বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১২ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে শেষ নির্বাচনী সভা পরিচালনা করেন। তিনি বহু বছর পর নানিবাড়ি এলাকার কবরস্থানে গিয়ে উপস্থিত সমর্থকদের সামনে তার স্বাস্থ্যের উন্নতি ও নির্বাচনী পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সভায় তারেক রহমান জানান, তিনি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছেন এবং দীর্ঘ সময়ের পর নানিবাড়িতে ফিরে এসেছেন। তিনি নিজের নাতি সম্পর্কে কথা বলে, নাতির স্বাগত জানাতে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন।
সমর্থকরা ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলে, তিনি জিজ্ঞেস করেন, “কিসে ভোট দিবেন?” এই প্রশ্নের মাধ্যমে তিনি ভোটারদের সচেতনতা ও দায়িত্বের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।
সাময়িকভাবে উপস্থিত থাকা খালেদা জিয়ার পরিবারিক পটভূমি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্যও শেয়ার করা হয়। খালেদা জিয়া, যিনি পূর্বে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন ছিলেন, তার পিতা ইস্কান্দার মজুমদার ফেনীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং পরে জলপাইগুড়িতে বসবাস করেন। পরিবারটি দেশভাগের পর দিনাজপুরে স্থানান্তরিত হয়।
তারা বলেন, দিনাজপুরের কৃষি সম্পদ দেশের সর্বত্র স্বীকৃত, বিশেষ করে লিচু ও ধানের উৎপাদনে। তাই এই অঞ্চলের কৃষি ভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তিনি জোর দিয়ে বলেন।
লিচু উৎপাদনের পরিমাণ দেশব্যাপী উচ্চ, তবে প্রক্রিয়াকরণ ও রপ্তানির ব্যবস্থা এখনো সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হয়নি। তারেক রহমানের মতে, যদি ১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হয়, তবে লিচু প্রক্রিয়াকরণ কারখানা গড়ে তোলা এবং তা হিমাগারে সংরক্ষণ করে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
ধানের ক্ষেত্রেও একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, দিনাজপুরের কাটারিভোগ চাল বিশ্ববাজারে পরিচিত, এবং ভবিষ্যতে এই চালকে আন্তর্জাতিক রপ্তানির মাধ্যমে দেশের মুদ্রা আয় বাড়ানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
তবে তিনি স্বীকার করেন, শুধুমাত্র শিল্প ও রপ্তানি নয়, যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিও জরুরি। তিনি বলেন, এই অঞ্চলে অনেক তরুণ ও যুবক রয়েছে, তবে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগের অভাব রয়েছে।
এজন্য তিনি বিভিন্ন ভোকেশনাল ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, যাতে স্থানীয় যুবকরা দক্ষতা অর্জন করে স্বনির্ভর হতে পারে।
বিএনপি নেতৃত্বের এই পরিকল্পনা সম্পর্কে আওয়ামী লীগ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে নির্বাচনের আগে বিরোধী দল সাধারণত সরকারের নীতি ও পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকে।
সামগ্রিকভাবে, তারেক রহমানের বক্তৃতা নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে বিএনপির কৃষি-ভিত্তিক উন্নয়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং যুব প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছে, যা ভোটারদের কাছে তার পার্টির দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করতে সহায়তা করবে।



