ঢাকা-৮ নির্বাচনী এলাকা থেকে বিএনপি প্রার্থী ও পার্টি স্ট্যান্ডিং কমিটি সদস্য হিয়াম আব্বাস আজ নির্বাচনের পূর্বে সরকারী স্তরে গোপন তালিকা প্রস্তুত ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তিনি কাকরাইলের হক ক্যাসেল‑এ ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভার পর এই বক্তব্য দেন।
হিয়াম আব্বাসের মতে, সরকারের কিছু গোষ্ঠী নির্দিষ্ট প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করার জন্য একটি তালিকা তৈরি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদেরও কিছু প্রার্থীর প্রতি অনুকূলতা দেখিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
প্রতিবাদী দলগুলোর মধ্যে ইতিমধ্যে কিছু প্রার্থী জয়ী হওয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন, আর কিছু সরকারী ব্যক্তিত্বও তাদের সংসদে আসার পক্ষে মত প্রকাশ করছেন। হিয়াম আব্বাস এ বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, নির্বাচনের অংশগ্রহণমূলক রূপের দাবি থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে পক্ষপাত স্পষ্ট।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন, নির্দিষ্ট প্রার্থীদের সংসদে পাঠানোর পরিকল্পনা চলছে, যা স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি স্বরূপ।
দুপুরের আগে হিয়াম আব্বাস সাদেক হোসেন খোকার কমিউনিটি সেন্টারে ভোটিং এজেন্টদের সঙ্গে একটি সভায় অংশ নেন। সেখানে তিনি ভোটিং এজেন্টদের জানিয়ে দেন, বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা বহু বছর কারাগার ও রাস্তায় সংগ্রাম করেছেন, এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক সংগ্রামের জন্য কোনো একক গোষ্ঠী একচেটিয়া দায়িত্ব দাবি করতে পারে না।
সেই সন্ধ্যায় তিনি শানতিনগরের ইস্টার্ন পয়েন্টে ১৮০টি ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন। এই আলোচনায় তিনি কিছু ব্যক্তিকে সমালোচনা করেন, যারা নিজেদেরকে আবার দেশের মুক্তি দাতায় রূপান্তরিত করে দাবি করছেন।
হিয়াম আব্বাস ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের মুক্তিযোদ্ধাদের কথা উল্লেখ করে বলেন, তারা ক্ষমতা বা মন্ত্রীপদ চায়নি। তবে বর্তমান সময়ে কিছু ছাত্র-সদস্য রাজনৈতিক দাবি তুলে ধরছেন এবং সরকারে প্রতিনিধিত্ব পাচ্ছেন, যা তিনি অস্বাভাবিক বলে দেখছেন।
তিনি দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও কঠিন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। হিয়াম আব্বাসের মতে, প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শক্তিগুলি বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, সরকার পরিবর্তন হোক বা না হোক।
এছাড়া তিনি বাংলাদেশ জামায়াত‑ই‑ইসলামি ও তার মিত্রদেরও সমালোচনা করেন, যারা পেছন থেকে ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
হিয়াম আব্বাসের এই মন্তব্যগুলো নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। তিনি নির্বাচনের ফলাফল নির্ভরযোগ্য না হলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে ইঙ্গিত দেন।
বিএনপি নেতার এই অভিযোগের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে তিনি পার্টির কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এই ধরনের দাবি ও সতর্কতা রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।



