বোম্বে হাই কোর্ট শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে, সালমান খানকে লক্ষ্য করে গৃহীত হত্যার পরিকল্পনা সংক্রান্ত মামলায় দুই সন্দেহভাজনের জামিন অনুমোদন করে। গৌরব ভাটিয়া (উপনাম সানদীপ বিশনই) এবং ওয়াসপি মুহম্মদ খান (উপনাম ওয়াসিম চিকনা) এই সিদ্ধান্তের মূল বিষয়।
ন্যায়াধীশ এন আর বোরকারের তত্ত্বাবধানে আদালত প্রমাণের ঘাটতি উল্লেখ করে জামিন প্রদান করে। উভয় সন্দেহভাজন কেবল একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অংশগ্রহণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত হয়েছিলেন, তবে গ্রুপের কথোপকথনগুলো অস্পষ্ট এবং সরাসরি অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কোনো বস্তু বা নথি পাওয়া যায়নি।
প্রতিবাদী দল দাবি করে যে এই অভিযোগগুলো অতিরঞ্জিত এবং মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে। তাদের আইনজীবীরা উল্লেখ করেন যে, অন্য এক অভিযুক্ত দীপক গোগয়ি ২০২৪ সালে সেশন কোর্টে জামিন পেয়েছেন এবং ওয়াসপি ও গৌরবের লরেন্স বিশনই গ্যাংয়ের সঙ্গে সরাসরি কোনো সংযোগ নেই।
এই মামলাটি লরেন্স বিশনই গ্যাংয়ের পরিকল্পনা হিসেবে চিহ্নিত, যা ২০২৪ সালে সালমান খানের প্যানভেল ফার্মহাউস, বান্দ্রা বাসস্থান এবং বিভিন্ন চলচ্চিত্র শুটিং স্থানে নজরদারি চালানোর অভিযোগে শুরু হয়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন যে, সন্দেহভাজনরা এই স্থানগুলোতে গিয়ে সম্ভাব্য আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
পূর্বে একই গ্যাংয়ের দুই সদস্য ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে বান্দ্রা অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে গুলি চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার হয়। ফায়ার রেজিস্ট্রেশন নোটিসে লরেন্স বিশনই, যিনি বর্তমানে আহমেদাবাদ জেলে আটক, তার অনুপস্থিত ভাই অন্মল বিশনই এবং সাম্পাট নেহরা, গল্ডি ব্রার, রোহিত গোধরা সহ মোট ১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে একজন পাকিস্তান ভিত্তিক কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে আক্রমণের জন্য এ কে-৪৭ রাইফেল সংগ্রহের চেষ্টা করেছিল বলে পুলিশ সূত্র প্রকাশ করেছে। তবে এই যোগাযোগের প্রমাণ এখনও আদালতে উপস্থাপিত হয়নি।
বোম্বে হাই কোর্টের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের বিষয়বস্তু অপর্যাপ্ত এবং কোনো ধরা-পড়া অপরাধমূলক সামগ্রী পাওয়া যায়নি। তাই, আদালত জামিনের শর্তে অভিযুক্তদের মুক্তি দেয়, তবে মামলাটি চলমান অবস্থায় রয়েছে।
আইনগত দৃষ্টিকোণ থেকে, জামিন মানে অভিযুক্তদের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা নয়; বরং প্রমাণের অভাবের ভিত্তিতে অস্থায়ী মুক্তি প্রদান করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা এখনও গ্যাংয়ের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে সংযোগ এবং অস্ত্র সরবরাহের পথ অনুসন্ধান করছে।
প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহের জন্য তদন্ত চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনীয় হলে নতুন অভিযোগ দায়ের করা হতে পারে। মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে আপিলের সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরবর্তী শোনানিতে সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।
এই রায়ের পরেও, লরেন্স বিশনই গ্যাংয়ের অপরাধমূলক কার্যক্রমের ব্যাপক তদন্ত অব্যাহত থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।



