জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনের মাত্র চার দিন বাকি, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ১৩তম নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন সুত্রাপুর থানা অফিসার‑ইন‑চার্জের স্থানান্তরের দাবি জানিয়ে দেন। তিনি অভিযোগ করেন, সুত্রাপুরে নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রের কাছাকাছি একটি ভবনে ৪ ফেব্রুয়ারি ১৫২টি কাঠের দণ্ড (ক্রিকেটের স্টাম্প) পাওয়া গিয়েছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ইশরাক হোসেন একই দিনে দু’টি লিখিত অভিযোগ ইলেকশন কমিশনের সিনিয়র সেক্রেটারি আখতার আহমেদকে আগারগাঁও, ঢাকায় জমা দেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ঐ দণ্ডগুলো একটি ভবনে পাওয়া গিয়েছে যা জামায়াত-এ-ইসলামি পার্টির প্রার্থীর সম্পত্তি বলে দাবি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বহুবার সতর্কতা জানানো সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট থানা অফিসার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। বরং, সুত্রাপুর থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ ভবনের মালিককে সতর্ক করে, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দণ্ডগুলো সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেন।
ইশরাক হোসেনের মতে, এই ধরনের অবস্থা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হলে ন্যায়সঙ্গত নির্বাচন নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি কর্মীদের সমন্বয়ে থানা অফিসার‑ইন‑চার্জের বিরুদ্ধে সমষ্টিগত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানান। “এটি কোনো নিরপেক্ষতার বিষয় নয়, বরং একটি অপরাধমূলক কাজের সহায়তা,” তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়াও তিনি ভোটকেন্দ্রের স্থানান্তরের দাবি তীব্রভাবে তুলে ধরেন। বর্তমান ভোটকেন্দ্রটি কসমোপলিটন স্কুল ও কলেজের প্রাঙ্গণে অবস্থিত, যা তিনি রাজনৈতিকভাবে অনুকূল নয় এমন প্রার্থীর সম্পত্তি বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যদি এমন পরিস্থিতি বজায় থাকে, তবে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না।
প্রশাসনিক দিক থেকে ইশরাক হোসেন মন্তব্য করেন, কিছু এলাকায় নিরপেক্ষতা বজায় আছে, তবে অন্যত্র একপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা স্পষ্ট। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি কোনো সহিংসতা চাইছে না, তবে অনিরাপদ ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন দেশের জন্য বিপর্যয়কর পরিণতি বয়ে আনতে পারে।
এই অভিযোগের পর থানা অফিসার‑ইন‑চার্জ বা ইলেকশন কমিশন থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইলেকশন কমিশনের দায়িত্ব হল সকল ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো প্রকার অনিয়মের ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।
ইশরাক হোসেনের দাবি অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে অবৈধ বস্তু সংরক্ষণ ও সেগুলোকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা ক্ষুণ্ন করে। তিনি উল্লেখ করেন, স্থানীয় জনগণও এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তৎক্ষণাত ব্যবস্থা চেয়েছে।
বিএনপি নেতার এই পদক্ষেপের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হল, নির্বাচনের আগে সকল সম্ভাব্য অনিয়ম দূর করা এবং ভোটারদের নিরাপদ পরিবেশ প্রদান করা। তিনি আরও বলেন, যদি নির্বাচনের সময় কোনো ধরনের অনিয়ম ঘটে, তবে তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, ইলেকশন কমিশনকে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। থানা অফিসার‑ইন‑চার্জের স্থানান্তর বা পদোন্নতি, ভোটকেন্দ্রের পুনর্বিন্যাস, এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে কঠোর নিয়মাবলী প্রণয়ন করা সম্ভবপর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
নির্বাচনের দিন নিকটে এ ধরনের অভিযোগ ও দাবি রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলতে পারে, তবে সঠিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করা সম্ভব। সকল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করা হচ্ছে, যাতে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ না করা যায়।



