ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক, নিউজিল্যান্ড সফরের সময় ঘটিত নাইটক্লাব বিতর্ককে পেছনে ফেলে দলকে সামনে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই ঘটনা এখনও তার ওপর প্রশ্ন তুলছে, বিশেষ করে বিশ্বকাপের শুরুর মুহূর্তে।
গত বছরের ৩১ অক্টোবর, তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচের আগে, ব্রুক অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় একটি নাইটক্লাবে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্লাবের বাউন্সার তাকে ঘুষির আঘাতে আহত করেন, যা তার শারীরিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে।
ঘটনার পরপরই ব্রুক দলের অভ্যন্তরে বিষয়টি জানিয়ে দেন, তবে মিডিয়ায় প্রকাশ পেতে দুই মাসের দেরি হয়। অ্যাশেজ সিরিজের শেষের দিকে একটি সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হলে ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) ঘটনাটির শাস্তি হিসেবে ব্রুককে ৩০,০০০ পাউন্ড জরিমানা করে, যা তাদের নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি। জরিমানার পাশাপাশি অধিনায়কত্ব নিয়ে পুনর্বিবেচনা করা হয়।
ইসিবি কর্তৃক ক্যাপ্টেনশিপ থেকে বাদ দেওয়ার সম্ভাবনা ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত ব্রুককে সতর্কবার্তা দিয়ে তার দায়িত্বে ফিরে আসতে অনুমতি দেয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পেছনে তার পূর্বের পারফরম্যান্স এবং দলের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করা হয়েছে।
ব্রুক এই ঘটনার পর অধিনায়ক হিসেবে তার দায়িত্বকে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন। তিনি বলেন, নেতৃত্ব কেবল মাঠের সিদ্ধান্তেই সীমাবদ্ধ নয়, মাঠের বাইরে দলের সঠিক পথে পরিচালনা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল এখন ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ব্রুকের নেতৃত্বে দলটি রোববার ওয়াংখেদে নেপালের বিপক্ষে খেলা দিয়ে বিশ্বকাপের অভিযান শুরু করবে।
প্রথম ম্যাচের পর দলটি গ্রুপে স্কটল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে মুখোমুখি হবে। এই তিনটি দলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ইংল্যান্ডের অগ্রগতি নির্ধারিত হবে।
বিশ্বকাপের আগে ব্রুক বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঘটনাটিকে তার জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অতীতকে আঁকড়ে না রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়া তার মূল লক্ষ্য।
ব্রুক বলেন, “এটি নিঃসন্দেহে ভয়ানক অভিজ্ঞতা ছিল। আমি চাইতাম এমন কিছু কখনো না ঘটুক, তবে ঘটেই গেছে, তাই আমাদের সামনে এগোতে হবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, সময়ের সঙ্গে এই বিষয়টি পেছনে সরে যাবে।
অধিনায়ক হিসেবে তার দায়িত্বের ব্যাপারে ব্রুক আরও জানান, নেতৃত্বের মানে শুধু মাঠের কৌশল নয়, মাঠের বাইরেও দলের সঠিক পথে পরিচালনা করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অধিনায়কত্বে দায়িত্বের মাত্রা বাড়ে।
ব্রুকের মতে, নেতৃত্বকে হালকাভাবে নেওয়া যায় না। মাঠের ভিতরে ও বাইরে উভয় ক্ষেত্রেই উদাহরণ স্থাপন করতে হয়, এবং সব সময় সতর্ক থাকতে হয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের ভিত্তি গড়ে তুলবে।
নাইটক্লাব ঘটনার পর থেকে ব্রুকের মনোভাব স্পষ্ট: অতীতকে পেছনে ফেলে বর্তমানের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা। তিনি দলের জন্য ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চান।
ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল এখন নতুন দৃষ্টিকোণ নিয়ে বিশ্বকাপের পথে অগ্রসর, এবং ব্রুকের নেতৃত্বে দলটি সাফল্যের লক্ষ্যে অগ্রসর হবে।



