ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস, চিফ অ্যাডভাইজার, আজ স্টেট গেস্ট হাউস জামুনায় অনুষ্ঠিত উচ্চপ্রোফাইল বৈঠকে উল্লেখ করেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় নির্বাচন ও রেফারেন্ডামের পূর্বে পরবর্তী এক সপ্তাহটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নির্বাচনী প্রস্তুতির বর্তমান অগ্রগতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং বলেন, “আমরা সন্তুষ্ট, আমরা আনন্দিত,” এবং এই সময়কে “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” বলে চিহ্নিত করেন।
বৈঠকের সময় শফিকুল আলম, প্রেস সেক্রেটারি, মিডিয়াকে জানিয়ে দেন যে, ডক্টর ইউনুসের মন্তব্যটি নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের শান্তিপূর্ণ ও সাদৃশ্যপূর্ণ পরিবেশের ভিত্তিতে এসেছে। তিনি যোগ করেন, ক্যাম্পেইন চলাকালীন দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য এটি একটি ইতিবাচক সূচক এবং আশা করা হচ্ছে যে ভোটদান প্রক্রিয়া উৎসবমুখর ও নিরাপদ হবে।
ডক্টর ইউনুসের মতে, ভোটারদের মধ্যে বিশেষ করে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা নির্বাচনকে আরও বৈধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে। তিনি উল্লেখ করেন, পরিবারসহ সকল স্তরের মানুষ একসাথে ভোট দিতে পারলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হবে।
বৈঠকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপক পর্যালোচনা করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েন, ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতি এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। ডক্টর ইউনুস জোর দিয়ে বলেন, ভোটদান প্রক্রিয়াকে “সম্পূর্ণ” করতে সকল দিক থেকে প্রস্তুতি নিতে হবে।
বৈঠকের অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচনী আইনের প্রয়োগ, ভোটার তালিকার আপডেট এবং ভোটকেন্দ্রের সরঞ্জামাদি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো পুনরায় নিশ্চিত করেন। এছাড়া, ভোটের স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখতে পর্যবেক্ষক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
ডক্টর ইউনুসের মন্তব্যের পর, উপস্থিত কর্মকর্তারা ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ ও সামরিক তহবিলের ব্যবহার পরিকল্পনা করেন। তারা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে শেষ সপ্তাহে নিরাপত্তা কর্মীদের সংখ্যা বাড়িয়ে সম্ভাব্য অশান্তি রোধ করা হবে।
বৈঠকে নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময়সূচি ও মিডিয়া কভারেজের মানদণ্ডও নির্ধারিত হয়। ডক্টর ইউনুস জোর দিয়ে বলেন, সকল রাজনৈতিক দলকে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ দিতে হবে এবং কোনো ধরনের হিংসা বা ভয় দেখানোর কাজ নিষিদ্ধ থাকবে।
বৈঠকের শেষে, ডক্টর ইউনুস ভোটারদের জন্য একটি বিশেষ বার্তা দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভোটদান প্রক্রিয়া যেন দেশের ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে ওঠে এবং জনগণ এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে।
এই বৈঠকটি ডক্টর ইউনুসের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় এবং এতে নির্বাচনী প্রস্তুতির সামগ্রিক অবস্থা, নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তিনি সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে আহ্বান জানান, যাতে নির্বাচনের দিন কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা না ঘটে।
ডক্টর ইউনুসের মতে, নির্বাচনের আগে শেষ সপ্তাহে করা প্রতিটি প্রস্তুতি দেশের গণতান্ত্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, এই সময়ে করা সঠিক সিদ্ধান্তগুলো ভোটের ফলাফলকে নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকের আলোচনায় উল্লেখ করা হয়, ভোটার শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ কর্মসূচি চালু করা হবে। এতে গ্রাম ও শহরে তথ্যবহুল সেশন, পোস্টার ও রেডিও প্রচার অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে ভোটাররা তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে পূর্ণভাবে অবগত হয়।
ডক্টর ইউনুসের শেষ মন্তব্যে তিনি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়নের জন্য এই নির্বাচনকে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভোটের পর দেশের শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।
বৈঠকের সমাপ্তি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে, ডক্টর ইউনুসের দল দ্রুত পরবর্তী দিনগুলোতে নিরাপত্তা ও লজিস্টিক্সের চূড়ান্ত সমন্বয় কাজ শুরু করবে। তারা নিশ্চিত করতে চায়, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন সবকিছু নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।
এই ঘোষণার পর, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ডক্টর ইউনুসের মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ ভোটের জন্য সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।



