ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে দুই দিনের সরকারি সফর শুরু করেন। সফরের মূল লক্ষ্য আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করা। সফরটি মালয়েশিয়া ও ভারতের সম্প্রসারিত কৌশলগত অংশীদারিত্বের পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং দেশের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে মোদিকে উষ্ণ স্বাগত জানিয়ে তার আগমনকে স্বীকৃতি দেন। উভয় নেতাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা ভারতীয় ও মালয়েশিয়ান পতাকা হাতে তুলে দিল এবং লাল গালিচায় শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠানকে রঙিন করে তুলেছিল।
অবতরণে পরবর্তী গন্তব্য ছিল সরকারি হোটেল, তবে হোটেলে যাওয়ার আগে দুজন নেতাকে একই গাড়িতে করে বিমানবন্দরের গেটের সামনে একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান করা হয়। সেখানে উপস্থিত মালয়েশিয়ান ও ভারতীয় প্রতিনিধিরা উভয় দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে পতাকা উড়িয়ে দেখালেন এবং উষ্ণ আলাপচারিতা চালিয়ে গেলেন।
গত বছরের আগস্টে দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে একটি বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করার ঘোষণা দেয়। এই আপগ্রেডের পর থেকে, মোদির মালয়েশিয়ায় সফরটি তার তৃতীয় সরকারি সফর এবং অংশীদারিত্বের পর প্রথম সফর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই পটভূমি দুই দেশের সহযোগিতার পরিসরকে নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
মালয়েশিয়ার সরকারী সূত্রগুলো সফরের গুরুত্বকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেছে। আনোয়ার ইব্রাহিমের দল সফরের মাধ্যমে উভয় দেশের শিল্প, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগের সূচনা আশা প্রকাশ করেছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
দুই দিনের সময়সূচিতে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় অন্তর্ভুক্ত। বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং মহাকাশ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নতুন প্রকল্পের সূচনা প্রত্যাশিত। এই চুক্তিগুলো উভয় দেশের অর্থনৈতিক মঞ্চকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোকে সমর্থন করবে।
মোদি সফরের শেষের দিকে উল্লেখ করেন যে, এই সফরে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা গভীর করা, অর্থনৈতিক ও উদ্ভাবনী অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করা এবং নতুন ক্ষেত্রের সহযোগিতা প্রসারিত করা হবে। তিনি দু’দেশের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখার লক্ষ্যের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে, এই সফরের ফলস্বরূপ স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো ভারত-মালয়েশিয়া বাণিজ্যিক পরিমাণে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটাবে এবং দু’দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক প্রযুক্তি বিনিময়কে ত্বরান্বিত করবে। এছাড়া, কৌশলগত অংশীদারিত্বের অধীনে গৃহীত নীতিগুলো দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোকে সমর্থন করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
মোদি এবং আনোয়ার ইব্রাহিমের সাক্ষাৎ শেষের দিকে দুই দিনের সমাপ্তি চিহ্নিত করে, যেখানে উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও নিয়মিত উচ্চ পর্যায়ের সংলাপের প্রতিশ্রুতি দেয়। সফরের পর ভারতীয় দল মালয়েশিয়ার রাজধানী থেকে প্রস্থান করে, তবে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা এই সফরের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।



