শুক্রবার রাতের দিকে সুদানের উত্তর কোরদোফান প্রদেশের রাহাদ শহরের কাছাকাছি শরণার্থী পরিবার বহনকারী একটি গাড়িতে দ্রুত সহায়তা বাহিনীর ড্রোন আক্রমণ চালায়। আক্রমণে অন্তত ২৪ জন বেসামরিক নিহত হয়, যার মধ্যে দুই নবজাতকসহ আটজন শিশু অন্তর্ভুক্ত। ঘটনাটি আল-জাজিরা ও সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্কের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়েছে।
শরণার্থীরা ডুবেইকার অঞ্চলে চলমান সংঘর্ষ থেকে পালিয়ে রাহাদের পথে গিয়ে ছিল। গাড়িতে বসে থাকা পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে চলা সময় আকাশ থেকে ড্রোনের আঘাতের শিকার হতে দেখা যায়। এই আক্রমণটি মানবিক সংকটের মাঝখানে বেসামরিকদের ওপর সরাসরি হুমকি বাড়িয়ে তুলেছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানায়, প্রথম আক্রমণটি ভোরে রাহাদ এলাকার তিনটি ট্রাকে করা হয়। এই ট্রাকগুলো শরণার্থীদের সরবরাহ এবং স্থানান্তরের জন্য ব্যবহার হচ্ছিল। ড্রোনের সুনির্দিষ্ট আঘাতে সব তিনটি গাড়ি ধ্বংস হয়ে বেসামরিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষতি হয়।
এরপর একই দিন আল্লাহ কারিম এলাকায় দ্বিতীয় ড্রোন হামলা চালানো হয়, যেখানে চারটি গাড়ি লক্ষ্যবস্তু হয়। এই গাড়িগুলোর মধ্যে একটি জাতিসংঘের ত্রাণবাহী ট্রাকও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা মানবিক সাহায্য সরবরাহের জন্য ব্যবহার হচ্ছিল। আক্রমণের ফলে ত্রাণবাহী গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সরবরাহের ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
উম রাওয়াবা অঞ্চলে তৃতীয় আক্রমণে একটি পরিবহন ট্রাক এবং একটি জ্বালানি ট্যাংকার লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তিনটি ড্রোন একসাথে এই গাড়িগুলোর ওপর আঘাত করে, ফলে জ্বালানি ট্যাংকারে লিকেজ এবং আগুনের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও শরণার্থীদের নিরাপত্তা আরও হুমকির মুখে পড়ে।
মোট ২৪ জনের মধ্যে আটজন শিশু এবং দুইজন নবজাতক অন্তর্ভুক্ত, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে গৃহীত সর্বোচ্চ শাস্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। শিকারের পরিবারগুলোকে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, তবে নিরাপদ পরিবহন ও চিকিৎসা সুবিধার অভাবে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ধীরগতি পাচ্ছে।
দ্রুত সহায়তা বাহিনী সুদানের আধাসামরিক গোষ্ঠী, যা ২০২৩ সালে সরকারী বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। গত বছর থেকে কোরদোফান ও হোয়াইট নাইলের সীমান্তে তাদের ড্রোন ব্যবহার বাড়িয়ে তোলার ফলে বেসামরিক ক্ষতি বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এই গোষ্ঠীর আক্রমণকে মানবিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করছেন।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কূটনৈতিক মিশনগুলো দ্রুত সহায়তা বাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্লেষক উল্লেখ করেছেন, “ড্রোনের মাধ্যমে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন” এবং জাতিসংঘের জরুরি সভায় এই বিষয়টি আলোচিত হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবিক সহায়তা দলও রাহাদের আশেপাশে নিরাপদ মানবিক করিডোর স্থাপনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
এই আক্রমণটি রাহাদকে সংযুক্তকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে, যা মানবিক সাহায্য ও শরণার্থীদের চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যদি ড্রোনের ব্যবহার অব্যাহত থাকে তবে মানবিক সাহায্যের প্রবাহে বড় বাধা সৃষ্টি হবে এবং সংঘাতের বিস্তার বাড়তে পারে। পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে জাতিসংঘ ও মানবিক সংস্থাগুলোকে নিরাপদ সরবরাহ পথ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন হবে।



