শুক্রবার বিকেলে যশোর শহরের দড়াটানা ভৈরব চত্বরে অনুষ্ঠিত ১১‑দলীয় জোটের নির্বাচনী র্যালিতে জাতীয় নাগরিক দলের দক্ষিণাঞ্চলীয় সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। তিনি সমাবেশে আওয়ামী লীগ‑নিয়ন্ত্রিত পুলিশকে ‘নগ্নরূপে’ ফিরে যাওয়ার অভিযোগ তুলে তীব্র সমালোচনা করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ র্যালির প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিয়ে পুলিশকে তাদের নৈতিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, পুলিশকে কেবলজনের ন্যায়বিচার বজায় রাখতে হবে, কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে নয়, এবং জুলাই মাসে দেখা কিছু ঘটনা এই দায়িত্বের লঙ্ঘন নির্দেশ করে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুলিশ বেতন ট্যাক্সের টাকায় আসে, কোনো দলের তহবিলে নয়। যদি পুলিশ কোনো দলকে ক্ষমতায় আনতে সহায়তা করে, তবে ভবিষ্যতে তাদের সন্তানদের চাকরির জন্য সেই দলের ঘুষ দিতে হতে পারে, এ কথা তিনি আল্লাহর কসমের সঙ্গে জোর দিয়ে বলেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ সকল পুলিশকে বাংলাদেশের সেবক হিসেবে কাজ করতে আহ্বান জানান, এবং বিশেষ করে বিএনপি, জামায়াত-এ-ইসলামি ও জাতীয় নাগরিক দলের সঙ্গে কোনো পক্ষপাতিত্ব না করার পরামর্শ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই তিনটি দলই প্রায়শই পুলিশকে তাদের স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করে।
র্যালিতে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের জন্য তিনি সময়সূচি নির্ধারণ করেন। তিনি বলেন, সকালের সাতটায় অর্ধ ঘন্টার আগে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে, ফলাফল ঘোষণার পরই ত্যাগ করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, একটি রাজনৈতিক দল কেন্দ্র দখলের ষড়যন্ত্র করছে, তাই সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার।
ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির সদস্যদেরও একই নির্দেশনা দেন। তিনি বলছেন, তারা সকাল সাড়ে সাতটায় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে অবস্থান করবে এবং ফলাফল ঘোষণার পরই বেরিয়ে যাবে, যাতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ থাকে।
বিএনপি নেতাদের সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন, অনেক নেতা চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি চায়, তবে আদেশ দিলে তাদের কর্মীদের তা বাস্তবায়ন করতে হয়। তিনি অতীতের ১৭ বছর ধরে বিএনপি নেতাদের নির্যাতন ও গুম হওয়ার কথা উল্লেখ করে, এখন ‘হাইব্রিড’ বিএনপি মূল নেতাদের কোণার দিকে ঠেলে দিয়েছে, এ কথা বলেন।
হাসনাত বলেন, এই নেতারা ‘ধানের শীষের বিপরীতে’ দাঁড়িয়ে ভোটের জন্য ‘দাঁড়িপাল্লা‑শাপলা’ স্থানে অপেক্ষা করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তারা ধানের শীষের মিছিল নিয়ে কেন্দ্রের দিকে যাবে, তবে ভোট অন্য স্থানে দেবেন, যা তিনি ‘দাঁড়িপাল্লা‑শাপলা’ কৌশল বলে ব্যাখ্যা করেন।
র্যালিতে জামায়াত-এ-ইসলামির যশোর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী আবদুল কাদের বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া জাতীয় নাগরিক দলের দক্ষিণাঞ্চলীয় সংগঠক শাকিব শাহরিয়ার এবং অন্যান্য দলের নেতারা সমাবেশে অংশ নেন।
এই সমাবেশের পর আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা অন্যান্য জোটের কোনো পক্ষ থেকে তাত্ক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ বিভাগের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশিত হয়নি।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এমন প্রকাশনা নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে আলোচনা বাড়াতে পারে। যদি পুলিশকে কোনো দলীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়, তবে তা ভোটারদের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে।
ইলেকশন কমিশন যশোরে শীঘ্রই ভোটের সূচি প্রকাশ করবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করবে, যাতে র্যালিতে উত্থাপিত উদ্বেগগুলো যথাযথভাবে সমাধান হয়।



