সিলেট জেলা নির্বাচন অফিসে ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্থানীয় বিএনপি নেতারা আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটকেন্দ্র দখলের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা উল্লেখ করেন, কিছু এলাকায় নির্বাচনী কর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীর অনুপস্থিতি ভোটারদের অধিকার হরণে পরিণত হতে পারে।
বিএনপি নেতারা চারটি পদ্ধতি উল্লেখ করে ভোটকেন্দ্রের সঠিক তথ্য সংগ্রহের উপায় ব্যাখ্যা করেন। প্রথমে, নির্বাচনী কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে তালিকা যাচাই করা; দ্বিতীয়ে, স্থানীয় গ্রাম পরিষদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ; তৃতীয়ে, ভোটার তালিকায় নামের অবস্থান দেখে ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ; চতুর্থে, স্বেচ্ছাসেবী দলকে নিয়োগ করে সরাসরি 현장 পরিদর্শন করা।
বৈঠকে উপস্থিত নেতারা উল্লেখ করেন, যদি কোনো ভোটকেন্দ্র দখল করা হয় বা অনুপস্থিত থাকে, তবে ভোটারদেরকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরত্বে থাকা বিকল্প কেন্দ্র পর্যন্ত হাঁটতে হতে পারে। এই পরিস্থিতি গ্রামীণ ভোটারদের জন্য বিশেষ করে কঠিন, কারণ অনেকেরই গাড়ি বা পাবলিক ট্রান্সপোর্টের সুবিধা নেই।
বিএনপি নেতারা বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিতে। তারা দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনকে সকল ভোটকেন্দ্রের সঠিক অবস্থান ও সেবা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভোটারদের কোনো বাধা না হয়।
বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, কিছু এলাকায় ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে অপ্রয়োজনীয় গঠনমূলক কাজ চলছে, যা ভোটার প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া, কিছু স্থানীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের কথা উল্লেখ করে সতর্কতা প্রকাশ করা হয়।
বিএনপি নেতারা জোর দিয়ে বলেন, যদি ভোটকেন্দ্র দখল বা বন্ধ হয়ে যায়, তবে তা নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তারা ভোটারদের সচেতনতা বাড়াতে তথ্য প্রচার ও সহায়তা কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা উল্লেখ করেন, “যদি ভোটকেন্দ্র দখল হয়, তবে ভোটারদেরকে ২০ কিলোমিটার পথ হাঁটতে হবে, যা তাদের জন্য শারীরিক ও আর্থিকভাবে বড় বোঝা।” তিনি এ কথা বলার সময় স্থানীয় ভোটারদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন।
বিএনপি নেতারা এছাড়াও উল্লেখ করেন, ভোটকেন্দ্রের তথ্যের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্থানীয় মিডিয়া ও সামাজিক নেটওয়ার্কের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তারা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ভোটকেন্দ্রের ঠিকানা ও সময়সূচি আপডেট করার আহ্বান জানান।
বৈঠকের শেষে, বিএনপি নেতারা নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ করেন, যে কোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থা করতে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে। তারা দাবি করেন, ভোটকেন্দ্র দখল বা বাধা দেওয়া হলে তা অবিলম্বে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হবে।
বিএনপি নেতাদের এই সতর্কতা সিলেটের অন্যান্য রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দৃষ্টিতে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কিছু স্থানীয় নেতা বলছেন, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা উচিত, যাতে কোনো দলই একতরফা পদক্ষেপ নিতে না পারে।
বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, যদি ভোটকেন্দ্র দখল বা বন্ধ হওয়ার ঘটনা বাস্তবে ঘটে, তবে তা নির্বাচনের ফলাফলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, গ্রামীণ ভোটারদের ভোটদানের হার কমে যাওয়া সম্ভব, যা বড় রাজনৈতিক পার্টিগুলোর জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে।
বিএনপি নেতাদের এই দাবি ও সতর্কতা নির্বাচনের পূর্বে রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। তারা আশা করেন, বাংলাদেশ সরকার ও নির্বাচন কমিশন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ভোটকেন্দ্রের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন, যাতে সকল ভোটার স্বাধীনভাবে তাদের ভোট দিতে পারেন।



