সোমবার সন্ধ্যায় নিউক্যাসল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে হোম টিম ৩-২ স্কোরে ব্রেন্টফোর্ডের কাছে পরাজিত হয়। গেমের শেষ মুহূর্তে ওয়াটারারার গোল ব্রেন্টফোর্ডকে জয় নিশ্চিত করে, ফলে নিউক্যাসল পাঁচটি প্রতিযোগিতায় চারটি পরাজয় নিয়ে ১২তম স্থানে নেমে আসে।
ম্যাচের সূচনায় উভয় দলে বেশ কিছু সুযোগ তৈরি হলেও, শেষ পর্যন্ত ব্রেন্টফোর্ডের আক্রমণাত্মক চাপই ফলপ্রসূ হয়। ওয়াটারারার সমাপ্তিকালীন গোলের আগে নিউক্যাসল দু’বার গোল করে সাময়িকভাবে নেতৃত্ব নিতে পারে, তবে রক্ষণাত্মক দুর্বলতা শেষ পর্যন্ত দলকে হারের দিকে ঠেলে দেয়।
ফাইনাল সিগনালের পর স্টেডিয়ামে ভক্তদের কাছ থেকে তীব্র নিন্দা শোনা যায়, যেখানে গর্জন ও তালি মিশ্রিত শব্দমালার মধ্যে হাওয়ের মুখে কোনো অভিযোগের ছাপ দেখা যায় না। তিনি ভক্তদের অনুভূতি প্রকাশের অধিকার স্বীকার করে, তবে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া শোনার কঠিনতা স্বীকার করেন।
হাওয়ে ড্রেসিং রুমে দীর্ঘ আলোচনা পরিচালনা করে, যেখানে তিনি দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ওপর দায়িত্ব নিজের ওপর আরোপ করেন। “আমাদের খেলা প্রত্যাশার নিচে, এবং তা আমাদের স্বভাবের বিরোধী,” তিনি উল্লেখ করে রক্ষণাত্মক ত্রুটিগুলোকে ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগতভাবে সমালোচনা করেন।
কোচের মতে, ম্যাচের কিছু মুহূর্তে রক্ষণে যথেষ্ট মনোযোগের অভাব ছিল, যা ফলস্বরূপ গোলের সুযোগ তৈরি করে। তিনি স্বীকার করেন যে এই ধরনের দুর্বলতা শুধুমাত্র খেলোয়াড়দের নয়, কোচিং স্টাফের দায়িত্বেও পড়ে। “দায়িত্ব আমাদের দুজনেরই, এবং তা স্বীকার করাই উন্নতির একমাত্র পথ,” তিনি বলেন।
হাওয়ে নিজের প্রতি কঠোর সমালোচনা করে, “এটি আমার জন্য কঠিন বাস্তবতা,” বলে আত্মবিশ্লেষণ করেন। তিনি নিজের প্রচেষ্টা নিয়ে প্রশ্ন না তুললেও, কাজের গুণগত মান বাড়াতে হবে বলে জোর দেন। “আমি নিজেকে যথেষ্ট কঠোরভাবে চ্যালেঞ্জ করছি, তবে এখনো মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ,” তিনি স্বীকার করেন।
কোচের মতে, নিজের ওপর আরোপিত চাপ সর্বোচ্চ, কারণ তিনি উচ্চ মানদণ্ড বজায় রাখতে চান। বর্তমান সময়ে তিনি নিজের কাজের যথাযথতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে, “আমি নিজেকে রাগান্বিত ও দোষারোপ করছি,” বলেন। তিনি দলকে সমাধান খুঁজে বের করার দায়িত্বও তুলে নেন।
খেলোয়াড়দের প্রতি হাওয়ের প্রত্যাশা স্পষ্ট: নিজেদের সর্বোচ্চ স্তরে ফিরে আসতে হবে এবং তা বাস্তবায়নে সৎ হতে হবে। “আমি চাই তারা নিজেদের সঙ্গে সৎ হোক এবং তাদের সর্বোত্তম পারফরম্যান্সের সঙ্গে তুলনা করুক,” তিনি উল্লেখ করেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, বর্তমান সময়ে বেশিরভাগই তাদের সর্বোচ্চ স্তরে নেই।
পরাজয়ের পর নিউক্যাসল চারটি ম্যাচে দুইটি জয় পেয়েছে, তবে সাম্প্রতিক পাঁচটি গেমে চারটি হার তাদের লিগে ১২তম স্থানে নামিয়ে দিয়েছে। হাওয়ে দলের রক্ষণাত্মক দুর্বলতা ও মানসিক চাপকে মূল কারণ হিসেবে দেখছেন এবং শীঘ্রই সমাধান বের করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পরবর্তী ম্যাচে দলটি পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে।



