16 C
Dhaka
Sunday, February 8, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিতারেক রহমানের বক্তব্য: সেনাবাহিনীকে পেশাদার ও রাজনীতির থেকে স্বাধীন রাখতে হবে

তারেক রহমানের বক্তব্য: সেনাবাহিনীকে পেশাদার ও রাজনীতির থেকে স্বাধীন রাখতে হবে

রাত ৮টার দিকে রেডিসন ব্লু হোটেলে অনুষ্ঠিত একটি সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান, তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানসহ, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মী ও ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শিকার পরিবারের প্রতিনিধিদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি জানিয়ে দেন, ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করলে সেনাবাহিনীকে কোনো রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হবে না এবং তা সম্পূর্ণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করবে।

সমাবেশে তিনি বাংলাদেশের রিফলস (BDR) নামের পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি তুলে ধরেন, যা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ের ঐতিহাসিক সংযোগের ভিত্তিতে পুনরুদ্ধার করা উচিত বলে তিনি বলেন। তারেকের মতে, সেনাবাহিনীর গৌরব পুনরুদ্ধার করা দেশের গর্বের বিষয় এবং তা রক্ষা করা প্রত্যেক সৈনিকের দায়িত্ব।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সেনাবাহিনীকে রাজনীতির প্রভাব থেকে দূরে রাখতে হবে, যাতে পেশাদারিত্ব কোনো রাজনৈতিক ছদ্মবেশে ঢাকা না পড়ে। তারেকের মতে, এই বিষয়টি সেনাবাহিনীর মর্যাদা ও স্বীকৃতির জন্য অপরিহার্য এবং প্রত্যেক সদস্যের জন্য সচেতন থাকা জরুরি।

বিএনপি চেয়ারপার্সন জোর দিয়ে বলেন, অতীতে বা বর্তমান সময়ে বিএনপি সেনাবাহিনীর গৌরবকে ক্ষুন্ন করেনি এবং ভবিষ্যতেও তা করবে না। তিনি যুক্তি দেন, যখন বিএনপি রাজনৈতিক মঞ্চে শক্তিশালী থাকবে, তখন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বজায় থাকবে এবং সেনাবাহিনীর গৌরব সংরক্ষিত থাকবে।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শিকারদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি পরিকল্পনা করছে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দিনকে জাতীয় শোক দিবস বা শহীদ দিবস হিসেবে ঘোষণা করার। তিনি বলেন, এই ধরনের দুঃখজনক ঘটনা ভবিষ্যতে আর না ঘটার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে এই দিনকে জাতীয় শোকের দিন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।

তারেকের মতে, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে BDR পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনী যথাযথভাবে এই দিনটি পালন করতে পারেনি বা অনুমতি পায়নি। তিনি এই বিষয়টি তুলে ধরে, BDR নামের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও ইউনিফর্ম পরিবর্তনের পেছনে যে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ঘটেছে তা সমালোচনা করেন।

সমাবেশে উপস্থিত অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মীরা তারেকের এই বক্তব্যে সম্মতি জানিয়ে, সেনাবাহিনীর স্বতন্ত্রতা ও পেশাদারিত্ব রক্ষার প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা উল্লেখ করেন, সেনাবাহিনীর গৌরব পুনরুদ্ধার করা জাতীয় গর্বের বিষয় এবং তা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখতে হবে।

শহরের বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক এই বক্তব্যকে ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না করা তারেকের মূল দাবি বাস্তবায়িত হবে।

অন্যদিকে, সরকারী পক্ষ থেকে এখনও কোনো মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। তবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এই ধরনের সমাবেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানা যায়।

সমাবেশের শেষে তারেক রহমান পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, সেনাবাহিনীকে তার ঐতিহাসিক গৌরব রক্ষা করতে হবে এবং তা কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা যাবে না। তিনি সকল সামরিক কর্মীকে সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

এই বক্তব্যের পর শীঘ্রই বিএনপি নেতৃত্বের কাছ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যেখানে পিলখানা শোক দিবসের ঘোষণা এবং সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব রক্ষার পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হবে।

সামগ্রিকভাবে, তারেকের এই বক্তব্য দেশের নিরাপত্তা নীতি, সেনাবাহিনীর স্বতন্ত্রতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে নতুন আলোচনার সূচনা করতে পারে। ভবিষ্যতে কীভাবে এই দাবিগুলি বাস্তবায়িত হবে, তা দেশের রাজনৈতিক গতিপথের ওপর নির্ভরশীল থাকবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments