পটুয়াখালী শহরের আলাউদ্দিন শিশু পার্কে আজ সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী র্যালিতে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর ও চরমনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম স্বাধীনতা‑উদযাপনের ৫৪ বছর পর দেশের শাসন‑প্রণালীর ওপর বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে ধরেন। রেজাউল করিমের বক্তব্যের লক্ষ্য ছিল দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ও নীতিনির্ধারণে বহিরাগত স্বার্থের প্রভাবের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
রেলির মূল বক্তা ছিলেন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ সমর্থিত পটুয়াখালী‑১ আসনের প্রার্থী মাওলানা আবুল হাসান বুখারী, যিনি রেজাউল করিমের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নীতি‑প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। রেজাউল করিম স্বাধীনতা সংগ্রামের ৫৪ বছর আগে দেশের স্বাধীনতা অর্জনের পটভূমি তুলে ধরে, সেই সময়ের ত্যাগ ও শারীরিক ক্ষতিগ্রস্তদের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
তিনি বলেন, “মিলিয়ন মানুষের ত্যাগে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, তবে শাসকরা দুর্নীতির মাধ্যমে পাঁচবার আমাদের চোরের লেবেল দিয়েছে”। এই মন্তব্যে তিনি দেশের শাসন‑প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিক দুর্নীতির ফলে জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে ইঙ্গিত দেন।
রেজাউল করিম আরও উল্লেখ করেন যে স্বাধীন দেশেও বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং এই পরিস্থিতি বদলাতে কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে তা প্রশ্ন তোলেন। তিনি বিদেশি স্বার্থের প্রভাবকে দেশের স্বনির্ভরতা ও উন্নয়নের বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন।
জুলাই বিদ্রোহের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সময়ের আন্দোলন দেশের স্বর্ণভূমি গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছিল। রেজাউল করিমের মতে, ঐতিহাসিক সংগ্রামকে আজকের রাজনৈতিক আলোচনায় পুনর্ব্যবহার করা দরকার, যাতে দেশের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার হয়।
মাওলানা আবুল হাসান বুখারী র্যালির সমাপনী বক্তব্যে বিদেশি প্রতারণা থেকে জনগণকে রক্ষা করার এবং সমাজকে লুটের শিকড় থেকে মুক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষায় সকল স্তরে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
চরমনাই পীর রেজাউল করিম ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বলেন, “যেখানে শিশুরা আজও আজান শোনে, সেখানে ইসলাম গর্বের সঙ্গে দাঁড়াবে”। তিনি বর্তমান সময়কে ইসলামী নীতি ও মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবনের সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে জোটের বিষয়ে তিনি সতর্ক করেন, স্বার্থপর ও ক্ষমতালোভী গোষ্ঠী বিভিন্ন নকশা নিয়ে দেশের স্বপ্নকে নষ্ট করার চেষ্টা করছে। রেজাউল করিমের মতে, এসব গোষ্ঠী দেশের শাসনকে ইসলামী নীতি থেকে বিচ্যুত করে বর্তমান আইনগত কাঠামোর অধীনে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যদি ৫৪ বছর ধরে বিদ্যমান আইনই শাসন চালিয়ে যায়, তবে শাসকরা এখন আমাদের কী নতুন উপহার দিতে পারে?” এই প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি বর্তমান শাসনব্যবস্থার কার্যকারিতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
রেজাউল করিম আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “আমরা একা নই; আল্লাহ আমাদের সঙ্গে এবং উলেমা আমাদের সামনে আছেন”। এই বক্তব্যে তিনি ধর্মীয় সমর্থন ও ঐক্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ইঙ্গিত দেন।
প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার পর রেজাউল করিম পটুয়াখালী থেকে বাউফাল, দাশমিনা, গালাচিপা, রাঙ্গাবালি ও কালাপাড়া পর্যন্ত গিয়ে আরও নির্বাচনী র্যালিতে অংশ নেন। এই সফরটি ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে পরিকল্পিত।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রেজাউল করিমের বিদেশি এজেন্ডা সমালোচনা ও ধর্মীয় নীতি জোরদার করার rhetoric দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। যদি এই বার্তা ভোটারদের মধ্যে সাড়া পায়, তবে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রভাব বাড়াতে পারে এবং ভবিষ্যৎ নীতি গঠনে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখতে পারে।



