মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে বিকালের ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মিরপুর আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার লেটারেল কোলোনেল এস.এম. ফুয়াদ মাসরুর উল্লেখ করেন, ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৬ ও ঢাকা-১৮ নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটদান কেন্দ্রের প্রায় ১৮ শতাংশকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ঢাকা-১৪ ও ঢাকা-১৬ বিশেষভাবে “উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ” শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত, যা জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের পূর্বে নিরাপত্তা পরিকল্পনার মূল দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
লেটারেল কোলোনেল ফুয়াদ মাসরুর জানান, নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী ভোটদান কেন্দ্রগুলোকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে: উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ, মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং সাধারণ। প্রতিটি শ্রেণির জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হচ্ছে, যাতে ভোটাররা কোনো বাধা ছাড়াই কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছাতে ও ফিরে আসতে পারেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই নির্বাচনের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে এবং ভোটারদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বিশেষ করে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত টহল, সিসিটিভি নজরদারি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল গঠন করা হয়েছে।
কম্যান্ডার মিডিয়াকে সতর্ক করেন, নির্বাচনের সময় কোনো অশান্তি বা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের তথ্য প্রকাশের আগে প্রাথমিক যাচাই করা উচিত, যাতে ভুল বা উত্তেজনাপূর্ণ সংবাদ প্রকাশ না হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভ্রান্ত তথ্যের ছড়িয়ে পড়া জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে ক্ষুন্ন করতে পারে।
এছাড়া, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রার্থীদের এবং মিডিয়া কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। নির্বাচনী ক্যাম্পেইন চলাকালীন কোনো হুমকি বা অনিরাপদ পরিস্থিতি দেখা দিলে তা সঙ্গে সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানাতে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিরপুর আর্মি ক্যাম্পের কমান্ডার নির্বাচনী নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্থানীয় পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করছেন। এই সমন্বয়মূলক কাজের মাধ্যমে সম্ভাব্য ঝুঁকি সনাক্ত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
উল্লেখযোগ্য যে, ভোটদান কেন্দ্রের ঝুঁকি বিশ্লেষণ পূর্বে সংগৃহীত তথ্য ও 현장 পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে করা হয়েছে। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন, প্রবেশদ্বার নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি সেবা সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মিডিয়া কর্মীদের জন্যও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে; তারা যদি কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা লক্ষ্য করেন, তবে তা তৎক্ষণাত্ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। এ ধরনের দ্রুত তথ্যপ্রবাহ সম্ভাব্য সমস্যাকে ত্বরিতভাবে সমাধান করতে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। বিশেষ করে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরণের হিংসা বা ধ্বংসাত্মক কাজ রোধ করা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ব্রিফিংয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিকল্পনা, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং মিডিয়া নির্দেশনা স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। নির্বাচনের পূর্বে এই ধরনের প্রস্তুতি ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মসৃণ পরিচালনায় সহায়তা করবে।
অবশেষে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আহ্বান জানায়, যেন তারা নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো সন্দেহজনক পরিস্থিতি দ্রুত রিপোর্ট করে, যাতে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া যায় এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত হয়।



