ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াত-এ-ইসলামির আমির, ৭ই আগস্ট মৌলভীবাজারের কুলাউড়া গ্রাম এলাকায় অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক নির্বাচনী জনসভার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে দেশের শিল্প‑অর্থনীতির উন্নয়ন ও দুর্নীতি নির্মূলের গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি জেলা জামায়াতের আয়োজনে দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় নেতারা ও বিশাল সংখ্যক ভোটার সমাবেশিত ছিলেন।
ডা. শফিকুরের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং শিল্প‑অর্থনীতিকে নতুন গতিতে এগিয়ে নিতে দুর্নীতি দূর করা অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ব দ্রুত পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশও পিছিয়ে না থেকে উন্নয়নের পথে অগ্রসর হতে হবে।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, জামায়াত-এ-ইসলামি সরকার ক্ষমতায় আসলে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানের সুবিধা প্রদান করা হবে। এ নিয়ে তিনি জোর দেন, বিমানবন্দরের প্রকৃত পরিচয় দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হবে না এবং এ প্রকল্পটি দেশের বাণিজ্যিক সংযোগ বাড়াবে।
ডা. শফিকুর ৫ আগস্টের স্মরণীয় দিনকে উল্লেখ করে বলেন, যারা স্বাধীনতার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি জাতি চিরকাল কৃতজ্ঞ থাকবে। তিনি কুলাউড়ার প্রাকৃতিক দৃশ্যের প্রশংসা করে বলেন, পাহাড়, সমতল ভূমি, নদী‑নালা একত্রে আল্লাহর বিশাল দান, যা অঞ্চলকে অনন্য করে তুলেছে।
চা শিল্পের কর্মীদের প্রতি তার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা প্রকাশ পায়। তিনি কুলাউড়া ও মৌলভীবাজারকে চায়ের রাজধানী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, চা শ্রমিকদের অবহেলা করলে নিজেকে ভুলে যাওয়া হবে। তাদের সন্তানদের জন্য সুস্বাস্থ্য ও শিক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রীসহ উচ্চ পদে পৌঁছাতে পারে।
জনসভায় ডা. শফিকুর জানান, কুলাউড়া তার জন্মভূমি এবং এখানে বহুবার উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ার সায়েদ আলীকে ভোট দিলে নিজেও ভোট পেয়ে যাবে। মূল এমপি হিসেবে সায়েদ আলী এবং ছায়া এমপি হিসেবে তিনি নিজেকে স্থাপন করেছেন।
সমাবেশে জামায়াত-এ-ইসলামির মৌলভীবাজার‑১ (জুড়ী‑বড়লেখা) ও মৌলভীবাজার‑২ (কুলাউড়া) আসনের মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় এবং তাদের পক্ষে ভোট চাওয়া হয়। ইঞ্জিনিয়ার সায়েদ আলীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ইয়ামির আলীর সঞ্চালনায় সভা পরিচালিত হয়।
সভায় দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও বিশাল জনসমাগম উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতির সংখ্যা ও উত্সাহের ভিত্তিতে জামায়াত-এ-ইসলামি এই অঞ্চলে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
ডা. শফিকুরের বক্তব্যের ভিত্তিতে আগামী নির্বাচনে জামায়াত-এ-ইসলামির কৌশলগত পদক্ষেপগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দুর্নীতি নির্মূল, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং চা শ্রমিকদের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে দলটি ভোটারদের কাছ থেকে সমর্থন অর্জনের পরিকল্পনা করেছে। যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তবে কুলাউড়া ও সমগ্র মৌলভীবাজারে অর্থনৈতিক গতিবিধি ত্বরান্বিত হতে পারে এবং দেশের সামগ্রিক শিল্প‑অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এছাড়া, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পূর্ণাঙ্গ রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দেশের বাণিজ্যিক সংযোগ ও পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ধরণের অবকাঠামো প্রকল্পের সফলতা জামায়াত-এ-ইসলামির রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে তাদের ভোটার বেসকে বিস্তৃত করতে সহায়তা করবে।
সামগ্রিকভাবে, ডা. শফিকুরের জনসভায় উত্থাপিত বিষয়গুলো কুলাউড়া ও মৌলভীবাজারের উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, এবং জামায়াত-এ-ইসলামির নির্বাচনী কৌশলকে নতুন দিক নির্দেশনা দেয়। এই মুহূর্তে দলটি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সংলাপ বাড়িয়ে, অবকাঠামো ও সামাজিক কল্যাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে।



