শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারি রাতের দিকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত শাহনগর প্রগতি সংঘের ৩০তম ক্রীড়া আসরের সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানিয়ে বর্তমান প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মোবাইল আসক্তির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
কাদের গনি চৌধুরী উল্লেখ করেন যে, আজকের তরুণরা মোবাইল স্ক্রিনের সামনে অতিরিক্ত সময় কাটিয়ে ফেলছে, ফলে মাঠে খেলাধুলার জন্য সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, শিশুরা আর খেলার মাঠে না গিয়ে, ঘরের ভিতরে বা শোবার ঘরে মোবাইলের আলোতে মগ্ন থাকে, যা ভবিষ্যতে একটি দুর্বল জাতি গঠনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহারকে তিনি শারীরিক দুর্বলতা এবং মানসিক অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ক্রীড়া শুধুমাত্র বিনোদন নয়, এটি আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তি গড়ে তোলার অন্যতম কার্যকর উপায়। খেলাধুলা মাধ্যমে শিশুরা আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে, যা তাদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা অনুযায়ী, শিশুরা আর মাঠে দেখা যায় না, এ কথায় তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, স্কুল ও কলেজগুলোতে পর্যাপ্ত খেলার মাঠের অভাব রয়েছে, এবং গ্রামাঞ্চলেও একই রকম সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এই অবকাঠামোগত ঘাটতি শিশুরা স্বাভাবিকভাবে শারীরিক ক্রিয়াকলাপে অংশ নিতে বাধা সৃষ্টি করছে।
অভিভাবকদেরও এই সমস্যায় অংশীদার বলা হয়। কাদের গনি চৌধুরী বলেন, অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানকে সারাদিন স্কুল, টিউশন এবং কোচিং সেশনে ব্যস্ত রাখেন, ফলে শিশুরা শৈশবের আনন্দময় খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের অতিরিক্ত একাডেমিক চাপ এবং স্ক্রিন টাইমের সমন্বয় শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
মোবাইল আসক্তি নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই প্রবণতা থামাতে হলে শিশুকে আবার মাঠে ফিরিয়ে আনা একমাত্র সমাধান। তিনি সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার এবং সমাজকে আহ্বান জানান, যাতে খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত স্থান ও সুযোগ তৈরি করা যায় এবং স্ক্রিন টাইম সীমিত করার জন্য কার্যকর নীতি গৃহীত হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম আইন কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর চৌধুরী, যিনি সমাবেশের গুরুত্ব ও ক্রীড়া উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি কাদের গনি চৌধুরীর বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকে।
প্রধান আলোচক হিসেবে লেলাং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সরোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। তিনি ক্রীড়া ক্ষেত্রের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্থানীয় পর্যায়ে খেলাধুলার প্রচার এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ খেলাধুলার পরিবেশ সৃষ্টির বিষয়ে বিশদভাবে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবুধাবি ফোরামের সভাপতি নেছারুল হক, ব্যবসায়ী ওমর ফারুক নান্নু, মাসুদ করিম, আব্দুল মান্নান, মোস্তাফা কামাল এবং বিএনপি নেতা বোরহান উদ্দীন। তারা সকলেই ক্রীড়া ও যুব উন্নয়নের গুরুত্বকে স্বীকার করে, স্থানীয় উদ্যোগে সমর্থন জানিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে কাদের গনি চৌধুরী আবারও জোর দিয়ে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে হলে শিশুরা শারীরিকভাবে সক্রিয় হতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ক্রীড়া ক্ষেত্রের উন্নয়ন শুধুমাত্র শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য নয়, বরং মানসিক দৃঢ়তা, দলগত কাজের দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার জন্য অপরিহার্য।
শেষে তিনি সকলকে আহ্বান জানান, পরিবার, বিদ্যালয় এবং স্থানীয় প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করে শিশুরা মোবাইলের বদলে মাঠে সময় কাটাতে পারে এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে। এই ধরনের সমন্বিত প্রচেষ্টা ভবিষ্যতে একটি সুস্থ, শক্তিশালী এবং আত্মবিশ্বাসী জাতি গঠনে সহায়ক হবে।



