ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল ও নেপাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সি গ্রুপের ম্যাচে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হবে। ম্যাচটি রবিবার, বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টা ৩০ মিনিটে ভারতের মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে। দু’দলই এই টুর্নামেন্টে জয় দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে চায়, যেখানে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের লক্ষ্য জয় নিশ্চিত করা, আর নেপালের লক্ষ্য বড় দলকে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করা।
ইংল্যান্ডের জন্য নেপালের সঙ্গে প্রথম মুখোমুখি হওয়া একটি নতুন চ্যালেঞ্জ। দলটি এই প্রথম সাক্ষাতে সতর্কতা অবলম্বন করেছে। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক টিমের সদস্যদের সতর্কতা জানিয়ে দিয়েছেন, যাতে তারা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে প্রস্তুত থাকে। ব্রুকের এই সতর্কতা দলের মনোভাবকে সজাগ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইংল্যান্ডের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ফিল সল্টের ফিটনেস। নেপালের বিরুদ্ধে খেলার আগে সল্টের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কিছু উদ্বেগ ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তিনি সম্পূর্ণ ফিট হয়ে দলের সঙ্গে খেলতে প্রস্তুত হয়েছেন। সল্টকে একাদশ খেলোয়াড় হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, এবং তিনি উইকেটরক্ষক জশ বাটলারের সঙ্গে ইনিংসের শুরুর দায়িত্ব নেবেন। এই সংযোজন ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপকে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নেপাল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তৃতীয়বার অংশ নিচ্ছে। দলটি পূর্বে ২০১৪ ও ২০২৪ সালে এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছিল। প্রথম উপস্থিতিতে তারা তিনটি ম্যাচে দুইটি জয় এবং একটি হারে শেষ করেছিল, আর পূর্বের এডিশনে চারটি ম্যাচের মধ্যে তিনটি হার এবং একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছিল। এই অভিজ্ঞতা নেপালকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও দৃঢ় করে তুলেছে।
দ্বিতীয় উপস্থিতিতে নেপাল কোনো জয় অর্জন করতে পারেনি, ফলে এইবার তারা জয় অর্জনের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অধিনায়ক রোহিত পাউডেল দলের প্রস্তুতি ও মনোভাব সম্পর্কে মন্তব্য করে বলেন, “আগের এডিশনে আমরা ভাল পারফরম্যান্স দিতে পারিনি। এবার আমরা ভাল ক্রিকেট খেলতে চাই এবং বিশ্বকাপ শেষ পর্যন্ত সাফল্য অর্জন করতে চাই। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপে চমক দেখাতে চাই পুরো দল। কাজটি কঠিন হলেও আমাদের চেষ্টার কমতি থাকবে না।” এই বক্তব্য নেপালের আক্রমণাত্মক মনোভাবকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।
ইংল্যান্ডের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফিল সল্টের ফিটনেস নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি জশ বাটলারের সঙ্গে শুরুর ব্যাটিং জোড়া গঠন করবেন। উভয়ের সংমিশ্রণ টিমের স্কোরিং ক্ষমতা বাড়াবে বলে বিশ্লেষকরা আশা করছেন। অন্যদিকে নেপাল তাদের পূর্বের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে কৌশলগতভাবে খেলতে চায়, যাতে তারা বড় দলকে চমকে দিতে পারে।
মুম্বাইয়ের এই ম্যাচটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সি গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ, যেখানে দু’দলই গ্রুপের শীর্ষস্থান অর্জনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ম্যাচের ফলাফল গ্রুপের পরবর্তী রাউন্ডে দলগুলোর অবস্থান নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে। উভয় দলের ফ্যানদের জন্য এই প্রথম সাক্ষাৎ উত্তেজনা ও প্রত্যাশা নিয়ে এসেছে।
ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল ও নেপালের এই প্রথম মুখোমুখি ম্যাচটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় যোগ করবে। উভয় দলই তাদের শক্তি ও কৌশল প্রদর্শন করে গ্রুপে অগ্রগতি করার লক্ষ্য রাখবে। ম্যাচের ফলাফল যাই হোক না কেন, এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



