টেক্সাসের এল পাসোতে বুধবার ক্যামিলা ক্যার ৮৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু আলঝেইমার রোগের জটিলতা এবং একটি বিচ্ছিন্ন হিপের কারণে ঘটেছে। ক্যার ছিলেন টেক্সাসে জন্ম নেওয়া অভিনেত্রী, যিনি ১৯৭০-এর দশকের হরর চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন সিরিজে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন।
ক্যামিলা ক্যার ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৪২-এ টেক্সাসের মেমফিসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কেরমিট হাই স্কুলে শিক্ষা লাভের পর নর্থ টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। শৈশব থেকে অভিনয়ে আগ্রহী ক্যার স্থানীয় থিয়েটার গোষ্ঠীতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিল্পের সঙ্গে পরিচিত হন।
ডালাসের থিয়েটার থ্রি-এ কাজের সময় তিনি ভবিষ্যৎ স্বামী হিউ ফিগিনের সঙ্গে পরিচিত হন। দুজনেই অভিনেতা হিসেবে একসঙ্গে কাজ করতেন এবং ১৯৭০ সালে টেক্সাসে শ্যুট করা “এ বুলেট ফর প্রিটি বয়” ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেন। ফিগিনও পরে ক্যারের হরর চলচ্চিত্রে উপস্থিত হন।
ক্যামের ক্যারকে হরর জগতে পরিচিত করে তোলেন পরিচালক এস.এফ. ব্রাউনরিগের সঙ্গে তার সহযোগিতা। ব্রাউনরিগের সীমিত বাজেটের তিনটি চলচ্চিত্রে ক্যার প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন: “ডোন্ট লুক ইন দ্য বেসমেন্ট” (১৯৭৩), “পূর হোয়াইট ট্র্যাশ পার্ট II” (১৯৭৪) এবং “কিপ মাই গ্রেভ ওপেন” (১৯৭৭)। এই ছবিগুলি আজকাল কাল্ট এক্সপ্লয়টেশন হিসেবে স্বীকৃত।
“ডোন্ট লুক ইন দ্য বেসমেন্ট”-এ ক্যার এক অস্থির রোগী হিসেবে অভিনয় করেন, যিনি নার্সকে হত্যা করে। “পূর হোয়াইট ট্র্যাশ পার্ট II”-তে তিনি এক চালাক হিলবিলি কন্যা চরিত্রে উপস্থিত হন, যা ছবির বিকল্প শিরোনাম “স্কাম অফ দ্য আর্থ”-এও পরিচিত। “কিপ মাই গ্রেভ ওপেন”-এ তিনি এমন এক নারী চরিত্রে অভিনয় করেন, যার দ্বৈত ব্যক্তিত্ব রয়েছে এবং তিনি নিজের ভাইয়েরও ভূমিকায় আত্মপ্রকাশ করেন। এই তিনটি কাজই ব্রাউনরিগের সৃজনশীলতা ও সীমিত সম্পদে ভয়াবহতা তৈরি করার ক্ষমতার উদাহরণ।
হরর জগতের বাইরে ক্যার টেলিভিশন পর্দায়ও নজর কেড়েছেন। তিনি সিবিএস (সিবিএস) এর জনপ্রিয় সিরিজ “ডিজাইনিং উইমেন”-এ এক এপিসোডে উপস্থিত হন। অক্টোবর ১৯৮৭-এ সম্প্রচারিত “দে’র কিলিং অল দ্য রাইট পিপল” শিরোনামের পর্বে তিনি শুগারবেকার ক্লায়েন্টের ভূমিকায় অভিনয় করেন, যেখানে তিনি এইডস আক্রান্ত সমকামী পুরুষদের সম্পর্কে তীব্র মন্তব্য করেন।
সেই দৃশ্যে ক্যার একটি তীব্র মন্তব্য করেন, যেখানে তিনি রোগের প্রতি তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন, যা তখনের সামাজিক আলোচনায় সাড়া ফেলেছিল। তার এই মন্তব্যকে পরবর্তীতে মিডিয়া বিশ্লেষণ করেছে, তবে ক্যার নিজে তা প্রকাশ করেননি।
ক্যারের শেষের বছরগুলোতে তিনি আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং শারীরিক সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছিলেন। হিপের বিচ্ছিন্নতা তার চলাচলকে কঠিন করে তুলেছিল, যা শেষ পর্যন্ত তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায়। তার মৃত্যুর সংবাদ তার পরিবার ও শিল্পের সহকর্মীদের মধ্যে শোকের স্রোত তৈরি করে।
ক্যারের সন্তান ক্যালি ও’ডুইয়ার, যিনি লেখক, কবি এবং চিত্রশিল্পী, পুত্রের মাধ্যমে তার মৃত্যুর তথ্য জানিয়ে দেন। ক্যালি ক্যারের শিল্পী জীবনের প্রতি গর্ব প্রকাশ করেন এবং তার কাজের স্মরণে শ্রদ্ধা জানান।
ক্যামিলা ক্যারকে হরর চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণ করা হবে। তার অভিনয় শৈলী ও চরিত্রের গভীরতা আজও কাল্ট ফিল্মের ভক্তদের মধ্যে আলোচিত হয়। টেক্সাসের স্থানীয় থিয়েটার থেকে শুরু করে জাতীয় টেলিভিশন পর্যন্ত তার ক্যারিয়ার একটি বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময় পথচলা হিসেবে বিবেচিত। ভবিষ্যতে তার কাজের পুনরায় মূল্যায়ন ও পুনরায় প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে, যা নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে তার শিল্পের মূল্য তুলে ধরবে।



