লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও লক্ষ্মীপুর‑৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি উপস্থিত ভক্তদের সামনে রাজনৈতিক জীবনে কোনো প্রতিশোধমূলক বা প্রতিহিংসামূলক চিন্তা না করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সভা আয়োজন করা হয় ভবানীগঞ্জ, লাহারকান্দি, তেওয়ারীগঞ্জ ও কুশাখালী ইউনিয়নের ব্যানারে, যেখানে স্থানীয় ভোটার ও পার্টি কর্মীরা সমবেত হয়। এ্যানি উপস্থিতদেরকে জনগণের পাশে থেকে রাজনীতি করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং হুঙ্কার বা হুমকি ব্যবহার না করার ওপর জোর দেন।
“আমরা কখনোই প্রতিশোধমূলক, প্রতিহিংসামূলক চিন্তা রাজনৈতিক জীবনে করিনি। জনগণের পাশে থেকে রাজনীতি করেছি। আমরা কখনও হুঙ্কার দিয়ে রাজনীতি করি না,” এ্যানি স্পষ্টভাবে বলেন। এই বক্তব্যে তিনি নিজের রাজনৈতিক নীতি ও শৈলীর মৌলিক দিকগুলোকে পুনরায় নিশ্চিত করেন।
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা কখনও আস্ফালন, লম্পজম্প দেখিয়ে রাজনীতি করি না।” এ্যানি উল্লেখ করেন যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া দেশের মানুষকে সম্মান ও স্নেহ দেখিয়েছেন, আর তিনি তেমনি সাধারণ মানুষকে সমীহের সঙ্গে রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছেন।
ভবানীগঞ্জে জামায়াত-এ-ইসলামি নির্বাচনী সমাবেশে প্রতিপক্ষের বক্তব্যে লক্ষ্মীপুরের উন্নয়ন, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ইত্যাদি উল্লেখ না করা নিয়ে এ্যানি তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসমুক্ত, মাদকমুক্ত, সুন্দর‑সচেতন আধুনিক লক্ষ্মীপুর গড়বেন তা না বলে আমরা দেখেছি হুঙ্কার দিয়েছেন, আস্ফালন দেখিয়েছেন, ধমক দিয়েছেন, থ্রেট করেছেন।” এই মন্তব্যে তিনি বিরোধীর হুমকি‑ধমকির ব্যবহারকে নিন্দা করেন।
৫ আগস্টের পর দেশের মানুষ প্রত্যাশা করে যে রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিরা হুমকি, ধমকি, ঔদ্ধত্যের বদলে গঠনমূলক রাজনীতি গ্রহণ করবে। এ্যানি এ বিষয়ে জোর দিয়ে বলেন, “মানুষ চায় আমরা যেন গঠনমূলক রাজনীতি করি। মানুষ চায় বাংলাদেশটা নতুনভাবে গড়ে উঠুক, নির্মাণ হোক।” তিনি ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণে পার্টির নীতি ও কর্মপদ্ধতি পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, বাফুফের সহ‑সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান চৌধুরী মিন্টু, জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি হাফিজুর রহমান, সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজ, সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ এমরান এবং বিএনপি নেতা জিয়া উদ্দিন চৌধুরী আরিফ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ্যানির এই বক্তব্যের পর ভোটারদের মধ্যে গঠনমূলক রাজনীতির প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পাবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তিনি যদি নির্বাচনে জয়লাভ করেন, তবে লক্ষ্মীপুর‑৩ অঞ্চলে হুমকি‑ধমকি ছাড়া পরিষ্কার ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার সম্ভাবনা বাড়বে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোকে এখনো তাদের উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা স্পষ্ট করে ভোটারদের সামনে উপস্থাপন করতে হবে, নতুবা ভোটের প্রবণতা পরিবর্তিত হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, এ্যানির বক্তৃতা তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও শৈলীর স্পষ্ট প্রকাশ ঘটিয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক পদ্ধতির প্রতি তার অঙ্গীকারকে তুলে ধরে। ভবিষ্যতে এই ধরনের বার্তা ভোটারদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বাড়াতে সহায়তা করবে, এবং লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নমূলক লক্ষ্যকে বাস্তবায়নের ভিত্তি স্থাপন করবে।



