রাঙ্গামাটি জেলার শুবলং আনসার ব্যাটালিয়নের ৫৭ বছর বয়সী সাবেডার মো. এরশাদ আলী, নির্বাচনী দায়িত্বে জুরাছড়ি উপজেলায় গিয়ে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে মারা যান। ঘটনাটি শনিবার দুপুরে ঘটেছে এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম ও বয়স, দায়িত্বের ধরণ এবং ঘটনার সময়কাল সবই সরকারি সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে।
রাঙ্গামাটি জেলা কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত দায়িত্বে) বিকাশ চন্দ্র দাসের নির্দেশে মো. এরশাদ আলীকে জুরাছড়ি উপজেলায় সেকশন কমান্ডার হিসেবে পাঠানো হয়। তিনি শুবলং আনসার ব্যাটালিয়নে সাবেডার পদে কর্মরত ছিলেন এবং নির্বাচনী পর্যায়ে নিরাপত্তা তদারকি করার দায়িত্ব পেয়েছিলেন। দায়িত্বপ্রাপ্তি সম্পর্কে জানিয়ে দাস বলেন, আলীকে এই মিশনটি সম্পন্ন করার জন্য বিশেষভাবে নির্বাচিত করা হয়েছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি জুরাছড়ি উপজেলায় পৌঁছান এবং স্থানীয় সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ শুরু করেন।
উপজেলায় পৌঁছানোর পর কয়েক ঘণ্টা কাজের মধ্যে আলী সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। কথোপকথনের মাঝখানে তিনি হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। উপস্থিত সহকর্মীরা অবিলম্বে তাকে জুরাছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছে চিকিৎসক দলের তৎক্ষণাৎ পরীক্ষা চালানো হয়।
চিকিৎসক দল আলীর শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নের পর তাকে মৃত ঘোষণা করে। প্রাথমিক চিকিৎসা রিপোর্টে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ (ব্রেইন হেমোরেজ) হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণের জন্য পূর্ণাঙ্গ অটোপসি করা হবে। মৃত্যুর মুহূর্তে কোনো বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
মৃত ব্যক্তির দেহকে দ্রুত রাঙ্গামাটি জেলা সদর পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার জন্য স্পিড বোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেহের পরিবহন প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান এবং রাঙ্গামাটিতে পৌঁছানোর পর যথাযথ শোকসভা ও শেষকৃত্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। পরিবারকে ঘটনাটি জানানো হয়েছে এবং শোক প্রকাশের জন্য সময়সূচি নির্ধারিত হবে।
জুরাছড়ি উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোছলেহ উদ্দীহ ফারুখ জানান, চিকিৎসকের প্রাথমিক ধারণা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়াই মৃত্যুর মূল কারণ হতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেহের অটোপসির ফলাফল পাওয়া মাত্রই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। ফারুখের মতে, কোনো অপরাধমূলক কার্যকলাপের সন্দেহ বর্তমানে নেই।
বিকাশ চন্দ্র দাসও একই সময়ে জানান, আলীর অচেতন হওয়ার পরপরই তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া হয় এবং ডাক্তারই তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দাসের মতে, আলী নির্বাচনী দায়িত্বে গিয়ে কোনো নিরাপত্তা লঙ্ঘন বা হুমকির মুখে ছিলেন না। তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও, আলীর পরিবারকে যথাযথ সহায়তা প্রদান করা হবে।
মৃত্যুর পরপরই রাঙ্গামাটি পুলিশ দপ্তরকে বিষয়টি জানানো হয় এবং তদন্তের দায়িত্ব তাদের ওপর অর্পণ করা হয়েছে। পুলিশ দল ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক প্রমাণ সংগ্রহ করে, সাক্ষী ও সহকর্মীদের বিবৃতি নেবে। অটোপসির ফলাফল পাওয়া পর্যন্ত কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, তবে প্রয়োজনীয় সব প্রমাণ সংরক্ষণ করা হবে।
আনসার ব্যাটালিয়নের শুবলং শাখা থেকে জানানো হয়েছে, মো. এরশাদ আলী ৩৫ বছর ধরে নিরাপত্তা বাহিনীতে সেবা প্রদান করছেন এবং তার কর্মজীবনে কোনো শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের রেকর্ড নেই। পরিবারকে শোকের সময়ে পুরোপুরি সমর্থন দেওয়ার জন্য ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষ সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে। এছাড়া, ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনঃমূল্যায়ন করা হবে।
অধিক তদন্তের অংশ হিসেবে, রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশ তদন্তকর্তা ঘটনাস্থলে ফরেনসিক বিশ্লেষণ চালাবেন এবং প্রয়োজনীয় মেডিকেল রেকর্ড সংগ্রহ করবেন। অটোপসির ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে, যদি কোনো অপরাধমূলক দিক উদ্ভাসিত হয় তবে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে। বর্তমানে, সব দিক থেকে তদন্ত চলমান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।
এই ঘটনার পর, নির্বাচনী দায়িত্বে গিয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও জরুরি চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হবে। একই সঙ্গে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময় সকল কর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত নির্দেশিকা জারি করা হবে।
মৃত্যুর শোকের মধ্যে, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন ও আনসার ব্যাটালিয়ন পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে, প্রয়োজনীয় সব সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত, তদন্তের ফলাফল ও আইনি পদক্ষেপের তথ্য জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।
এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে, রাঙ্গামাটি অঞ্চলে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্ব পুনরায় জোর দেওয়া হয়েছে।



