ব্রেন্টফোর্ডের ঘরে অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে দলটি নিউক্যাসলকে পরাজিত করে টেবিলের ১২তম স্থানে নামিয়ে দেয়। এই জয় ব্রেন্টফোর্ডের ছয়টি ম্যাচের মধ্যে চতুর্থ জয়, যা কোচ থমাস ফ্র্যাঙ্কের নেতৃত্বে দলকে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে।
ব্রেন্টফোর্ডের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে; ছয়টি ম্যাচে চারটি জয় তাদেরকে লিগের সপ্তম স্থানে রাখে এবং ইউরোপীয় টুর্নামেন্টের জন্য সত্যিকারের প্রার্থী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অন্যদিকে, নিউক্যাসল ধারাবাহিকভাবে ফলাফল হারাচ্ছে; শেষ আটটি সব প্রতিযোগিতায় মাত্র একবার জয় পেয়েছে এবং শেষ পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে চারটি পরাজিত হয়েছে। এই ধারাবাহিক পরাজয় দলকে টেবিলের মাঝামাঝি ১২তম স্থানে নামিয়ে দিয়েছে।
ম্যাচের শুরুর দুই মিনিটে নিউক্যাসলের ডিফেন্ডার কিয়েরান ট্রিপ্পিয়ার লুইস-পটারকে পেনাল্টি এলাকায় শার্টের স্লিভ টেনে ফেলেন, ফলে লুইস-পটার পড়ে যায়। রেফারিরা পেনাল্টি বা রেড কার্ড না দিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়, যা ব্রেন্টফোর্ডের কোচ এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে তীব্র রাগের কারণ হয়ে ওঠে। এই সিদ্ধান্তের পর ব্রেন্টফোর্ডের খেলোয়াড়দের মুখে দৃশ্যমান অসন্তোষ দেখা যায়।
স্টেডিয়ামের ভিড়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে; নিউক্যাসলের ভক্তরা লুইস-পটারের পূর্বের দল নিউক্যাসল থেকে গিয়ে ব্রেন্টফোর্ডে খেলোয়াড় ইয়োয়ান উইসাকে সমালোচনা করে, আর ব্রেন্টফোর্ডের সমর্থকরা একসময় সানডারল্যান্ডের মিডফিল্ডার জর্ডান হেন্ডারসনকে তীব্রভাবে নিন্দা করে। উভয় দলের ভক্তদের মধ্যে এই ধরনের তীব্রতা ম্যাচের পরিবেশকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
ব্রেন্টফোর্ডের আক্রমণে ড্যাঙ্গো ওয়াটারার এবং কিয়েন লুইস-পটারের পারফরম্যান্স বিশেষভাবে উজ্জ্বল ছিল। ওয়াটারার মাঝখানে বল দখল করে দ্রুত অগ্রসর হয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাস তৈরি করেন, আর লুইস-পটার ডানফ্ল্যাঙ্কে ধারাবাহিকভাবে দৌড়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকে বিচলিত করেন। তাদের সমন্বয় ব্রেন্টফোর্ডের আক্রমণকে গতিশীল করে তুলেছে এবং নিউক্যাসলের রক্ষাকে অস্থির করে দিয়েছে।
নিউক্যাসলের আক্রমণেও সমস্যার চিহ্ন দেখা যায়; হ্যাভরি বার্নসের শটটি লক্ষ্য থেকে সামান্য বিচ্যুত হয়ে যায়, ফলে সুযোগ হারিয়ে যায়। দলের মাঝখানে বলের নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি দেখা দেয় এবং লুইস-পটারের মতো খেলোয়াড়দের চলাচলকে কীভাবে মোকাবেলা করা হবে তা নিয়ে দলটি বিভ্রান্ত থাকে। এই অস্থিরতা নিউক্যাসলের গেম প্ল্যানকে দুর্বল করে দেয়।
ম্যাচের শেষের দিকে নিউক্যাসলের ক্যাপ্টেন ব্রুনো গুইমারেস অ্যানকেল ইনজুরি থেকে ফিরে মাঠে নামেন। গুইমারেসের কোণার কিকটি দ্রুত গতি পায় এবং স্ভেন বটম্যানের হেডার দিয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করে। বটম্যানের হেডারটি ন্যূনতম স্পর্শে বলকে জালে পাঠায়, যা ব্রেন্টফোর্ডের জয়ের চূড়ান্ত মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায়। এই গোলটি দলকে ১-০ এগিয়ে নিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ফলাফল নির্ধারণ করে।
এই জয়ের পর ব্রেন্টফোর্ডের কোচ থমাস ফ্র্যাঙ্কের প্রশংসা বাড়ে; তিনি দলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয়েছেন। অন্যদিকে, নিউক্যাসলের কোচ এডি হোয়ের জন্য এই পরাজয় একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ দলটি এখন টেবিলের মাঝামাঝি অবস্থানে আটকে আছে এবং পরের ম্যাচে টটেনহ্যামকে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। টটেনহ্যামের সঙ্গে আসন্ন ম্যাচটি উভয় কোচের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ফলাফল দলগুলোর মৌসুমের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।
সারসংক্ষেপে, ব্রেন্টফোর্ডের জয় নিউক্যাসলের দুর্বলতা এবং ব্রেন্টফোর্ডের আক্রমণাত্মক শক্তির সমন্বয়কে তুলে ধরেছে। ড্যাঙ্গো ওয়াটারার, কিয়েন লুইস-পটার এবং স্ভেন বটম্যানের পারফরম্যান্স দলকে জয়ের পথে নিয়ে গিয়েছে, আর নিউক্যাসলের ধারাবাহিক পরাজয় তাদের টেবিলের অবস্থানকে আরও কঠিন করে তুলেছে। পরের সপ্তাহে টটেনহ্যামের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়া দু’দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হবে, বিশেষ করে নিউক্যাসলের জন্য র্যাঙ্কিং উন্নত করার সুযোগ।



