19.8 C
Dhaka
Saturday, February 7, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিইনকিলাব মঞ্চের ধ্বংসে পুলিশ লাঠি ও গ্যাস ব্যবহার, জাতীয় নাগরিক দলের নেতার...

ইনকিলাব মঞ্চের ধ্বংসে পুলিশ লাঠি ও গ্যাস ব্যবহার, জাতীয় নাগরিক দলের নেতার অভিযোগ

গত শুক্রবার, ঢাকা শহীদ মিনারের কাছাকাছি ইনকিলাব মঞ্চের একটি সমাবেশে পুলিশ লাঠি, সাউন্ড গ্রেনেড এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে উপস্থিত নেতা‑কর্মীদের ওপর আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছিল এবং এতে কয়েকজন অংশগ্রহণকারী আহত হন। জাতীয় নাগরিক দলের ঢাকা‑৮ আসনের পার্টি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঘটনাটিকে সরকারের নির্বাচনী পরিকল্পনা চালানোর উদ্দেশ্যে করা একটি সহিংসতা হিসেবে চিহ্নিত করেন।

ইনকিলাব মঞ্চের সমাবেশটি ‘র‍্যালি ফর বাংলাদেশ’ শিরোনামে আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে ভারতীয় হস্তক্ষেপ, আইসিসি‑তে ভারতের আধিপত্য এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের চারপাশে গঠিত ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ করা হয়। সমাবেশের মূল দাবি ছিল ওসমান হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা বা জাতিসংঘের মাধ্যমে ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করা। সমাবেশের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের, ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য রিয়াদুস জুবাহ এবং ‘জুলাই ঐক্য’ সংগঠক ইসরাফিল ফরাজীসহ বহু রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মী ছিলেন।

সমাবেশের সময়, পুলিশ উপস্থিতি বাড়িয়ে লাঠি, সাউন্ড গ্রেনেড এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার করে অংশগ্রহণকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। নিরাপত্তা বাহিনীর এই পদক্ষেপে সমাবেশের বেশ কয়েকজন উপস্থিতি আহত হন, যার মধ্যে কিছুজনকে জরুরি সেবা প্রদান করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে তরুণ কর্মী ও মহিলা অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, তবে সঠিক সংখ্যা এখনও প্রকাশিত হয়নি।

আহতদের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সমাবেশের পরে ‘জুলাই ঐক্য’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সরকারের ওপর সরাসরি দায় আরোপ করেন। তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনের পূর্বে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে হিংসা ব্যবহার করে জনমতকে দমিয়ে রাখতে চেয়েছে এবং এই ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। পাটওয়ারী আরও উল্লেখ করেন, হাদি হত্যার তদন্তে আন্তর্জাতিক সংস্থা বা জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত ফলাফল নিশ্চিত করা উচিত।

জাতীয় নাগরিক দলের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকারকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্তের ফলাফল জানাতে হবে এবং আহতদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। দলটি দাবি করে যে, কিছু সরকারি কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক কর্মী অতিরিক্ত উত্সাহে গুলি ও গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি আরও খারাপ করে তুলেছেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দলটি আইনগত পদক্ষেপের সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, সমাবেশের সময় অশান্তি সৃষ্টি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তারা উল্লেখ করেন, কোনো অবৈধ কার্যকলাপের প্রতিক্রিয়ায় গ্যাস ও লাঠি ব্যবহার করা হয়েছে এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

ইনকিলাব মঞ্চের সমাবেশটি ভারতীয় হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে জাতীয় স্তরে গৃহীত একটি বৃহৎ প্রতিবাদ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। পূর্বে একই সংগঠন ‘র‍্যালি ফর বাংলাদেশ’ শিরোনামে বিভিন্ন শহরে সমাবেশ করে সরকারকে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এই ধারাবাহিকতা দেখায় যে, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নির্বাচনী পরিবেশে বিরোধী দলগুলোর প্রতিবাদ ক্রমশ তীব্রতর হচ্ছে।

আহতদের চিকিৎসা ও তদন্তের দাবি ছাড়াও, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক পাঠানোর পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, যদি সরকার স্বেচ্ছায় তদন্ত না করে তবে আদালতে মামলা দায়ের করা হবে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার হস্তক্ষেপের জন্য আবেদন করা হবে।

এই ঘটনার পর, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে, ইনকিলাব মঞ্চের ওপর এই ধরনের হিংসাত্মক পদক্ষেপ নির্বাচনী সময়ে বিরোধী দলের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দুর্বল করতে পারে। তবে একই সঙ্গে, সরকারের উপর চাপ বাড়বে যাতে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানবাধিকার রক্ষার দায়িত্ব পালন করে। ভবিষ্যতে নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা এবং রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে সংঘাত কমানোর চেষ্টা করা সম্ভব হতে পারে।

সারসংক্ষেপে, ইনকিলাব মঞ্চের সমাবেশে পুলিশের হিংসাত্মক হস্তক্ষেপের ফলে আহতের সংখ্যা বাড়লেও, জাতীয় নাগরিক দলের নেতারা সরকারের ওপর নির্বাচনী পরিকল্পনা চালানোর অভিযোগ তুলে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এই দাবি এবং সরকারের প্রতিক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশল ও অবস্থানকে প্রভাবিত করবে।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments