শাহবাগ, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ – বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া প্রতিবাদে শহরের প্রধান সড়কগুলো বন্ধ হয়ে যায়, যখন বিশাল সংখ্যক demonstrators পুলিশি অভিযানের বিরুদ্ধে অবরোধ গড়ে তোলেন। অংশগ্রহণকারীরা প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে রেলওয়ে স্টেশন, রোড সাইড এবং সরকারি ভবনের সামনে শিলাবদ্ধ হয়ে থাকে, যাতে পুলিশি পদক্ষেপের বিরোধিতা করা যায়। সন্ধ্যাবেলা আলোচনার পর অবশেষে পুলিশ অবরোধ থেকে সরে যায় এবং সড়কগুলো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
গত সপ্তাহে পুলিশ একটি বৃহৎ অপারেশন চালু করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক দলগুলোর কিছু নেতার বাড়ি ও অফিসে অনুসন্ধান করা। অপারেশনটি সরকারী সূত্রে নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার জন্য বলা হয়, তবে বিরোধী দলগুলো এটিকে রাজনৈতিক দমন হিসেবে ব্যাখ্যা করে। এই প্রেক্ষাপটে শাহবাগের শিক্ষার্থী ও কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত দলগুলো রাস্তায় নেমে এসে বিরোধ প্রকাশ করে।
প্রতিবাদটি স্থানীয় সামাজিক মিডিয়া গ্রুপের মাধ্যমে সমন্বয় করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা আনুমানিক দুই হাজারের বেশি, যার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, শ্রমিক এবং কিছু রাজনৈতিক কর্মী অন্তর্ভুক্ত। তারা শিলাবদ্ধ হয়ে রাস্তায় বাধা সৃষ্টি করে, গাড়ি চলাচল থামিয়ে দেয় এবং রেলওয়ে স্টেশনের প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দেয়।
অবরোধের সময় demonstrators শিলার গড়ে গড়ে গাছের ডাল, গাছের তক্তা এবং গাড়ির চাকার ওপর বসে থাকে। কিছু অংশে সাউন্ড গ্রেনেডের মত শোরগোলকারী বস্তু নিক্ষেপের খবরও পাওয়া যায়, তবে কোনো গুরুতর আঘাতের রিপোর্ট না থাকলেও নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্কতা বাড়ে। সড়ক বন্ধের ফলে শহরের প্রধান রুটে গাড়ি চলাচল ব্যাহত হয় এবং কিছু বাস সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে।
পুলিশ অবরোধের সময় উপস্থিত থাকে, তবে সরাসরি হিংসাত্মক পদক্ষেপ না নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পুলিশি বাহিনী রাস্তায় গিয়ে demonstrators-কে শান্তিপূর্ণভাবে সরাতে আহ্বান জানায় এবং জরুরি সেবা গাড়ির চলাচল নিশ্চিত করে। কোনো গুলিবিদ্ধ বা গুরুতর শারীরিক সংঘর্ষের রেকর্ড না থাকলেও, নিরাপত্তা রক্ষার জন্য অতিরিক্ত ট্যাক্সি ও গাড়ি ব্যবহার করা হয়।
প্রতিবাদকারীরা তাদের দাবি স্পষ্ট করে জানায় যে, তারা পুলিশি অভিযানের অবৈধতা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যকে প্রত্যাখ্যান করে। তারা দাবি করে যে, সরকারকে স্বচ্ছতা বজায় রেখে কোনো পদক্ষেপ নিতে হবে এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা করতে হবে। অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারকে গুরুত্ব দিয়ে, ভবিষ্যতে এমন অপারেশন না করার আহ্বান জানায়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, অবরোধের সময় কোনো আইন লঙ্ঘন না করে নিরাপত্তা বজায় রাখা তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল। তারা উল্লেখ করে যে, অবরোধের সময় কোনো গুলিবিদ্ধ বা প্রাণহানি ঘটেনি এবং সকল প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশি কর্মকর্তারা বলেন, অবরোধের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্বের অংশ।
সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী সংস্থার মাধ্যমে আলোচনা হয় এবং অবশেষে পুলিশ অবরোধ থেকে সরে যায়। রাস্তাগুলো ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয় এবং গাড়ি চলাচল পুনরায় শুরু হয়। অবরোধের সময় বন্ধ থাকা রেলওয়ে এবং বাস সেবাগুলোও পুনরায় চালু হয়, যদিও কিছু সময়ের জন্য দেরি হয়।
অবরোধের ফলে শহরের ট্রাফিক জ্যাম এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ক্ষতি হয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উল্লেখ করেন যে, দিনের শেষের দিকে বিক্রয় হ্রাস পেয়েছে এবং কর্মচারীরা অতিরিক্ত সময় কাজ করতে বাধ্য হয়েছে। তবে অবরোধের সময় কোনো সম্পত্তি ক্ষতি বা বড় আঘাতের রেকর্ড না থাকায়, সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত বলে বিবেচিত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, এই ধরনের প্রতিবাদ সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতির সময়। তারা সতর্ক করেন যে, পুলিশি অভিযান এবং তার বিরোধী প্রতিবাদ উভয়ই জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে এবং সরকারকে জনসাধারণের সঙ্গে সংলাপ বাড়াতে হবে।
অবশেষে, শহরের প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী উভয়ই এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষা এবং আইনগত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ অবরোধ এড়াতে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।



