বিএনপি শাসন পেতে পারলে বিডিআর (বিডিআর) নাম পুনরুদ্ধার এবং সামরিক নীতি সংস্কারের পরিকল্পনা করা হবে বলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার পিলখানা শহীদ পরিবারের সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমাবেশে জানালেন। অনুষ্ঠানটি রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিতদের সামনে তিনি ২০০৯ সালে পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞের পর বিডিআর নাম পরিবর্তনের পটভূমি তুলে ধরেন।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ২০০৯ সালের ঘটনায় বিডিআর নামকে “পতিত পরাজিত পলাতক বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট অপশক্তি” বলে বর্ণনা করে পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং ইউনিফর্ম পর্যন্ত পরিবর্তন করা হয়েছিল। তিনি ব্যক্তিগত অনুভূতি শেয়ার করে বলেন, যদি জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংযুক্ত বিডিআর নাম পুনরায় ফিরিয়ে আনা হবে।
এছাড়া তিনি পিলখানা সেনা হত্যার দিনকে “শহীদ সেনা দিবস”, “সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস” অথবা “জাতীয় শোক দিবস” হিসেবে ঘোষণার পরিকল্পনা উল্লেখ করেন। এই ঘোষণার জন্য সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে বলে তিনি জানান।
সমাবেশে তিনি সামরিক সংস্কার সংক্রান্ত কিছু সুপারিশও উপস্থাপন করেন। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন, সেনা আইনের কিছু বিধিমালার পরিমার্জন এবং সংস্কারকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য ভবিষ্যতে একটি কমিটি গঠন করা হবে, যেখানে সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।
তারেক রহমান জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে যদি বিএনপি শাসন দায়িত্ব গ্রহণ করে, তবে উল্লিখিত কমিটি সুপারিশগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী দাবিগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের একটি দাবি ছিল “ওয়ান র্যাংক ওয়ান পে” (একই পদে সমান বেতন) নিশ্চিত করা। তারেক রহমান জানান, এই দাবি দলীয় ম্যানিফেস্টোতে ইতিমধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং সরকার গঠনের পর তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
বিএনপি শাসনের সম্ভাব্য শর্তে তিনি উল্লেখ করেন, “ইনশাল্লাহ” সরকার গঠনের পর “ওয়ান র্যাংক ওয়ান পে” নীতি দ্রুত কার্যকর করা হবে। এছাড়া তিনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন, সেনা আইনের সংস্কার এবং পিলখানা সেনা হত্যার দিনকে স্মরণীয় দিবস ঘোষণার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা পুনরায় জোর দেন।
বিএনপি চেয়ারম্যানের এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিডিআর নাম পুনর্বহাল এবং সামরিক সংস্কার সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বিএনপির ভোটার ভিত্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত সেনা পরিবার এবং পিলখানা এলাকার মানুষদের মধ্যে। তবে সরকার গঠনের পর বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর হবে তা এখনও অনিশ্চিত।
বিএনপি শাসনের সম্ভাব্যতা এবং তারেক রহমানের এই পরিকল্পনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভোটের ফলাফল নির্ধারিত না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিশ্রুতিগুলো কেবল পরিকল্পনা হিসেবে রয়ে যাবে, তবে ভোটারদের কাছে এসব বিষয় স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারম্যানের এই বক্তব্যের পর অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের নিজস্ব নীতি ও পরিকল্পনা তুলে ধরতে শুরু করেছে, যা আসন্ন নির্বাচনের প্রতিযোগিতাকে তীব্র করবে। ভোটের দিন পর্যন্ত রাজনৈতিক গতি কীভাবে পরিবর্তিত হবে তা দেশের নাগরিকদের নজরে থাকবে।



