আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এক ব্যক্তিনির্ভর বেসরকারি সংস্থা পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা)‑কে ১০,০০০‑এর বেশি পর্যবেক্ষক কার্ড প্রদান করার পরিকল্পনা স্থগিত করেছে। সিদ্ধান্তটি ঢাকা শহরের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সন্ধ্যাবেলায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত হয়।
সেই সম্মেলনে ইসি‑এর উপদেষ্টা ও উপ‑প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার ইসির প্রধান সচিব আখতার আহমেদের অনুমোদনে এই তথ্য জানালেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসি‑এর কর্মকর্তারা পূর্বে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায়ও এই সংস্থার প্রস্তাবনা পর্যালোচনা করেন।
সেই সভায় ইসি‑এর সচিব উপস্থিত ছিলেন এবং পাশা সংস্থার ১০,০০০ পর্যবেক্ষক নিয়োগের দাবি সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা হয়। ইসি‑এর কর্মকর্তারা সংস্থার সক্ষমতা ও কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে যাচাই করার চেষ্টা করেন, তবে যথেষ্ট প্রমাণ না পেয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে পর্যবেক্ষক কার্ডের বিতরণ এখনো স্থগিত থাকবে।
আজাদ মজুমদার জানান, সংস্থার ওপর এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক সংযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে তদন্ত চলমান রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংস্থার কার্যক্রম ও সক্ষমতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পর্যবেক্ষক কার্ড ইস্যু করা হবে না।
গতকাল প্রথম আলোতে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ‘এক ব্যক্তিনির্ভর ‘পাশা’ দিচ্ছে ১০ হাজার নির্বাচন পর্যবেক্ষক’ শিরোনামে সংস্থার অভ্যন্তরীণ কাঠামো উন্মোচিত হয়। প্রতিবেদনে দেখা যায়, সংস্থার অফিস হিসেবে ব্যবহৃত কক্ষটি মূলত নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ হুমায়ুন কবীরের ব্যক্তিগত বাসার একটি ঘর, যেখানে অন্য কোনো কর্মী নেই।
প্রতিবেদনটি উল্লেখ করে যে, সংস্থার দাবি অনুযায়ী ১০,০০০‑এর বেশি পর্যবেক্ষক সরবরাহের জন্য কোনো সংগঠিত দল বা প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা দেখা যায় না। এই তথ্য প্রকাশের পর ইসি সংস্থার নিবন্ধন প্রক্রিয়া ও মাঠ পর্যায়ের সক্ষমতা পুনরায় যাচাই করে।
পর্যালোচনার ফলাফল নেতিবাচক হওয়ায় ইসি‑এর কর্মকর্তারা সংস্থার পর্যবেক্ষক কার্ড বিতরণে স্থগিতাদেশ জারি করেন। এছাড়া, সংস্থার নিবন্ধন পত্রের বৈধতা ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের উপর অতিরিক্ত তদারকি করার সম্ভাবনা প্রকাশ করা হয়।
ইসি এখন পর্যন্ত সংস্থার কোনো রাজনৈতিক সংযুক্তি না পাওয়া সত্ত্বেও, পর্যবেক্ষক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য তদন্ত চালিয়ে যাবে। প্রয়োজন হলে সংস্থার নিবন্ধন বাতিল বা সংশ্লিষ্ট অনুমোদন প্রত্যাহার করা হতে পারে।
এই পদক্ষেপের ফলে নির্বাচনের পর্যবেক্ষক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং ভোটারদের বিশ্বাস রক্ষার জন্য যথাযথ প্রক্রিয়া নিশ্চিত হবে। নির্বাচন কমিশন ভবিষ্যতে অনুরূপ সংস্থার আবেদনগুলোকে কঠোরভাবে মূল্যায়ন করে, নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।



