বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মিরপুর ক্যাম্পের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম ফুয়াদ মাসরু রা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঢাকা-১৪ ও ১৬ আসনের বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই ঘোষণাটি নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নের ধারাবাহিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে করা হয়েছে।
মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে শনিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়ে দেন যে, ঢাকা-১৪, ১৬ ও ১৮ আসনের মোট ভোটকেন্দ্রের ১৮ শতাংশকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ঢাকা-১৪ ও ১৬ আসনের ভোটকেন্দ্রগুলোকে বিশেষভাবে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে আলাদা করা হয়েছে।
বিবরণে তিনি উল্লেখ করেন যে, ভোটকেন্দ্রের তালিকাকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে; সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং অতি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এই বিভাগগুলো নির্বাচনী সময়ে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বা অন্য কোনো ধরণের হুমকি মোকাবিলার জন্য নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা নির্ধারণে সহায়তা করবে।
কম্যান্ডার মাসরু রা সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান যে, নির্বাচনী সময়ে কোনো তথ্য প্রচারের আগে তা প্রাথমিকভাবে যাচাই করা আবশ্যক, যাতে ভুল বা উসকানিমূলক সংবাদ জনমতকে প্রভাবিত না করে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করা এবং গুজবের বিস্তার রোধ করা নিরাপত্তা বজায় রাখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
এছাড়াও তিনি নিশ্চিত করেন যে, নির্বাচনের সময় প্রার্থীদের পাশাপাশি গণমাধ্যম কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিরাপত্তা দলগুলো ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে পর্যবেক্ষণ বাড়াবে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত হস্তক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকবে।
মিরপুর ক্যাম্পের কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন যে, যদি কোনো স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি দেখা দেয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জানাতে হবে। এই নির্দেশনা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষের সহযোগিতা চায়।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়বে এবং সম্ভাব্য হুমকি সনাক্ত করে সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। তবে কিছু বিশ্লেষক ইঙ্গিত করেন যে, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়াতে অতিরিক্ত সম্পদ ও মানবশক্তি প্রয়োজন হতে পারে।
অবশেষে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এই ধরণের ঝুঁকি মূল্যায়নকে ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে নির্বাচনী পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ রাখতে কাজ করবে। এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করা কোনো অনধিকারিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা কমিয়ে আনতে সহায়তা করবে।



