শুক্রবার রাত ৭ ফেব্রুয়ারি, রাজধানীর বাংলামোটরের জাতীয় নাগরিক দলের কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের সময় জাতীয় নাগরিক দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান, বর্তমান সময়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ফ্যাসিবাদের বিচার হবে না এবং তারা আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তা সরাসরি রাস্তায় মোকাবিলা করা হবে বলে সতর্কতা দেন।
আসিফ মাহমুদ উল্লেখ করেন, যদিও ভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে, তবু বিএনপি ক্ষমতায় এলে জুলাই সনদে স্বাক্ষরিত প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার সম্ভাবনা বেশি। তিনি যুক্তি দেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষরের পরেও বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে, যা তাদের ইশতেহারে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পেয়েছে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিএনপির ভবিষ্যৎ নীতি ও প্রতিশ্রুতির প্রতি সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
জাতীয় নাগরিক দলের মুখপাত্রও একই সময়ে নির্বাচন সংক্রান্ত নিরাপত্তা উদ্বেগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রের মজুদ গড়ে উঠছে এবং তা নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এছাড়া, বহু প্রার্থী বাড়ি-ঘরে বৈঠকে ভোটারদের হুমকি দিচ্ছেন, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষুণ্ন করে।
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি, যা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। জাতীয় নাগরিক দলের প্রতিনিধিরা দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনকে দ্রুতই এই বিষয়গুলো নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, নতুবা ভোটারদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বিপন্ন হবে।
বিএনপি পক্ষ থেকে এ মুহূর্তে কোনো সরাসরি মন্তব্য বা ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়নি। তবে পূর্বে দলটি জুলাই সনদে স্বাক্ষরের পর থেকে বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা এখন জাতীয় নাগরিক দলের নেতারা প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। ভবিষ্যতে যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, তবে এই বিষয়গুলো রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ নিতে পারে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, জাতীয় নাগরিক দলের এই ধরনের প্রকাশনা নির্বাচনী কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে, যাতে ভোটারদের মধ্যে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়ে। একই সঙ্গে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগগুলো নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানায়।
আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন এই ধরনের বিতর্ক ও অভিযোগগুলো রাজনৈতিক পরিবেশকে তীব্রতর করে তুলবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন যদি দ্রুত হস্তক্ষেপ না করে, তবে ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়তে পারে এবং ভোটার অংশগ্রহণের হার প্রভাবিত হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, জাতীয় নাগরিক দলের চেয়ারম্যানের মন্তব্যে বিএনপির ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা ও জুলাই সনদের বাস্তবায়ন না করার ইঙ্গিত রয়েছে। একই সঙ্গে, নির্বাচনী নিরাপত্তা ও ভোটার হুমকি সংক্রান্ত অভিযোগগুলো নির্বাচন কমিশনের ত্বরিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।



