জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে, ইলেকশন অবজারভার সোসাইটি (ইওএস) ইসির কাছে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের মতোই সুবিধা প্রদান করার আহ্বান জানায়। সংস্থাটি দাবি করে যে, পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে নিরপেক্ষ ও কার্যকর পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
ইওএসের দাবি শনিবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়। সেখানে সংস্থার প্রতিনিধিরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের নিয়োজিত পর্যবেক্ষকদের থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও নির্বাচনপূর্ব পরিবেশ সংক্রান্ত উপাত্ত তুলে ধরেন।
সংগঠন অনুসারে, দেশের মোট প্রায় ৪২,০০০ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬,৯৯৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ সংখ্যার মধ্যে ঢাকা জেলায় মাত্র ১০৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত। এই তথ্যগুলো নির্বাচনের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
ইওএস উল্লেখ করে, অধিকাংশ ভোটার ভোটাধিকার ব্যবহার করতে ইচ্ছুক, তবে বিভিন্ন প্রচারণা ও গুজবের কারণে নির্বাচনের প্রতি কিছুটা সংশয় রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে সংস্থা জোর দেয়।
পর্যবেক্ষকদের প্রশিক্ষণ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং এবার প্রথমবার সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে কোনো আর্থিক সহায়তা ছাড়া কাজ করতে যাচ্ছেন। এদিকে, সংস্থা সরকারের কাছ থেকে তিন দিনের ন্যূনতম খাবার ও যাতায়াত ব্যয়ের জন্য কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ জানায়।
ইওএসের ৫৫,০০০ পর্যবেক্ষকের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয়কে সরকারী দপ্তরগুলোর বিশাল ব্যয়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়। যদিও নির্বাচনের জন্য সরকার বিশাল অর্থ ব্যয় করে, তবু পর্যবেক্ষকদের মৌলিক খরচের জন্য কোনো তহবিল সরবরাহ করা হয়নি।
সংগঠন একাধিকবার সহায়তার আবেদন জানিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাননি। এ বিষয়ে তারা সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে, সরকারের অমনোযোগ তাদের কাজের ধারাবাহিকতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
ইওএসের নেতারা জানান, কমিশনের সামনে অর্ধদিবস মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা সত্ত্বেও, কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত হয়নি এবং স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়নি। অন্যদিকে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর সঙ্গে কমিশনের ধারাবাহিক বৈঠক চলছে।
এই পার্থক্যকে কেন্দ্র করে পর্যবেক্ষকরা এক পর্যায়ে পুরো দলিল প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে দেশের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ও নাগরিক স্বার্থের কথা বিবেচনা করে, শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার বাস্তবায়িত হয়নি।
পর্যবেক্ষক পরিচয়পত্র বিতরণ প্রক্রিয়াতেও অসুবিধা দেখা দেয়। অনলাইন ও অফলাইন পদ্ধতির মধ্যে বারবার পরিবর্তনের ফলে পর্যবেক্ষকরা চরম কষ্টের সম্মুখীন হন। শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচয়পত্র জারি করা হলেও, প্রক্রিয়ার অস্থিরতা তাদের কাজকে প্রভাবিত করেছে।
ইওএসের দাবি অনুযায়ী, পর্যবেক্ষকদের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত না হলে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। সংস্থা সরকারকে অনুরোধ করে, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের মতোই স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের জন্য খাবার, যাতায়াত ও পরিচয়পত্রের ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন করতে।
সংগঠন আরও জানায়, ভবিষ্যতে নির্বাচনের প্রস্তুতি ও পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ায় সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে সকল পর্যবেক্ষকের কাজ সহজতর করা সম্ভব হবে। এ ধরনের সমন্বয় নির্বাচনের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করবে।
ইসির পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। তবে সংস্থার দাবিগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



