19.8 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিচট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামির তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা

চট্টগ্রাম-১০ আসনে বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামির তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন বাকি, চট্টগ্রাম-১০ (ডাবল মোরিং, পাহারতলি, হালিশহর ও খুলশি) আসনে বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামির প্রার্থী দুজনের মধ্যে তীব্র লড়াই প্রত্যাশিত। বিএনপি প্রার্থী সায়েদ আল নোমান, প্রাক্তন মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমানের পুত্র, এবং জামায়াত-এ-ইসলামির শামসুজ্জামান হেলালি, চট্টগ্রাম শহরের যৌথ সাধারণ সম্পাদক, দুজনই ভোটার গৃহে গৃহে ঘুরে প্রচার চালাচ্ছেন। ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত, তাই উভয় দলই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।

সায়েদ আল নোমান এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রার্থী, তাই তিনি সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে জোর দিচ্ছেন। তিনি চা দোকান, বাজার ও পাড়া ঘুরে ভোটারদের মতামত জানার পাশাপাশি নিজের পরিচয় তুলে ধরছেন। তার ক্যাম্পেইন দক্ষিণ কাটলি থেকে শুরু হয়, যেখানে তিনি পরিবারিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর না করে নিজের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করছেন।

একটি ক্যাম্পেইন সভায় সায়েদ বলেছিলেন, চট্টগ্রামকে দক্ষ যুবকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রশিক্ষিত ও স্বনির্ভর যুব সমাজ গড়ে তোলাই টেকসই উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি। এই বার্তাটি তিনি পাহারতলির একটি র্যালিতে পুনরায় জোর দিয়ে বলেছিলেন।

সায়েদের প্রতিশ্রুতির মধ্যে আইটি সেন্টার, ফ্রিল্যান্সিং হাব এবং প্রযুক্তিগত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থাপন অন্তর্ভুক্ত। তিনি দাবি করেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তার মতে, রাজনীতিকে ক্ষমতার হাতিয়ার নয়, সেবা প্রদানকারী মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।

অধিকন্তু, সায়েদ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশ্বমানের সুযোগ এবং আধুনিক সিভিক সেবা প্রদানকে তার অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, নির্বাচিত হলে এই পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। তার ক্যাম্পেইন দল গৃহে গৃহে ঘুরে এই প্রতিশ্রুতিগুলো ভোটারদের জানাচ্ছে।

অন্যদিকে, শামসুজ্জামান হেলালি জামায়াত-এ-ইসলামির নীতি ভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করছেন। তিনি ‘ইনসাফ’ ভিত্তিক সমাজের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশের বর্তমান সংকটের সমাধানই ন্যায়বিচার। তার ক্যাম্পেইন বার্তা মূলত ন্যায়বিচার ও সৎ নেতৃত্বের ওপর কেন্দ্রীভূত।

হেলালি সম্প্রতি পাদ্মা পুকুরপাড় ও করইতাল এলাকায় একটি সমাবেশে বলেছিলেন, জনগণ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা রাখে এবং তারা সৎ ও সক্ষম নেতৃত্বকে ভোট দেবে। তিনি ‘দারি পল্লা’ (তুলা) বিজয়ী হবে এমন মন্তব্য করে ভোটের ফলাফলে ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

হেলালি আরও জোর দিয়ে বলেছেন, ন্যায়বিচার ভিত্তিক সামাজিক কাঠামো গড়ে তোলাই দেশের চলমান সমস্যাগুলো অতিক্রমের একমাত্র পথ। তার দল গৃহে গৃহে ঘুরে এই বার্তাটি প্রচার করছে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি আলাপ চালাচ্ছে।

উভয় প্রার্থীর দলই গৃহে গৃহে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করছে। সায়েদের ক্যাম্পেইন বেশি করে যুবকেন্দ্রিক উন্নয়ন ও প্রযুক্তি প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেয়, যেখানে হেলালির বার্তা ন্যায়বিচার ও সৎ শাসনের ওপর ভিত্তি করে।

স্থানীয় বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, চট্টগ্রাম-১০ আসনে ভোটারদের পছন্দ দুই প্রার্থীর নীতি ও প্রতিশ্রুতির মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করবে। উভয় প্রার্থীই গৃহে গৃহে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সমর্থন বাড়াতে চাচ্ছেন।

এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক দৃশ্যপটেও প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ চট্টগ্রাম-১০ একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা। বিজয়ী প্রার্থী যদি তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়, তবে তা স্থানীয় উন্নয়ন ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।

অবশেষে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চট্টগ্রাম-১০ আসনে উভয় দলই শেষ প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। ভোটারদের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে, কোন প্রার্থী তাদের প্রত্যাশিত উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারের দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়ন করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments