গাজীপুরের সমন্বিত কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানায় শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) দুইটি নতুন এয়ার-কন্ডিশনড বাসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন করেছে। এই অনুষ্ঠানটি দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও স্বয়ংসম্পূর্ণ উৎপাদন ক্ষমতা প্রদর্শনের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী প্রধান উপদেষ্টা শেখ মইনউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন, আর বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন।
শেখ মইনউদ্দিন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন, বিআরটিসির নিজস্ব কারখানায় তৈরি এই আধুনিক এসি বাসগুলো দেশের উৎপাদন সক্ষমতার স্পষ্ট প্রমাণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সেবা মান উন্নত করতে স্বদেশীয় উৎপাদনই একমাত্র কার্যকর সমাধান। এছাড়া, বিআরটিসি শুধুমাত্র নিজস্ব বহরের জন্য নয়, বাহ্যিক সংস্থার বাস সংযোজনের ক্ষেত্রেও সক্ষমতা গড়ে তোলার দায়িত্বে রয়েছে।
মহামন্ত্রী বিভাগের সচিব জিয়াউল হকও একই মঞ্চে দেশের মেধা ও দক্ষতার সর্বোচ্চ উৎকর্ষ সাধনের আহ্বান জানান। তিনি বিআরটিসির সম্প্রসারণের সম্ভাবনা বিশাল বলে উল্লেখ করে, সংস্থাটিকে নতুন যুগের সূচনা হিসেবে তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় আকারে সেবা প্রদান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা উদ্বোধন সমারোহে সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য ও পরিকল্পনা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তিনি নতুন বাসগুলোকে বিআরটিসির প্রযুক্তিগত অগ্রগতির প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করেন এবং ভবিষ্যতে আরও আধুনিক যানবাহন উৎপাদনের প্রতিশ্রুতি দেন।
উদ্বোধিত দুটি বাস সম্পূর্ণভাবে বিআরটিসির নিজস্ব উৎপাদন ইউনিটে নির্মিত, যার মধ্যে শারীরিক গঠন, ইন্টারিয়র ডিজাইন এবং এয়ার-কন্ডিশনিং সিস্টেম সবই দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে। এই উদ্যোগটি সংস্থার স্বয়ংসম্পূর্ণ উৎপাদন চেইন গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত।
স্বদেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে বিআরটিসি ভবিষ্যতে আমদানি ব্যয় কমিয়ে আর্থিক সাশ্রয় অর্জন করতে পারবে। পাশাপাশি, স্থানীয় সরবরাহকারী ও উপকরণ উৎপাদনকারী শিল্পের জন্য নতুন বাজার সৃষ্টি হবে, যা সমগ্র রেল ও সড়ক পরিবহন শিল্পের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বাজারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, আধুনিক এসি বাসের যোগদান বিআরটিসির সেবা মানকে উন্নত করবে এবং গ্রাহকের সন্তুষ্টি বাড়াবে। উচ্চমানের যাত্রী সেবা প্রদান করে সংস্থা নতুন ভাড়া ও লিজ চুক্তি অর্জনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে, যা আয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক স্থিতিশীলতায় সহায়তা করবে।
এছাড়া, এই প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদন কর্মী, ইঞ্জিনিয়ার ও ডিজাইনারদের দক্ষতা উন্নয়ন ঘটবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সুযোগও বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিল্পের মানবসম্পদ গুণগত মানকে শক্তিশালী করবে।
বিআরটিসি ভবিষ্যতে বহিরাগত বাস সংযোজনের সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। স্বদেশীয় উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে সংস্থা অন্যান্য পরিবহন সংস্থার জন্যও বাস সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি করতে চায়, যা দেশের মোট বাস ফ্লিটের আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সারসংক্ষেপে, গাজীপুরে অনুষ্ঠিত উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি বিআরটিসির স্বয়ংসম্পূর্ণ উৎপাদন মডেলকে দৃঢ় করে এবং দেশের সড়ক পরিবহন খাতে আধুনিকায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। স্বদেশীয় প্রযুক্তি, দক্ষ কর্মশক্তি এবং বাজারের চাহিদা মিলিয়ে সংস্থা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে সেবা প্রদান এবং আর্থিক স্বনির্ভরতা অর্জনের পথে অগ্রসর হবে।



