বিষয়টি শনিবার ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ল্যাংের পদত্যাগের কারণ হল জেফ্রি এপস্টাইনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং কর ফাঁকির অভিযোগে চলমান তদন্ত। একই দিনে ফরাসি আর্থিক প্রসিকিউটর দফতর ল্যাং এবং তার কন্যা ক্যারোলিন ল্যাংয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে।

প্রসিকিউটরের বিবৃতি অনুযায়ী, তদন্তের মূল বিষয় হল ২০১২ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ল্যাং এবং এপস্টাইনের মধ্যে নিয়মিত আর্থিক লেনদেন ও যোগাযোগের রেকর্ড। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত নথিতে এই সময়কালে দুজনের মধ্যে বহু আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এপস্টাইন ফাইলের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ল্যাংের নাম ৬০০ বারের বেশি উল্লেখিত হয়েছে, যা তার সংযুক্তি ও লেনদেনের ব্যাপকতা নির্দেশ করে। এই তথ্যের প্রকাশের পরই ল্যাংের পদত্যাগের দাবি বাড়ে এবং রাজনৈতিক চাপ তীব্র হয়।

ল্যাংয়ের কন্যা ক্যারোলিনের এপস্টাইনের সঙ্গে সংযোগ প্রকাশের পর, ল্যাং ফরাসি ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রোডাকশন ইউনিয়নের প্রধান পদ থেকেও ইস্তফা দেন। এই পদত্যাগটি তার কন্যার সঙ্গে যুক্ত হওয়া অতিরিক্ত অভিযোগের প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হয়।

ল্যাং সব অভিযোগ অস্বীকার করে এবং প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে তিনি তদন্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের নির্দোষতা প্রমাণ করার ইচ্ছা রয়েছে। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টে তিনি এই বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

ল্যাংয়ের আইনজীবী লরেন্ট মার্লেটও মিডিয়াকে জানান, এখন পর্যন্ত কোনো আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তিনি যোগ করেন, বিচার বিভাগ যদি প্রয়োজনীয় তথ্য চায় তবে তাদের পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে।

এপস্টাইন কেলেঙ্কারিতে ল্যাংয়ের নামের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুনরায় আলোচনার সৃষ্টি করেছে। পূর্বে এই ফাইলে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু, নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিট এবং ব্রিটেনের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনের নামও উল্লেখিত ছিল।

ফ্রান্সে ল্যাংয়ের পদত্যাগের ফলে সরকারী ও বিরোধী দল উভয়েরই সমালোচনা ও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিরোধীরা দাবি করছেন, উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে এ ধরনের সংযোগের তদন্তে স্বচ্ছতা ও দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন। সরকারী পক্ষ থেকে এখনও কোনো স্পষ্ট নীতি পরিবর্তনের ঘোষণা না থাকলেও, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক নৈতিকতা ও আর্থিক স্বচ্ছতা সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

পরবর্তী ধাপে, ফরাসি বিচারিক সংস্থা ল্যাং ও তার কন্যার বিরুদ্ধে চালু করা তদন্তের ফলাফল প্রকাশের অপেক্ষা থাকবে। যদি প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তা ফরাসি রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের ওপরও একই রকম তদন্তের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে। বর্তমানে ল্যাংয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, তবে তিনি আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থান রক্ষা করার সংকল্প প্রকাশ করেছেন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments