ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের এই সপ্তাহান্তে ইপসউইচ ডার্বিতে ২-১ স্কোরে জয়লাভ করে, সাউদাম্পটন ওয়াটফোর্ডকে ১-০ তে পরাজিত করে। দু’টি ম্যাচই টেবিলের শীর্ষে থাকা দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এনে দেয়। উভয় ফলাফলই প্রচারাভিযানের গতি বাড়িয়ে তুলেছে।
ডার্বিতে প্রথমার্ধের অষ্টম মিনিটে ডার্বি ক্যাপ্টেন লুইস ট্র্যাভিস কোণার কিককে নিজের জালে হেড করে নিজস্ব গোলের দায়িত্ব নেন। এই অপ্রত্যাশিত ভুলে ডার্বি শীঘ্রই ১-০ এগিয়ে যায়। ইপসউইচের খেলোয়াড়রা তৎক্ষণাৎ আক্রমণ চালিয়ে সমান করার চেষ্টা করে।
দ্বিতীয়ার্ধে রিয়ান ব্রুয়েস্টার পেনাল্টি থেকে সমতা পুনরুদ্ধার করেন। পেনাল্টি শটটি সঠিকভাবে গলপোস্টের নিচে গিয়ে স্কোরকে ১-১ করে তুলেছে। এই গোলটি ম্যাচের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয় এবং উভয় দলে নতুন উদ্যম যোগায়।
ইপসউইচের লিফ ডেভিসের শেষ মুহূর্তের হেডার শেষ ফলাফল নির্ধারণ করে। ডেভিসের শক্তিশালী হেডার ২-১ স্কোরে ইপসউইচকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এই গোলটি দলের প্রচারাভিযানে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট যোগায়।
ম্যাচের শেষের দিকে লুইস ট্র্যাভিস দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে অতিরিক্ত সময়ে রেড কার্ড পান। ট্র্যাভিসের বহিষ্কারের ফলে ডার্বি মাত্র দশজন খেলোয়াড়ে শেষ হয়। ইপসউইচের জয় এই পরিস্থিতিতে আরও মূল্যবান হয়ে ওঠে।
সাউদাম্পটনের কাইল লারিন প্রথম স্পর্শে হেডার দিয়ে ওয়াটফোর্ডের বিরুদ্ধে একমাত্র গোল করেন। লারিনের এই দ্রুত গোলটি দলকে ১-০ তে এগিয়ে নিয়ে যায়। ম্যাচের শেষ পর্যন্ত ওয়াটফোর্ড কোনো গোল করতে পারেনি।
লারিনের এই পারফরম্যান্স তার ম্যালোর্কা থেকে ঋণ নিয়ে আসা লোন চুক্তির প্রথম ম্যাচে ঘটে। তিনি ডেডলাইন ডে-তে দলকে যোগদান করে তৎক্ষণাৎ প্রভাব ফেলেছেন। তার হেডার সাউদাম্পটনের জয় নিশ্চিত করেছে।
সাউদাম্পটন এই জয় দিয়ে ডিসেম্বরের শুরুর পর প্রথমবার ধারাবাহিক দুই ম্যাচ জিতেছে। ধারাবাহিক জয় টেবিলের শীর্ষে তাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। দলটি এখন প্রচারাভিযানের শেষ পর্যায়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থায় রয়েছে।
অন্যদিকে ওয়াটফোর্ড নতুন বছরের পর থেকে কোনো জয় অর্জন করতে পারেনি এবং শেষ তিনটি ম্যাচে গোলও করতে পারেনি। এই ধারাবাহিক অগ্রগতি দলের মনোবলকে প্রভাবিত করেছে। ওয়াটফোর্ডের পরবর্তী ম্যাচে পুনরুদ্ধার প্রত্যাশিত।
নরউইচ ব্ল্যাকবার্নের মুখোমুখি হয়ে ২-০ স্কোরে জয়লাভ করে, পাঁচটি লিগ ম্যাচের মধ্যে চারটি জয় অর্জন করেছে। এই জয় দলকে ড্রপ জোন থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিয়েছে। নরউইচের আক্রমণাত্মক খেলায় দুইটি গোলই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অ্যানিস বেন স্লিমান ৭৩ মিনিটে রিবাউন্ড থেকে গোল করে স্কোরে প্রথম গোল করেন। স্লিমানের গোলটি অস্কার শোয়ার্টাউয়ের শটের কাঠের ফ্রেমে আঘাতের পর পুনরায় গলে আসে। মোহাম্মদ তুরে ডেবিউতে দ্বিতীয় গোল করে দলকে ২-০ তে নিশ্চিত করে।
ইপসউইচের পরবর্তী ম্যাচে তারা হোম গ্রাউন্ডে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, সাউদাম্পটনও পরের সপ্তাহে নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত। নরউইচের পরবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বীও শক্তিশালী দল, যা তাদের ধারাবাহিক জয় বজায় রাখতে হবে। ওয়াটফোর্ডের জন্য এখনই পুনরুদ্ধার এবং গোল করার সুযোগ তৈরি করা জরুরি।



