18.1 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeব্যবসামার্কিন-ভারত অস্থায়ী বাণিজ্য কাঠামো প্রকাশ, শুল্ক হ্রাস ও জ্বালানি সম্পর্ক পুনর্গঠন

মার্কিন-ভারত অস্থায়ী বাণিজ্য কাঠামো প্রকাশ, শুল্ক হ্রাস ও জ্বালানি সম্পর্ক পুনর্গঠন

মার্কিন সরকার ও ভারত ৭ই ফেব্রুয়ারি শুক্রবার একটি অস্থায়ী বাণিজ্য কাঠামো প্রকাশ করেছে, যা শুল্ক হ্রাস, জ্বালানি সংযোগ পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা গভীর করার লক্ষ্য রাখে। উভয় দেশ গ্লোবাল সরবরাহ শৃঙ্খল পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করেছে।

কাঠামোটি দুই দেশের মধ্যে বিস্তৃত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার পুনরায় নিশ্চিত করে এবং ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত চুক্তি সম্পন্ন করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। তবে চূড়ান্ত চুক্তি অর্জনের জন্য অতিরিক্ত আলোচনা প্রয়োজন হবে বলে উভয় পক্ষই উল্লেখ করেছে।

একই সময়ে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক নির্বাহী আদেশে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক বাতিল করা হয়েছে। এই শুল্কটি রাশিয়ার তেল ক্রয়ের জন্য আরোপিত ছিল, এবং নিউ দিল্লি সরাসরি বা পরোক্ষভাবে রাশিয়ান তেল আমদানি বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে শুল্ক অপসারণ করা হয়েছে।

মার্কিন সরকার উল্লেখ করেছে যে, যদি ভারত পুনরায় রাশিয়ান তেল ক্রয় শুরু করে, তবে শুল্ক পুনরায় আরোপের সম্ভাবনা থাকবে। এই পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সংযোগ সীমিত করার কূটনৈতিক চাপের অংশ হিসেবে বিবেচিত।

যদিও শুল্ক বাতিলের শর্তে রাশিয়ান তেল ক্রয় বন্ধের প্রতিশ্রুতি উল্লেখ করা হয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত যৌথ বিবৃতিতে এই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি এবং কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি প্রকাশিত হয়নি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সোমবারের ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে, শর্তসাপেক্ষে ভারত রাশিয়ান তেল ক্রয় বন্ধ করবে এবং বাণিজ্য বাধা হ্রাস করবে। এই চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে নতুন দিকনির্দেশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে গৃহীত।

শুল্কের ৫০ শতাংশের অর্ধেক অংশটি পূর্বে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশে রাশিয়ান তেল ক্রয়ের জন্য শাস্তি হিসেবে আরোপিত হয়েছিল, যা মস্কোর ইউক্রেনের যুদ্ধকে সমর্থন করার অভিযোগের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল। এই শুল্কের ২৫ শতাংশ অংশই সম্প্রতি বাতিল করা হয়েছে।

বাতিলের পর, ভারত যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলায় তেল ক্রয় স্থানান্তর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা শুল্ক হ্রাসের মূল শর্ত হিসেবে কাজ করেছে। এই পরিবর্তনটি উভয় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন ভারসাম্য নির্দেশ করে।

বাণিজ্য কাঠামোর আলোচনায় কৃষি বাজারের ব্যাপক উন্মুক্তকরণে নিউ দিল্লি কিছুটা প্রতিরোধ দেখিয়েছে। বিশেষ করে সংবেদনশীল কৃষি ও দুগ্ধ পণ্যের রপ্তানি রক্ষা করার জন্য ভারতীয় সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।

বাণিজ্য মন্ত্রী পিয়ুষ গয়াল উল্লেখ করেছেন যে, এই চুক্তি কৃষকদের স্বার্থ ও গ্রামীণ জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে, বিশেষ করে সংবেদনশীল পণ্যগুলোর সম্পূর্ণ সুরক্ষা প্রদান করে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, কৃষি ও দুগ্ধ পণ্যের রপ্তানি সীমাবদ্ধতা বজায় থাকবে।

চুক্তিতে জেনেটিক্যালি মডিফাইড (GM) কৃষি পণ্যের সরাসরি আমদানি অনুমোদন না করার বিধান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, ফলে এই ধরনের পণ্যের প্রবেশ সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে আপেলসহ কিছু ফলের আমদানি অনুমোদিত হয়েছে, যা নির্দিষ্ট শর্তে বাজারে প্রবেশের সুযোগ দেবে।

অস্থায়ী কাঠামোর বাস্তবায়ন ফলে উভয় দেশের রপ্তানি-আমদানি পরিমাণে স্বল্পমেয়াদে বৃদ্ধি প্রত্যাশিত, বিশেষ করে টেক্সটাইল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং পরিষেবা খাতে। একই সঙ্গে, শুল্ক হ্রাসের ফলে ভারতীয় উৎপাদকেরা মার্কিন বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাবে, আর মার্কিন কোম্পানিগুলো ভারতীয় গ্রাহকদের কাছে পণ্য সরবরাহে খরচ কমবে।

দীর্ঘমেয়াদে, এই কাঠামো সরবরাহ শৃঙ্খল পুনর্গঠনের সঙ্গে যুক্ত দেশগুলোর জন্য নতুন বাণিজ্যিক মডেল গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তবে রাশিয়ান তেল ক্রয়ের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি বজায় থাকায়, জ্বালানি নীতির পরিবর্তন ভবিষ্যতে পুনরায় আলোচনা বিষয় হতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments