ব্রিটেনের ফরেন অফিস লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রের দূত হিসেবে পদত্যাগের পর দেওয়া পারিশ্রমিক পুনরায় যাচাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ম্যান্ডেলসনকে সেপ্টেম্বর মাসে তার মৃত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে দূত পদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
পর্যালোচনা শুরু হওয়ার পেছনে নতুন তথ্যের উন্মোচন রয়েছে, যেখানে ম্যান্ডেলসনের এপস্টেইনের সঙ্গে ইমেইল যোগাযোগের উল্লেখ পাওয়া গেছে। এই তথ্যের আলোকে যুক্তরাজ্যের পুলিশ দুইটি সম্পত্তি অনুসন্ধান করেছে, যা ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যায়। অনুসন্ধানের ফলে কোনো গ্রেফতার করা হয়নি।
ম্যান্ডেলসনকে দেওয়া পারিশ্রমিকের পরিমাণ সম্পর্কে সরকারী সূত্রে বলা হয়েছে যে, তিনি প্রায় পাঁচ লাখ পাউন্ডের কাছাকাছি, অর্থাৎ তিন মাসের বেতন সমমানের একটি এক্সিট পেমেন্ট পেয়েছেন। তবে সঠিক পরিমাণ সরকারীভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ব্রিটিশ ফরেন অফিসের এক মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন যে, ম্যান্ডেলসনের সিভিল সার্ভিসের চাকরি আইনি পরামর্শ ও তার কর্মচুক্তির শর্ত অনুযায়ী শেষ করা হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, সব প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে এবং পারিশ্রমিক সংক্রান্ত অতিরিক্ত তথ্য পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হবে।
এই পারিশ্রমিক পর্যালোচনা গত সপ্তাহে পার্লামেন্টে গৃহীত এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে করা হয়েছে, যা ক্যাবিনেট অফিসের সমন্বয়ে সরকারকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে বলেছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নিতে পারে, বিশেষ করে সরকারী নীতি ও নৈতিক মানদণ্ডের প্রশ্নে।
লর্ড ম্যান্ডেলসন, যিনি লেবার পার্টির একজন বিশিষ্ট সদস্য, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দূত হিসেবে নিযুক্ত হন, তবে তার এপস্টেইনের সঙ্গে সংযোগ প্রকাশের পর মাত্র ছয় মাসে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। তার পদত্যাগের পরপরই পারিশ্রমিকের বিষয়টি উন্মোচিত হয়।
পুলিশের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের মধ্যে ফিস্কাল নীতি সংক্রান্ত ইমেইল বিনিময় উল্লেখ রয়েছে, যা এপস্টেইনের ফাইলের সর্বশেষ প্রকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই বিষয়টি তদন্তের নতুন দিক উন্মোচন করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত তদন্তে উদ্বুদ্ধ করেছে।
ব্রিটিশ সরকার এখন এই পারিশ্রমিকের যথার্থতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চালাচ্ছে। পর্যালোচনার ফলাফল পার্লামেন্টে উপস্থাপিত হবে এবং সম্ভবত ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।
বহু বিশ্লেষক এই ঘটনাকে সরকারী নৈতিক মানদণ্ডের পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন, যদিও এই প্রতিবেদনে কোনো মতামত প্রকাশ করা হয়নি। মূল বিষয় হল, পারিশ্রমিকের পরিমাণ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্টতা না থাকলে জনসাধারণের বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ফরেন অফিসের মুখপাত্রের মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সব প্রক্রিয়া আইনি পরামর্শের ভিত্তিতে এবং সিভিল সার্ভিসের নিয়ম অনুসারে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন যে, পার্লামেন্টের প্রশ্নের উত্তর হিসেবে সরকার অতিরিক্ত তথ্য সরবরাহ করবে।
এই ঘটনায় যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা হতে পারে, বিশেষ করে সরকারী কর্মকর্তাদের পারিশ্রমিক, নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে। ভবিষ্যতে পার্লামেন্টে এই বিষয়টি নিয়ে আরও বিশদ আলোচনা ও সম্ভাব্য আইনগত পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
সারসংক্ষেপে, লর্ড ম্যান্ডেলসনের পারিশ্রমিকের পুনঃমূল্যায়ন ব্রিটিশ ফরেন অফিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা তার দূত পদত্যাগের পরবর্তী আর্থিক নিষ্পত্তি ও সংশ্লিষ্ট তদন্তের সঙ্গে যুক্ত। এই পর্যালোচনা শেষ হলে পার্লামেন্টে উপস্থাপিত হবে এবং দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।



